বেহাত রেলের জমি-যেকোনো মূল্যে অবৈধ দখলমুক্ত করুন

থায় বলে, 'সরকারি মাল, দরিয়া মে ঢাল।' এটি অবশ্য অনেক পুরনো কথা। আজকালকার মানুষ সে তুলনায় অনেক চালাক। তারা দরিয়ায় ঢালার পরিবর্তে সরকারি মাল নিজের পকেটে ঢালতে বা আত্মসাৎ করতেই বেশি আগ্রহী। গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিজের অংশ নিয়ে তারা তৃপ্তি পায় না, তারা চায় সম্ভব হলে পুরোটাই গ্রাস করতে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদেরও একটি বড় অংশ নগদ প্রাপ্তির লোভে এই আত্মসাতের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করে।


আজ বাংলাদেশের বেশির ভাগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এবং তাদের সম্পত্তিতে প্রায় একই চিত্র লক্ষ করা যায়। আর এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের অবস্থান শীর্ষ পর্যায়ে। সম্প্রতি নবগঠিত রেল মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী রেলওয়ের বেহাত হওয়া সম্পত্তি চিহ্নিত করা এবং অনিয়ম খুঁজে বের করার জন্য উচ্চপর্যায়ের একাধিক কমিটি গঠন করেছেন। ভূমিসংক্রান্ত বিষয়ে গঠিত কমিটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। কিন্তু ইতিমধ্যেই তারা বেহাত হয়ে যাওয়া এ রকম সাড়ে চার হাজার একরের বেশি জমি চিহ্নিত করেছে বলে একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে। রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, অবৈধ দখলে থাকা রেলওয়ের ভূমি উদ্ধার করে বিক্রি করা হলে অন্তত আগামী তিনটি বাজেটের অর্থের জোগান দেওয়া যাবে। তিনটি বাজেটের অর্থের জোগান দেওয়া হোক বা না হোক, রাষ্ট্রের এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি যে অবৈধ দখলে রয়েছে, এই সত্যটি অন্তত তাঁর বক্তব্যে বেরিয়ে এসেছে। এই দখলের পেছনে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রভাবশালী 'রাজনৈতিক ব্যক্তি' ও সুযোগসন্ধানীরা। আবার এমন কিছু 'অতি চালাক' ব্যক্তি রয়েছেন এই সমাজে, যাঁরা নিজেদের দখলকে 'হালাল' ও সুসংহত করার জন্য দখল করা ভূমির একটি অংশে মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব, দরবার শরিফ ইত্যাদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তাঁরা ভালো করেই জানেন, মসজিদ উচ্ছেদ করতে কেউ সাহস পাবে না, কারণ তা করলেই মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে এবং ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হবে। তাই বাকি অবৈধ সম্পত্তি ভোগ করতে তাঁর কোনো অসুবিধাই হবে না। খোদ ঢাকা শহরেই রেলওয়ের এ রকম অনেক জমি পাওয়া যাবে।
তিনটি বাজেটের সমান রাষ্ট্রীয় অর্থ কিছুসংখ্যক চোর-ছ্যাঁচোড় লুটেপুটে খাবে-এটা হতে পারে না। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির মালিক এ দেশের মানুষ। যেকোনো মূল্যে রাষ্ট্রের এই বিপুল সম্পত্তি উদ্ধার করতেই হবে। ধর্মীয় ছদ্মাবরণে যারা সরকারি সম্পত্তি দখল করেছে, তারা সাধারণ দখলদারদের চেয়ে অনেক বড় অন্যায় করেছে, দখলদারিতে ধর্মকে ব্যবহার করেছে। ঘৃণ্য চরিত্রের এই লোকজনকে উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনবোধে আলেমসমাজের প্রতিনিধিদের সহযোগিতা নেওয়া হোক, যাতে তারা ভবিষ্যতে কোনো সস্তা সেন্টিমেন্ট তৈরি করতে না পারে।
উদ্যোগ নিলে যে কিছু হয়, রেলমন্ত্রী আবার তা প্রমাণ করলেন। আমাদের প্রত্যাশা, তাঁর এ উদ্যোগ সফল পরিসমাপ্তি পাবে এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় তথা জনগণের সম্পত্তি জনগণের মালিকানায় ফিরিয়ে আনা হবে। দেশের মানুষ অবশ্যই সে জন্য রেলমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাবে।

No comments

Powered by Blogger.