পাঠকের মন্তব্য: অনলাইন থেকে-আপনার চোখের জলও মূল্যহীন?

প্রথম আলোর অনলাইনে (prothom-alo.com) প্রতিদিন রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, খেলা, প্রযুক্তি ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে পাঠকের মতামত প্রকাশিত হয়। তাঁদের এ মতামত চিন্তার খোরাক জোগায় অন্যদের। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠকদের কিছু মন্তব্য ঈষৎ সংক্ষেপিত আকারে ছাপা হলো


দেশীয় অর্থে পদ্মা সেতুর দায় নিয়ে ভাবনা কম
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা ভাবছে সরকার। কিন্তু এ প্রকল্প বাস্তবায়নে যে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা লাগবে, তার সংস্থান কীভাবে হবে—সেই বিষয়টি এ লেখায় তুলে এনেছেন শওকত হোসেন। এ সম্পর্কে সি এম মশিউর রহমান খান লিখেছেন: এসব লেখা সরকারের কেউ পড়বে বলে মনে হয় না। পড়লেও আলোচনা করবে না কেউ। এসব কথায় ঘুম ভাঙবে না সরকারের। তা ছাড়া কবে, কোন দিন অর্থনীতির ওপর চাপ পড়বে, সেসব ভেবে সময় নষ্ট করার সময়ও যে তাদের হাতে নেই। আবার কিছু লোক সরকারের তোষামোদে নেমেছে। কাজেই বিপদটা সামনে আসতে মনে হয় বেশি একটা সময় নেবে না।
আব্দুল্লাহেল মাসুম: বহু কোটি অর্থে সেতু নির্মাণ এত আলোচিত হচ্ছে, অথচ আমাদের নদীপথ সচল করতে সম্ভাব্য ব্যয় আর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করার কথা কেন ভাবা হচ্ছে না? মনোযোগ আমাদের নদীপথের দিকে ফেরালে বিমুখ হতে হবে না, বরং ব্যয়ের সহস্র গুণ বহু পথে ফিরে আসবে।
রাশেদুল আলম: আবেগ আর বাস্তবতাবোধ সব সময় একসঙ্গে যায় না। এ কথাটা সবাই যত তাড়াতাড়ি বুঝবে ততই মঙ্গল। ধন্যবাদ, এত চমৎকার একটি লেখার জন্য।
মো. আরিফুল ইসলাম: আমার ধারণা, অর্থমন্ত্রী ব্যাপারটা ঠিকই বুঝতে পারছেন। কিন্তু এ ছাড়া আর উপায় কী? পদ্মা সেতু করতে না পারলে যে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। তাই নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এত কিছু ভাবার সময় এ মুহূর্তে নেই।
মামুন রশীদ: সেতু হলে ভালো। কিন্তু এত কষ্ট করে অর্থ সংগ্রহ করে টাকাটা যদি শেয়ারবাজারের মতো হয়ে যায়? তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সমগ্র জাতি। আমরা জাতি হিসেবে খারাপ বলব না, বলতে পারি না আমরা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। আর তাই তো একজন ভিক্ষুক তাঁর ভিক্ষার টাকা সেতু করার জন্য দিতে চাই। যখন দেখতে পাই, মুষ্টিমেয় ব্যক্তির দুর্নীতির জন্য আমাদের মাথা নিচু হয়ে যায়, আর তাদের উন্নতি হয়—তখন স্বপ্ন দেখতে ভুলে যাই।
জাহাঙ্গীর হোসেন: পদ্মা সেতু নিয়ে চলছে রাজনৈতিক মন্তব্য। এতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সামনে এগিয়ে চলার সাহসিকতাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু হলে শুধু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষেরাই লাভবান হবে যে তা নয়; বরং সারা দেশের মানুষই উপকৃত হবে। সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষের একটি আত্ম-চেতনার ভাব জাগ্রত হয়েছে, তা হয়তো অনেকেরই সহ্য হচ্ছে না। তাই রাজনৈতিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর এ নিঃস্বার্থ আহ্বানকে প্রতিহত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করতে বললেন, শিক্ষকেরা রাজি নন
দেশের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুয়েটে উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করছেন সেখানকার শিক্ষক, কর্মী ও শিক্ষার্থীরা। এ সম্পর্কে মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া লিখেছেন: উপাচার্যদের (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট) বাঁচানোর জন্য সরকারের এ ধরনের মানসিকতা পরিহার করলে শিক্ষাঙ্গনে পরিবেশ ভালো হতো। হাজার ছাত্র-শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরকার ভালো করছে না বলেই মনে হয়।
শিমুল শাহরিয়ার: বর্তমান উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় কোনো সমাধান হলে তা অনেক আগেই হয়ে যেত। কেননা, বুয়েটের শিক্ষকেরা ইতিমধ্যে অনেকবার উনাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং উল্লিখিত অনিয়ম আর অনৈতিক কাজ থেকে উনাদেরকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন। যাঁরা অনৈতিক কাজ করে নিরন্তর সেটা অস্বীকার করে চলেছেন, তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসবেন—সেটা আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।
আকাশ চৌধুরী: যেখানে দুজন ব্যক্তির পদত্যাগের জন্য বুয়েটের অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীরা আন্দোলন করছেন, সেখানে ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ নেই’—উপাচার্যের এ মন্তব্যটি কিসের পরিচয় দেয়। এ ধরনের লোকের সঙ্গে যেকোনো আলোচনাই তো ব্যর্থ হতে বাধ্য। যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই ভিসির সঙ্গে শিক্ষকদের ইতিপূর্বে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়া আলোচনাগুলোর ভেতরে। আলোচনার আর কোনো অবকাশ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ, তিনি যেন বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

