কারওয়ানবাজারে রেলের জমিতে মৎস্য মার্কেট-জমির মালিকানা নিয়ে উভয়পক্ষের দাবি by হকিকত জাহান হকি

কারওয়ানবাজারে রেলওয়ের প্রায় ৩ বিঘা জমি দখল করে মাছের পাইকারি মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এ মার্কেট দখলে রেখে ব্যবসা করছে। স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্বের কারণে নানা সময়ে এ মার্কেটে দখল, পাল্টা দখলের ঘটনাও ঘটছে। এ মার্কেটকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, মাস্তানিসহ নানা ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। স্থানীয়ভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে এ মার্কেটটি সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে এলাকার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন।


কারওয়ানবাজারের পূর্ব পাশে রেললাইন সংলগ্ন, এফডিসির পশ্চিম পাশে ও বিজিএমইএ ভবনের উত্তর দিকে সড়ক সংলগ্ন স্থানে ১ বিঘারও বেশি জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে মার্কেটটি। ১৯৬০ সালে তৎকালীন সরকার রেলওয়ের কাজের জন্য এ জমি অধিগ্রহণ করেছিল। দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত থাকার পর রেলওয়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান এ জমি স্থানীয় কতিপয় লোক দখল করে নেয়। মার্কেট দখল ও পরিচালনার সঙ্গে
যুক্তরা
বলেছেন, আইনগতভাবেই ওই জমির মালিক তারা। জমির বিপরীতে তাদের দলিল আছে। জমির মালিকানা বিষয়ে তাদের পক্ষে উচ্চ আদালতের আদেশ রয়েছে। এদিকে রেলওয়ে সূত্র জানায়, এ জমির মালিক সরকার। সরকারি জমি কেউ দখল করে থাকলে আইন অনুযায়ী তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ওই স্থানে একই সঙ্গে ৪টি মার্কেট গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মোঃ জসিম উদ্দিনের দখলে রয়েছে জসিম মার্কেট, শাহাবুদ্দিন গ্রুপের দখলে রয়েছে সোনারবাংলা মৎস্য মার্কেট, স্থানীয় রমজান আলীর দখলে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মৎস্য মার্কেট ও মোঃ জুলহাসের দখলে রয়েছে একতা মার্কেট।
জানা গেছে, ২০ থেকে ২২ বছর আগেও এ জমিটি ছিল পরিত্যক্ত। এরশাদ সরকারের শাসনামলে পান্থপথ থেকে কারওয়ানবাজার ও সোনারগাঁও হোটেলের মাঝ দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করার পর ওই জমির প্রতি নজর পড়ে স্থানীয় স্বার্থান্বেষীদের। তারা একে একে জায়গাটি দখল করে মাছের পাইকারি মার্কেট নির্মাণ করেন।
জানা গেছে, স্থানীয় জসিম উদ্দিন গত ৩০ ডিসেম্বর পুলিশের উপস্থিতিতে সরদার মার্কেটের সাইনবোর্ড নামিয়ে জসিম মার্কেট নামের সাইনবোর্ডটি টানিয়ে দখলে নেন। এ সময় পুলিশের এসআই ফয়েজুর রহমানসহ কয়েক পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। দখলের সময় টহলরত র‌্যাবের একটি টিমের পক্ষ থেকে ঘটনা জানতে চাওয়া হলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় এমপির পক্ষের লোকজন এখানে উপস্থিত আছেন এবং তারা এ কাজ করছেন। পুলিশের উপস্থিতি দেখে র‌্যাবের টিম চলে যায়। এর আগে এ মার্কেটটি মোজাফফর হোসেন সরদারের দখলে ছিল। তারও আগে মর্কেটটি জসিম উদ্দিনের দখলে ছিল। পরে মার্কেটটি মোজাফফর হোসেন দখল করে নিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন সমকালকে বলেন, কারওয়ানবাজারের মৎস্য মার্কেটের পুরো জমির মালিক রেলওয়ে। তারা যেভাবেই দখল করুক না কেন, এই জমির মালিক তারা কোনো দিনই হতে পারবে না। তিনি বলেন, ওই জমির বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। জাল দলিল করে আদালত থেকে আদেশ নিয়ে জমি দখলে রাখা হলে রেলওয়ে আইনগতভাবে মোকাবেলা করবে। আর যদি আইনগত কোনো ঝামেলা না থাকে, শিগগির জমি থেকে মার্কেটটি উচ্ছেদ করা হবে। কারওয়ানবাজার এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে মার্কেটটি সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
সাবেক সরদার মার্কেটের মোজাফফর হোসেন সরদার সরকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী তারা জমির মালিক। তিনি জমির প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকেই জমি ক্রয় করে নিয়েছেন। আইন অনুযায়ী মার্কেটটি তার দখলে ছিল। আবার আইন অনুযায়ী মার্কেটটি তার দখলে আনা হবে। আইনের বাইরে কিছুু বলা হবে না বলে জানান তিনি।
চারটি মার্কেটে পাঁচশ'র বেশি আড়ত রয়েছে। আড়ত ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের জন্য দেড়শ' থেকে দু'শ' টাকা দিতে হয় দখলকারীদের। এ ছাড়াও মাঝে মাঝে বড় অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। দখলকারীদের নিযুক্ত বাহিনীর খেয়ালখুশির ওপর নির্ভর করতে হয় কাকে কত টাকা চাঁদা দিতে হবে। বিস্তৃত পরিসরে এ মার্কেট তৈরি হওয়ায় সারাদেশ থেকে আনা মাছ এখানে বেচাকেনা হচ্ছে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিরামহীনভাবে চলে বেচাকেনা। সারাদেশ থেকে আনা মাছ বিক্রি করে আড়ত ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজিতে ৫ টাকা কমিশন নেন।

No comments

Powered by Blogger.