টাইটানিক থেকে উদ্ধার হওয়া জিনিস নিলামে

টলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া বিখ্যাত জাহাজ টাইটানিক থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন ধরনের অন্তত পাঁচ হাজার জিনিস নিলামে তোলা হচ্ছে। চুলের কাঁটা থেকে শুরু করে টাইটানিকের অংশবিশেষও থাকছে এতে। আগামী এপ্রিলে টাইটানিকের ডুবে যাওয়ার শততম বার্ষিকীর প্রাক্কালে এগুলো নিলামে তোলা হবে। নিউইয়র্ক শহর নিলামঘর গার্নসেস অকসনার্স অ্যান্ড ব্রোকারসের উদ্যোগে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এই নিলামঘর গানের দল বিটলসের সদস্যদের ছবি,


প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার ব্যবহূত হীরাসহ বিভিন্ন জিনিস নিলামে তুলে পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। গার্নসেস অকসনার্স অ্যান্ড ব্রোকারসের প্রেসিডেন্ট আরলান ইটিঙ্গার টাইটানিক থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন জিনিসের এই নিলাম এই নিলামঘরের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, আগামী ১১ এপ্রিল সবগুলো জিনিস একসঙ্গে নিলামে তোলা হবে। ইটিঙ্গার বলেন, ‘টাইটানিকের কথা এই বিশ্বের কে না জানে? টাইটানিক ডুবে গিয়ে যে বিয়োগান্তক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে, হলিউডে কি কেউ কখনো এমন বিয়োগান্তক পাণ্ডুলিপি লিখতে পেরেছেন? টাইটানিকের আকর্ষণ কখনো শেষ হওয়ার নয়।’ তিনি জানান, পরবর্তী প্রজন্মকে টাইটানিক সম্পর্কে ভালো ধারণা দিতে সবগুলো জিনিস একসঙ্গে নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিলামে এসব জিনিস কেনার শর্তও দেওয়া হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শন করবেন—এমন ব্যক্তির কাছেই এসব বিক্রি করা হবে। আদালতেরও সে রকম নির্দেশ দেওয়া আছে।
নিলামকারীদের ধারণা, নিলামে এসব জিনিসের দাম ১৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার উঠতে পারে। যেসব জিনিস নিলামে তোলা হবে তার মধ্যে রয়েছে বাচ্চাদের খেলনা, পকেটঘড়ি, তৈজসপত্র, ক্রুদের পোশাক প্রভৃতি। ১৯৮৭, ১৯৯৩, ১৯৯৪, ১৯৯৬, ১৯৯৮, ২০০০ ও ২০০৪ সালের বিভিন্ন সময় জিনিসগুলো টাইটানিকের ধংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
১৯১২ সালে যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে আটলান্টিক মহাসাগরে হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় টাইটানিক। এতে দেড় হাজারের বেশি যাত্রীর মৃত্যু হয়। এটিই ছিল টাইটানিকের প্রথম যাত্রা। মহাসমুদ্রবিদ রবার্ট ব্যালার্ডের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল ১৯৮৫ সালে কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে টাইটানিকের ধংসাবশেষের সন্ধান পায়। এপি।

No comments

Powered by Blogger.