সিন্ডিকেটের এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোস চেয়ার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষকপদ ‘বোস প্রফেসরশিপ’ বা সাধারণভাবে পরিচিত ‘বোস চেয়ার’ দীর্ঘ ১৭টি বছর ধরে শূন্য রয়েছে—এ বড়ই পরিতাপের কথা। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মহোদয়রা বহু আলোচনা-পর্যালোচনা করেও ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন না এই পদটি অলংকৃত করার জন্য


সবচেয়ে যোগ্য ও মানানসই শিক্ষক কে? বিভাগের সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে অনেকবার আলোচনা হয়েছে, কিন্তু সবই নিষ্ফল।
আলবার্ট আইনস্টাইনের সহযোগী বিশ্ববিখ্যাত বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বোসের স্মরণে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধান জ্ঞানপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৩ সালে ‘বোস প্রফেসরশিপ’ চালু করা হয়। তখন থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনজন অধ্যাপক এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার পরের ১৭ বছর ধরে পদটি শূন্য রয়েছে মূলত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ের রেষারেষির ফলে। পদটি পূরণের একটি উপায় হতে পারত, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা। কিন্তু ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেয়, কোনো বিজ্ঞাপন প্রকাশ নয়, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটি আলোচনা করে কোনো প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানীকে এই পদ গ্রহণের প্রস্তাব দেবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই নিয়োগপদ্ধতি কার্যকর হতে পারেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে কি একজন শিক্ষকও নেই, যিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাবান পদে নিয়োজিত হতে পারেন? আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে আছেন। কিন্তু শিক্ষকেরা পরস্পরের প্রতি কেন এতটা বিরুদ্ধ মনোভাবাপন্ন যে ১৭ বছর ধরে একটি বিষয়ে তাঁরা একমত হতে পারছেন না? একাডেমিক পরিবেশে বুদ্ধিবৃত্তিক ঈর্ষা বা অসূয়া অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু তা কেন এমন সংকীর্ণ রূপ নেবে, যার ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়? এটা দুঃখজনক, বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বোসের স্মৃতির প্রতি অশ্রদ্ধার পরিচায়ক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক যেমনটি বলেছেন, আমরাও তেমনি মনে করি বোস চেয়ারের শূন্যতা পূরণ করতে এখন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

No comments

Powered by Blogger.