দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারকাজ শুরু করুন-২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনাই যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, তাতে সন্দেহ নেই। সন্দেহ নেই, ঘাতক চক্র কমান্ডো কায়দায় জনসভায় এ হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। এ ধরনের হামলা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।


ঘটনাটি এতটাই নৃশংস ও নির্মম ছিল যে দেশবাসী স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। উদ্বেগ জানিয়েছিলেন বিভিন্ন দেশের নেতারাও।
এই জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব ছিল তত্কালীন জোট সরকারের। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলকভাবে তারা সে পথে না গিয়ে অপরাধীদের আড়াল করতে নানা আজগুবি কাহিনি ফেঁদে বসে। বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিশনও সেদিন অপরাধীদের চিহ্নিত না করে সন্দেহের তীর ছুড়েছিল আক্রান্ত আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ও প্রতিবেশী বৃহৎ দেশটির প্রতি। সরকারের সহযোগিতার অভাবে তদন্তে আসা বিদেশি গোয়েন্দারাও কাজ শেষ করতে পারেনি।
যেকোনো সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব জনগণের জানমাল রক্ষা করা। তত্কালীন সরকার সেটি করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। তাদের দ্বিতীয় দায়িত্ব ছিল হামলাকারীদের খুঁজে বের করা। এ ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গাফিলতি ছিল ক্ষমাহীন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার যত দিন ক্ষমতায় ছিল, তত দিন প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তির সূত্র ধরেই ঘটনার হোতা ও নেপথ্যের চক্রান্তকারীদের নাম বেরিয়ে আসতে থাকে।
শুরু থেকেই প্রথম আলো ইতিহাসের ঘৃণ্যতম এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে আসছে। এমনকি জজ মিয়াকে ঘিরে সাজানো কাহিনি ফাঁস করার কৃতিত্বও প্রথম আলোর। গ্রেনেড সরবরাহকারী পাকিস্তানি জঙ্গি আবু ইউসুফ ভাটকে কারা দেশে নিয়ে এসেছিল, কার বাসায় জঙ্গিদের বৈঠক হয়েছিল, হামলার মূল হোতাকে পালিয়ে যেতে কারা সহায়তা করেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই গ্রেনেড হামলার পুরো রহস্য বেরিয়ে আসবে।
ছয় বছর ধরে প্রথম আলোর নিরলস অনুসন্ধান যে ২১ আগস্টের ঘাতকদের খুঁজে বের করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে, তা সর্বমহলে স্বীকৃত। যেই মুহূর্তে গ্রেনেড হামলার হোতাদের চিহ্নিত করার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই মুহূর্তে ঘটনাকে ফের ভিন্ন খাতে নিয়ে যেতে মহলবিশেষের অপপ্রচার দুরভিসন্ধি ছাড়া কিছু নয়।
২১ আগস্টের বোমা হামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। যেসব খবর পাওয়া গেছে, তাতে সন্দেহ নেই এই হামলার সঙ্গে তত্কালীন সরকারের কোনো কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। যত দ্রুত সম্ভব, তদন্তকাজ শেষ করে বিচার-প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, এদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দেশে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ হোক, সেটাই প্রত্যাশিত।

No comments

Powered by Blogger.