রেলমন্ত্রীর অনুমোদন-পলোগ্রাউন্ডেই হচ্ছে খালেদা জিয়ার জনসভা

ট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠেই খালেদা জিয়ার জনসভা হচ্ছে। গতকাল রোববার বিকেলে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মাঠ ব্যবহারে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়টি বিএনপি নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে আগামী ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামে খালেদা জিয়ার জনসভা করার ব্যাপারে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কেটে গেছে। বিএনপি সূত্র জানায়, গতকাল বেলা আড়াইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক


সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাংসদ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী দেখা করেন। রেলসচিব, মহাপরিচালক ও পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নেতারা জানান, ৯ জানুয়ারি পলোগ্রাউন্ড মাঠ ব্যবহারের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে দেড় লাখ টাকা ভাড়া দেবে বিএনপি। এ ব্যাপারে আজ সোমবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিএনপিকে একটি চিঠি দেবে।
গোলাম আকবর খোন্দকার সন্তোষ প্রকাশ করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গণতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমরা পলোগ্রাউন্ড মাঠ ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছি। আগামী দিনেও সরকার আমাদের সহযোগিতা করবে বলে আশা করছি।’
আগামী ৮ জানুয়ারি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে চার দলের রোডমার্চ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ওই দিন চান্দিনা ও কুমিল্লায় দুটি পথসভা এবং ফেনীর জনসভায় খালেদা জিয়া ভাষণ দেবেন। পরদিন বিকেলে তিনি ভাষণ দেবেন পলোগ্রাউন্ড মাঠে। রেলওয়ে এই মাঠের মালিক।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, পলোগ্রাউন্ড মাঠে এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দিয়েছিলেন। ১৩ বছর পর চার দল মাঠটি ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ১৯৭০ সালে এই মাঠে সমাবেশ করেছিলেন।
বিএনপির অভিযোগ: রোডমার্চ কর্মসূচিকে ঘিরে নগর বিএনপির প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নগরের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করে নেতা-কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করছেন। এতে সরকার-সমর্থকেরা বাধা সৃষ্টি করছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
বিএনপি সূত্রের দাবি, প্রচারণা জমে ওঠায় সরকার-সমর্থকেরা আমীর খসরুর মেহেদীবাগের বাসার সামনে একটি তোরণে গত শনিবার রাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে তোরণের একাংশ পুড়ে যায়। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন মোড় ও সড়কের পাশ থেকে অন্তত ৪০টি ডিজিটাল ব্যানার সরকার-সমর্থকেরা গায়েব করেছে বলে বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন।
আমীর খসরু এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওরা (সরকার-সমর্থক) আমাদের গণজোয়ার দেখে ব্যানার গায়েব করছে। আমার বাড়ির সামনে গেটেও আগুন লাগিয়ে দেয়। প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারের লোকজন এসব করছে। খালেদা জিয়ার সমাবেশে লাখ লাখ মানুষ জমায়েত করে আমরা এসব অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের জবাব দেব।’
এদিকে খসরুর বাড়ির সামনের তোরণে আগুন লাগানোর ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপি গতকাল সকালে সংবাদ সম্মেলন করে। এ জন্য তাঁরা সরকার-সমর্থকদের দায়ী করেন। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (সদর) ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’

No comments

Powered by Blogger.