খাসজমি দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন-উপকূলীয় বনভূমি

রাজনীতিতে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিলেও খাসজমি দখলে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে অদ্ভুত সহাবস্থান লক্ষ করা গেছে। নোয়াখালী জেলার উপকূলীয় এলাকার চিংড়িঘের ও বন ধ্বংস করে দুই হাজারেরও বেশি ভূমি দখল করে নিয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এতে যেমন ক্ষমতাসীন মহাজোটের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা রয়েছেন,


তেমনি আছেন বিরোধী দল বিএনপির লোকজনও। উপকূলের খাসজমি দখলসংক্রান্ত এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যে ৭০ জন দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৯ জন আওয়ামী লীগের, ১৩ জন বিএনপির, একজন জাতীয় পার্টির এবং বাকিরা ব্যবসায়ী।
বিগত জোট সরকারের আমলে নোয়াখালীর উপকূলের খাসজমির এক-তৃতীয়াংশ বনায়ন, এক-তৃতীয়াংশ ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ এবং এক-তৃতীয়াংশে চিংড়িমহাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু একটি বেসরকারি সংস্থার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে চিংড়িঘেরের জন্য জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।
সুবর্ণচর, কবীরহাট ও কোম্পানিগঞ্জে অবস্থিত এসব জমি দখলের প্রক্রিয়াও অভিনব। এসব জমিতে গড়ে ওঠা সবুজ বেষ্টনী ধ্বংস করা হয় বনদস্যুদের দিয়ে। কেননা বন ধ্বংস না করলে বন্দোবস্ত নেওয়া যায় না।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ভূমি প্রতিমন্ত্রীও খাসজমি দখল হওয়ার কথা স্বীকার করে দখলদারদের কাছ থেকে জমি উদ্ধার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর এ আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হবে, সেটাই ভাবনার বিষয়। কেবল উপকূলে নয়, সারা দেশেই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি জায়গাজমি দখল করে রেখেছেন। তাঁদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না নদী, জলমহাল, বনভূমিও। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব দখলদারি রোধ করা যাঁদের দায়িত্ব, তাঁরা শুধু নিষ্ক্রিয় নন, ক্ষেত্র বিশেষে দখলদারদের সহায়তাও করে থাকেন। এঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে দখলদারদের দৌরাত্ম্য কমানো যাবে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ওপরের নির্দেশে কিছুদিন দৌড়ঝাঁপ চললেও পরে এর ধারাবাহিকতা থাকে না। প্রতিবেদনে চিংড়ি চাষের জন্য খাসজমি না দেওয়ার যে সুপারিশ করা হয়েছে, তারও বাস্তবায়ন জরুরি। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলের মানুষকে রক্ষায় এর বিকল্প নেই।

No comments

Powered by Blogger.