বাংলাদেশ ঘুরে গেলেন-নভোচারী রোনাল্ড জে গারান by জাহিদ হোসাইন ও আল মামুন

সময়টা ছিল ১৯৬৯ সালের জুলাই মাস। প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদে পা দিয়েছেন মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং। অ্যাপোলো-১১ খেয়াযানের সেই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান টেলিভিশনের পর্দায় দেখে বিস্মিত হয়েছিল বিশ্ববাসী। সাদাকালো টিভিতে সেই অভিযানের সরাসরি সম্প্রচার দেখে আলোড়িত হয় সাত বছরের শিশু রন।


সে সময়ে মনে দানা বাঁধে মহাকাশজয়ের, নভোচারী হওয়ার।

নভোচারী রোনাল্ড জে গারান
সেই শিশুমনের স্বপ্ন বাস্তব হয় রনের জীবনে ২০০৮ সালে। সেই স্বপ্নালু শিশু এখন মহাকাশে ১৭৮ দিন অবস্থান করা নাসার নভোচারী রোনাল্ড জে গারান। ২০০৮ সালে নাসার খেয়াযান ডিসকভারিতে চড়ে প্রথমবারের মতো মহাকাশে যান গারান। প্রথম মহাকাশযাত্রায় ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি ১৩ দিন খেয়াঘাট আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান ও ২০ ঘণ্টার বেশি সময় ‘স্পেইসওয়াক’ করেন। দ্বিতীয়বারের মতো ২০১১ সালের ৪ এপ্রিল ক্রু মেম্বার হিসেবে নাসার এক্সপেডিশন ২৭-এর মাধ্যমে খেয়াঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। এই মিশনে গারান ১৬৬ দিনের বেশি সময় খেয়াঘাটে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি ছয় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ‘স্পেইসওয়াক’ করেন। এক্সপেডিশন ২৮-এর মাধ্যমে গারান ২০১১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মর্ত্যের বুকে ফিরে আসেন।

বাংলাদেশে রোনাল্ড জে গারান
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার প্রতি আগ্রহী হন গারান। তাঁরই আমন্ত্রণে গত ২৯ জুন সামাজিক ব্যবসা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাংলাদেশে আসেন তিনি। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সোশ্যাল বিজনেস ফোরাম-২০১২, বিজ্ঞান মেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সময় দিয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের। মিরপুরের পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে নাহার একাডেমি উচ্চবিদ্যালয় বিজ্ঞান ক্লাবের আয়োজনে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলায় হাজির হয়েছিলেন মার্কিন এই নভোচারী। বিজ্ঞান মেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানবিষয়ক নানা প্রজেক্ট দেখানো হয় নভোচারীকে।
আকাশজয়ের স্বপ্ন ছড়িয়ে দেন সাত বছর বয়সের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। শিক্ষার্থীদের জানিয়েছেন মহাকাশজয়ের গল্প, নভোচারী হওয়ার উপায়; দেখিয়েছেন নিজ হাতে তোলা খেয়াঘাট থেকে সবুজ পৃথিবীর অনন্য সব ছবি। প্রত্যাশা করেন, ভবিষ্যতের নতুন পৃথিবী গড়ে তুলবে নবীন এসব শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান মেলায় আসা শিক্ষার্থীদের জানিয়েছেন মহাকাশ জয়ের কথা।
বাংলাদেশের স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকেই আগামী দিনের মহাকাশজয়ের নায়কদের খুঁজে পাওয়ার আশা করেন রোনাল্ড জে গারান। বিজ্ঞান মেলায় অংশ নেওয়া খুদে বিজ্ঞানীদের ‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়’ উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নতুন পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে আবারও বাংলাদেশে আসার কথা জানান গারান। বিজ্ঞান মেলায় রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০টি প্রকল্প প্রদর্শিত হয়। নভোচারী গারান সস্ত্রীক উপস্থিত ছাড়াও আমেরিকান সেন্টারের কালচারাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার রায়ান বার্ডিম, নাহার একাডেমি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা খাতুন ও বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ক্লাবের সভাপতি রাখিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

No comments

Powered by Blogger.