কাঁটা বিছানো রক্তাক্ত পথ বেয়েই দেশকে সমৃদ্ধ করে তুলব- আলোচনাসভায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের অঙ্গীকার

শত চক্রানত্ম-ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে মহাজোট সরকারের এক বছরের সাফল্যে মাথা খারাপ হয়ে গেছে খালেদা-নিজামী গংয়ের। এভাবে চললে তাদের রাজনৈতিক অসত্মিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। এটি নিশ্চিত জেনেই নানা মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রানত্ম করার চেষ্টা করছে।


কিন্তু দেশের মানুষ শেখ হাসিনার পৰে ঐক্যবদ্ধ। তাই যতই ষড়যন্ত্র-চক্রানত্ম করা হোক, আগামী চার বছরে আওয়ামী লীগ জনগণকে দেয়া প্রতিটি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করবেই। কোন শক্তিই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে পারবে না। অপশক্তির কাঁটা বিছানো রক্তাক্ত পথ বেয়েই এক বছরে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবই।
বুধবার মহাজোট সরকারের এক বছর পূর্তি উপলৰে আয়োজিত বিশাল আলোচনাসভায় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ এ দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পৰে দেশের তরম্নণ সমাজ আজ জেগে উঠেছে। সাম্প্রদায়িক জঙ্গীবাদ, রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশে ঠাঁই হবে না। গ্রামেগঞ্জে গিয়ে রাজাকারদের তালিকা প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলার মাটিতেই এদের বিচার হবে। আর রাজাকারের গাড়িতে রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা তুলে দেয়ার জন্য দেশের জনগণ খালেদা জিয়ারও বিচার করবে।
সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ধ্বংসসত্মূপের ওপর দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার সরকার ৰমতা গ্রহণ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ক্লানত্মিহীন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। দেশের সকল মিডিয়াই সরকারের সাফল্যগুলো তুলে ধরেছে। উত্তরা ষড়যন্ত্রের নায়ক ও ভূমিদসু্যরা সরকারের ব্যর্থতা খুঁজেও পাচ্ছে না। বিরোধী দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সকল কাঁটা ধন্য করেই গোলাপ হয়ে ফুটবেন শেখ হাসিনা। কাঁটা বিছানো রক্তাক্ত পথ বেয়েই তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কিছু টেন্ডারবাজি-সন্ত্রাসীর ঘটনা ঘটলেও তা প্রশ্রয় দেয়া হয়নি। সরকার শক্তহাতে তা দমন করেছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মেয়াদ পূর্তির আগেই জনগণকে দেয়া সকল নির্বাচনী প্রতিশ্রম্নতি বাসত্মবায়নের অঙ্গীকার করে বলেন, দিন বদলের অঙ্গীকার নিয়ে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে না বলে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিভিন্ন টক শোতে নানা মিথ্যা প্রচার করা হলেও জনগণ এ সরকারের সঙ্গেই আছে। জনগণ বিশ্বাস করে, একমাত্র শেখ হাসিনাই বাংলাদেশকে বদলে দিতে পারে, অন্য কেউ নন। বাংলাদেশ থেকে জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস নিমর্ূলের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির কালিমা থেকে আমরা দেশকে মুক্ত করবই ইনশালস্নাহ।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সংসদ বর্জনের জন্য বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ঠুনকো অজুহাতে সংসদ বর্জন করে জনগণের ভোটকে অপমানিত-লাঞ্ছিত করেছে। সাহস থাকলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য বিরোধীদলীয় নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজিতরা সরকার পতনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। কিন্তু জনগণের শক্তিতে বলীয়ান আওয়ামী লীগ এতে ভয় পায় না। একমাত্র জনগণের ভোট ছাড়া কোন শক্তিই সরকারকে উৎখাত করতে পারবে না। আত্মতুষ্টিতে না ভুগে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজির অভিযোগ কেউ করতে না পারে, দেশে যেন নতুন কোন হাওয়া ভবন সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসী, লুণ্ঠনকারী, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছে। এরা একটিবার ৰমতায় আসলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ। আব্দুল হক সবুজ ও শাহে আলম মুরাদের উপস্থাপনায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা আহমদ হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরম্নল ইসলাম, হাবিবুর রহমান মোলস্না এমপি, আলহাজ মকবুল হোসেন, ফয়েজউদ্দিন মিয়া, মুকুল চৌধুরী, গাজী লুৎফুল কবির রেনু, হাজী মোহাম্মদ সেলিম, আওলাদ হোসেন, আসলামুল হক আসলাম এমপি, এ্যাডভোকেট সানজিদা খানম এমপি, এস এ মান্নান কচি, ডা. দিলীপ রায় প্রমুখ। আলোচনাসভা শেষে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ দেশের স্বনামধন্য শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

No comments

Powered by Blogger.