ফুটবলে ২০১১’র স্মৃতি চিহ্ন

স্পোর্টস ডেস্ক: বিদায় ২০১১। তবে বিদায় নেয়ার আগে বছরটি যথারীতি রেখে যাচ্ছে তার নিজস্ব স্মৃতি চিহ্ন। অনন্য কীর্তি আর গৌরবগাঁথা। বাদ যায়নি ফুটবলেও। অসাধারণ নৈপুণ্যে বছরজুড়ে বিশ্ব ফুটবলে জ্বলজ্বলে থেকেছে জাপান, বার্সেলোনা, উরুগুয়ে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো নামগুলো। শেষ হচ্ছে ‘২০১১’ বছরটি। তবে পরিসংখ্যানে রেখে যাওয়া তার সময়ের বিশেষ ঘটনার ‘বিশেষ সংখ্যাগুলো’  কালের সাক্ষী হয়ে থেকে যাবে যুগে যুগে। ফুটবলে বিশেষত্ব রাখা বছরের এমন কিছু ঘটনা সম্পর্কিত ‘সংখ্যা’ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন। মানবজমিন পাঠকদের সামনে তা তুলে  ধরা হলো:
৯৮৯৪৩
অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের আসর বসেছিল মেক্সিকোতে। অসাধারণ ফুটবল খেলে ফাইনালেও পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। উরুগুয়ের সঙ্গে ফাইনালে মাঠের গ্যালারি ছিল টইটুম্বুর।
মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা মাঠের এই ফাইনাল দেখতে গ্যালারিজুড়ে ছিল ৯৮ হাজার ৯৪৩ জন দর্শক। কোন ফুটবল ম্যাচে যা ছিল বছরের সর্বোচ্চ সংখ্যক দর্শক উপস্থিতি।
১৭৮
ইতিহাসে কোন ফুটবলারের খেলা সর্বাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ। গত মাসে ব্রাজিলের কাছে ০-২ গোলে পরাজয়ের ম্যাচে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১৭৮ নম্বর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন মিশরের আহমেদ হাসান। ভাগ বসান সৌদি আরবের সাবেক গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল দেইয়ার রেকর্ডে। ২০০৬ সালে অবসরে যাওয়া এ সৌদি গোলরক্ষক ছিলেন এককভাবে এ গর্বের অধিকারী। তবে ক্যারিয়ার সচল থাকা মিশর তারকা হাসানের সুযোগ রয়েছে দেইয়াকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।
১৫০
এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোচ হোসে মরিনহোর অনন্য এক কৃতিত্বের সাক্ষী। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তার অধীনে থাকা দলগুলোর নিজ মাঠে টানা ১৫০ ম্যাচে অপরাজিত ছিলেন এ পর্তুগিজ স্পেশাল ওয়ান। অনন্য এ রেকর্ড গড়তে মরিনহো পাড়ি দেন দীর্ঘ নয় বছর এক মাস দশ দিন ও কোচ হয়ে চারটি পৃথক ক্লাব। মোকাবিলা করেন ১০৭ জন কোচের ভিন্ন ভিন্ন ফুটবল কৌশল। তবে মরিনহোকে এ বছর অবশেষে থামাতে পেরেছেন স্পেনের লা-লিগার দল স্পোর্টিং গিজনের কোচ ম্যানোলো প্রিসিয়াডো। এপ্রিলে সান্টিয়াগো বার্নাব্যুর ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে পরাজিত করে স্পোর্টিং গিজন।
১১০
সংখ্যাটির সঙ্গে জড়িত রিভার প্লেট  ক্লাব। বিখ্যাত এ আর্জেন্টাইন ক্লাবের সমর্থকদের জন্য হতাশার ছিল বছরটি। ক্লাবের ১১০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যায় তারা।
১০৮
এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই ফুটবলারের সম্মিলিত কীর্তি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এ বছর ৫১ ম্যাচে ৫৩ গোল করেছেন রোনালদো। আর ৫৭ ম্যাচে ৫৫ গোল বার্সেলোনার লিওনেল মেসির।
৭৫
সংখ্যাটি জাপানের জন্য অপেক্ষার পরিমাপক। ফুটবল খেলছে জাপানিরা ৭৫ বছর ধরে। এ বছর দেখতে পায় প্রথম শিরোপা। ফাইনালে শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্রকে পেনাল্টি শুটআউটে পরাজিত করে ২০১১ মহিলা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় জাপান।
৩২
দিয়েগো ফোরলান। উরুগুয়ের এ তারকা স্ট্রাইকার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ৩২ গোল করে ছাড়িয়ে যান সাবেক লিজেন্ড হেক্টর স্কেরনের ৩১ গোলের কীর্তিকে। সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলারের খেতাব অর্জনকারী ফোরলান ৮৪ ম্যাচ নিয়ে দেশের পক্ষে খেলে নিয়েছেন সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচও।
১৯
এ বছর ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে ১৯তম শিরোপা জিতে রেকর্ড গড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে প্রিমিয়ার লীগে ম্যাচ খেলার রেকর্ডে ম্যানইউ তারকা রায়ান গিগস ছাড়িয়ে যান ডেভিড জেমসকে। এটি ছিল ওয়েলসের তারকা গিগসের ৫৭৩ নম্বর প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচ।
১৫
পনের মিলিয়ন ইউরোতে পর্তুগিজ ক্লাব এফসি পোর্তো থেকে চেলসিতে নাম লেখান আন্দ্রেস ভিলাস বোয়াস। নাম লেখান রেকর্ড বইয়ে ইতিহাসে সবচেয়ে দামি কোচ হিসেবে। তার আগে নিজের গড়া আরেক রেকর্ডে ৩৩ বছর ২১৩ দিন বয়সী বোয়াস কোচ হয়ে ওস ড্রাগোয়াস দলকে জেতান ইউরোপা লীগ শিরোপা। এ অর্জনে ইতিহাসে  সর্বকনিষ্ঠ কোচ তিনি।

অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে কলম্বিয়াকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপ জেতে ব্রাজিল। কাপের ৩৪ বছরে ফাইনাল ম্যাচে সর্বোচ্চ ব্যবধানের খেলা ছিল এটি। টুর্নামেন্টে নতুন ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো ফাইনাল ম্যাচে হ্যাটট্রিকের গৌরব পান ব্রাজিল স্ট্রাইকার অসকার। মজার ব্যাপার, গ্রুপপর্বের খেলায় এক গোলও ছিল না অসকারের।

এটা জাপানের গর্বের সংখ্যা। এ বছরের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো এশিয়ান কাপ জিতে নেয় জাপান। ছাড়িয়ে যায় এর আগের সর্বোচ্চ তিন এশিয়ান শিরোপাধারী সৌদি আরব ও ইরানকে।

No comments

Powered by Blogger.