বিপ্লবের সহযোগী ‘খুনি’র দণ্ডও কমালেন রাষ্ট্রপতি!

লক্ষ্মীপুরের সেই আলোচিত ‘খুনি’ এ এইচ এম বিপ্লবের এক সহযোগীরও খুনের সাজা আংশিক মাফ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর নাম সৈয়দ আনোয়ারুল আজিম ওরফে বাবর। তিনি ছাত্রলীগের জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাবর লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা আবু তাহেরের ছেলে বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বিপ্লব যেসব হত্যা মামলার আসামি, তার সবগুলোতে বাবরও আসামি। বিএনপির নেতা ও আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় বাবরের মৃত্যুদণ্ড এবং কামালউদ্দিন হত্যা ও মহসিন হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তিনটি খুনের ঘটনাই ঘটে আওয়ামী লীগের আগের (১৯৯৬-২০০১) সরকারের আমলে। বাবর পরে উচ্চ আদালত থেকে নুরুল ইসলাম হত্যা ও কামাল হত্যা মামলায় খালাস পান। মহসিন হত্যা মামলায় তিনি লক্ষ্মীপুর কারাগারে আছেন। বিপ্লবও একই কারাগারে আছেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিপ্লবের মতো বাবরেরও সাজা মওকুফের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপতি মহসিন হত্যা মামলায় বাবরের সাজা যাবজ্জীবন থেকে সাত বছর কমিয়ে দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমার বিষয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আদেশ জারি করে বলে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
তবে গতকাল জানতে চাইলে কারাগারের চট্টগ্রাম বিভাগের উপমহাপরিদর্শক মো. ফজলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এখনো বাবরের সাজা কমানোসংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাননি।
এর আগে রাষ্ট্রপতি গত বছর নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় বিপ্লবের ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করেন। সর্বশেষ কামাল হত্যা ও মহসিন হত্যা মামলায় বিপ্লবের যাবজ্জীবন সাজা কমিয়ে ১০ বছর করেছেন রাষ্ট্রপতি। ৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে।
আওয়ামী লীগ সরকারের গত আমলে আবু তাহের ও তাঁর ছেলেদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনীর নানা অপরাধমূলক তৎপরতার কারণে লক্ষ্মীপুর ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ নামে পরিচিতি পায়। বিপ্লব, তাহেরের পালিত পুত্র আবদুল জব্বার লাবলু ওরফে লাবু ও জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বাবর তখন ছিলেন এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক। তাঁরা তিনজনই এখন লক্ষ্মীপুর কারাগারে আছেন।

No comments

Powered by Blogger.