পোড়া ছাত্রাবাস দেখে কাঁদলেন শিক্ষামন্ত্রী
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় প্রথম আলোর পাঠকেরা ব্যথিত, ক্ষুব্ধ। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। উল্লিখিত প্রতিবেদন সম্পর্কে মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া লিখেছেন: মন্ত্রীর কান্না হাস্যকর। কী করতে পারেন তিনি? বড়জোর একটা কমিটি, আর তারপর সব শেষ। ভুলে যাবে সবাই। দোষীরা আড়ালেই থাকবে; কারণ, তারা ক্ষমতাসীনদের লোক।
ওয়াহাব: এই ক্ষতিতে আমাদের সবার কান্নাটা আপনিই কাঁদলেন! ছাত্রলীগের বিষয় তো আলাদা! তাদের জন্য আছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই ছাত্রলীগের অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির কান্নাটা তিনিই কাঁদবেন!
মাহফুজা বুলবুল: অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারবেন? নাকি আপনার চোখের জলও মূল্যহীন?

মুঠোফোন কলে ১০ পয়সা সারচার্জের প্রস্তাব ডিসিদের
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের অংশ হিসেবে মুঠোফোনের কলে ২৫ পয়সা করে সারচার্জ বসানোর প্রস্তাব এসেছে। সর্বশেষ সম্মেলনে জেলা প্রশাসকেরা এটা ১০ পয়সা করার প্রস্তাব করেছেন। এ সম্পর্কে কাইসুল খান লিখেছেন: ২৫ পয়সা করে সারচার্জ ধরলে এক হিসাবে দেখা গেছে ১৬ বছর লাগবে ২৭ হাজার কোটি টাকা তুলতে। মুদ্রাস্ফীতির কথা না হয় বাদই দিলাম। আর ১০ পয়সা ধরলে অবস্থা কী হবে, ভাবুন একবার?
মহিউদ্দিন মাসউদ: জেলা প্রশাসকদের কিছু যায় আসে না। কিন্তু সাধারণ মানুষের অনেক কিছু যায় আসে, কারণ দুর্নীতি করবে একজন আর তার খেসারত দিতে হবে গোট জাতিকে, এমন গণ-দুর্নীতিকে সাধারণ মানুষ মানবে কেন?
হজরত আলী: আমি এর পক্ষে না। আমরা কষ্ট করে টাকা কামাই করি, ওনারা মনমতো সিদ্ধান্ত নেবে—সেটা তো ঠিক না।
শেখর সর্দার: আমি প্রয়োজনে মিনিটপ্রতি ২৫ পয়সা করে দেব, তবে সেতু বানাতেই হবে। আমাদের সবার আগে দেশকে বাঁচাতে হবে।

‘পঙ্গু, দরিদ্র ছেলেটির প্রতি রাষ্ট্র বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করছে’
ঝালকাঠির অসহায় লিমনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। সে সম্পর্কে উপরিউক্ত কথা বলেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। এ ব্যাপারে পাঠক মো. নিয়াজ মোর্শেদ খান লিখেছেন: আওয়ামী লীগ এই ঘটনায় জড়িত র‌্যাব সদস্যদের বাঁচিয়ে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছে। এখনো সময় আছে, এই দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের মধ্যে এনে বিচার করে দেশবাসীর সামনে ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করার। তা না হলে সামনের ভোটে বাংলাদেশের মানুষ এর জবাব আওয়ামী লীগকে দিতে ভুল করবে না।
আবুল কালাম: দুর্নীতি দমন, মানবাধিকার ইত্যাদি কয়েকটি অকর্মণ্য কমিশন পোষা হচ্ছে জনগণের করের টাকায়। এত টাকা খরচ করে পোষা এই কমিশনগুলোর অর্জন কী? উচ্চ বেতন এবং সুবিধাভোগী এই মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান অতিদরিদ্র লিমনকে কিছু উঁচু গলার বাগাড়ম্বর ছাড়া কী দিয়েছে? এত গুম, এত হত্যা—কী করেছে এই কমিশন?
জাহিদ হাসান: অসম্ভব কষ্ট হলো এ সংবাদটি পড়ে। একজন সহায়-সম্বলহীন দরিদ্রের প্রতি রাষ্ট্রযন্ত্রের এহেন নিষ্ঠুর আচরণে মনে হলো সারা দেশের সাধারণ জনগণ কত অসহায়। অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতন অবশ্যম্ভাবী।
দেবু সরকার: রাষ্ট্রের সম্ভবত মন বলে কিছু থাকতে পারে না। নইলে আমি বলতাম, এই রাষ্ট্র মানসিক রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। লিমনের জন্য সারা দেশ হাহাকার করছে, আর রাষ্ট্র তার পিছু নিয়েছে। কী বিচিত্র এই দেশ!
(পাঠকের মতামত বিস্তারিত পড়তে ও আপনার মতামত জানাতে ভিজিট করুন prothom-alo.com)

No comments

Powered by Blogger.