বিশেষ কৃতজ্ঞতায়...

নাটক শেষ হওয়ার পর যখন লেখা উঠতে থাকে, তখন দেখবেন কিছু কিছু নাম তথা মানুষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। কেন জানানো হয়, সেটা অবশ্য লেখা থাকে না। তবে আমরা বিস্তারিত লিখে দিচ্ছি। সঙ্গে থাকার জন্য অনুরোধ করছেন ইকবাল খন্দকার


যাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা
আমার জনৈক বদমেজাজি স্যার
কৃতজ্ঞতা জানানোর কারণ: পড়া না পারার অপরাধে তিনি আমার দিকে জালি বেত নিয়ে তেড়ে এসেছিলেন। আমি জানালা দিয়ে লাফ মেরে সেই যে দৌড়ে পালিয়েছিলাম, আর স্কুলে যাইনি। সেদিন যদি তাঁর তাড়া খেয়ে না পালাতাম, তাহলে হয়তো বিএ-এমএ পাস করে চাকরি করতে হতো। নাটক বানানো আর হতো না।

জনৈক অতিজনপ্রিয় নাট্যপরিচালক
কৃতজ্ঞতা জানানোর কারণ: কেন তিনি এত জনপ্রিয়, এটা জানার জন্য ওনার কয়েকটা নাটক দেখেছিলাম। দেখে মনে হলো, উনি নাটকের নামে যা বানাচ্ছেন, এর চেয়ে ভালো জিনিস আমি সেকেন্ডে সেকেন্ডেই বানাতে পারব। তাঁর বানানো ওই সব ছাইপাঁশ যদি না দেখতাম, তাহলে হয়তো এটা আমার মনেই হতো না।

আমাদের বাসার কাজের বুয়া
কৃতজ্ঞতা জানানোর কারণ: আমি নাটক বানাতে চাই, আমার মুখে এই ডায়লগ শুনে আমার বাবা নির্দেশ দিয়েছিলেন আমার খানা বন্ধ করে দিতে। সেদিন যদি কাজের বুয়াটা না থাকত, তাহলে লুকিয়ে লুকিয়ে খাবার পাঠানোর জন্য আমার পক্ষে লোক পাওয়াটা টাফ হয়ে যেত। এদিকে আমি শুকিয়ে কাঠবডি হয়ে যেতাম।

বাসার পাশের ফ্লেক্সির দোকানদার
কৃতজ্ঞতা জানানোর কারণ: এই ফ্লেক্সির দোকান থেকে ফ্লেক্সিলোড করেই আমি প্রথম প্রডিউসারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। এমনও তো হতে পারত, ফ্লেক্সি থাকা সত্ত্বেও এই দোকানদার মুখ-গলা শুকিয়ে বলতে পারত, ফ্লেক্সি শেষ। তখন আমি কী করতাম! মোবাইল ফোন কোম্পানির হেড অফিস থেকে ফ্লেক্সি করে আনা তো আর সম্ভব হতো না, তাই না!

লাল শার্ট পরা সেই রিকশাওয়ালা
কৃতজ্ঞতা জানানোর কারণ: বাপরে বাপ, লাল শার্ট পরা সেই রিকশাওয়ালা কী স্পিডেই না সেদিন রিকশা ড্রাইভ করেছিল। যদি এত স্পিডে ড্রাইভ না করত, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ে প্রডিউসারের অফিসে পৌঁছাতেও পারতাম না, টাকাও পেতাম না। নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে তাকে ধরতে না পারলে জীবনেও টাকা দিত বলে মনে হয় না।

প্রোডাকশন ম্যানেজার
কৃতজ্ঞতা জানানোর কারণ: শুটিংয়ের দিনগুলোতে প্রোডাকশন ম্যানেজার এমন এক হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করেছে, যে হোটেলের খাবারে মাঝারি সাইজের ইটের কণা ছিল। কামড় দেওয়ামাত্র কড়াৎ করে উঠত। এতে খাওয়ার রুচি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেকেই খেত না। ফলে বেশ কিছু প্যাকেট ফেরত দিয়ে আর্থিক সাশ্রয় করার সুযোগ পেয়েছিলাম।

জনৈক টিভি চ্যানেলের পিয়ন
কৃতজ্ঞতা জানানোর কারণ: বসের সঙ্গে পিয়নের এত খাতির থাকে, জানতামই না। অথচ এই পিয়ন সাহেব নিজেই আমাকে তার বসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। ফি হিসেবে মাত্র কয়েক প্যাকেট বিড়ি খাওয়ার টাকা নিয়েছে। সে যদি তার বসের সঙ্গে পরিচয় না করাত, তাহলে নাটকটা প্রচারের জন্য লবিং করার চান্সই পেতাম না।

আমি স্বয়ং
কৃতজ্ঞতা জানানোর কারণ: আরে বাবা, এমনও তো হতে পারত, আমি বিভিন্ন সেক্টরে ঠিকঠাকমতো তেল মারতে পারলাম না। আবার এটাও হতে পারত, নায়িকার সঙ্গে ফুসুরফাসুর করতে গিয়ে শুটিংই শেষ করতে পারলাম না। এই যে আমি এত এত কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে পারলাম, এর জন্য আমি নিজে কি ধন্যবাদ পাওনা নয়? অবশ্যই পাওনা।

No comments

Powered by Blogger.