যে খবর নাড়া দেয়- আপনিও হতে পারেন শিরোনাম

নিলু পাঠানের বুকে ব্যথা উঠেছিল। গাজীপুরের এই ব্যবসায়ীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে আসছিলেন তাঁর স্ত্রী ও ছেলে। উত্তরার একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর নিলু পাঠানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তখন তাঁকে সেখান থেকে মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।


নিলু হয়তো হূদেরাগেই মারা যেতেন। অথবা চিকিৎসার পর বেঁচে উঠতেন। কিন্তু তাঁকে সে সুযোগ দেওয়া হলো না। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকেই তাঁর জীবন-নাটকের ট্র্যাজিক অধ্যায়ের শুরু। বুধবার ভোরেই যবনিকাপাত। হাসপাতালে নয়, তাঁর মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। ভোর রাতের ফাঁকা রাস্তায় নম্বরপ্লেটবিহীন এক ট্রাকের চালক অবলীলায় তাঁকে বহন করা অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে দেন। ফলাফল: নিলু পাঠান, তাঁর স্ত্রী ফারজানা পাঠান ও অ্যাম্বুলেন্সের চালক আনছারের মৃত্যু। পাঠান পরিবারের সন্তান নাবিল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
পালিয়ে যাওয়া ট্রাকচালক কি জানেন, দুটি পরিবারের জীবন গুঁড়িয়ে দিলেন তিনি? দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটির দিকে তাকিয়ে দেখুন—কোনো এক উন্মাদের বেসামাল ট্রাকচালনার চিহ্ন বহন করছে সেটি।
রাস্তায় যানচালনার সময় সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। চালককে হতে হবে রাস্তার আইন-জানা মানুষ।
কিন্তু এতসব কথা কেন বলছি? নম্বরপ্লেট ছাড়া রাজধানীতে একটি ট্রাক চলছে, অথচ কারও চোখে পড়ছে না সেটা! তাহলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে না তো কী ঘটবে?
কাল আপনিই যে এ রকম সংবাদের শিরোনাম হবেন না, এই গ্যারান্টি কি কেউ দিতে পারবে? অন্তত এখনো কেউ পারছে না। ফলে দুঃখটাই সম্বল শুধু আমাদের।
 জাহীদ রেজা নূর

No comments

Powered by Blogger.