পল্টন এলাকা বিএনপির-বাকি ঢাকা আ. লীগের by পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য

সমাবেশ করার জন্য বিএনপিকে নয়াপল্টন এলাকায় সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা থাকবেন রাজধানীজুড়ে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির 'ঢাকা চলো' কর্মসূচিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রস্তুত শাসক দল।


অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি বিএনপির সমাবেশে অধিক লোক সমাগম ঠেকাতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। যেকোনো উপায়ে তাঁরা বিএনপির সমাবেশস্থল নয়াপল্টনে লোক ঢোকার ক্ষেত্রে নানামুখী বাধার সৃষ্টি করবেন। বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগও আজ ঢাকার রাজপথে সতর্ক অবস্থান নেবে। তাদের কৌশল হচ্ছে- বিএনপির কর্মসূচিস্থল নয়াপল্টন এলাকার বাইরে রাজধানীর কোথাও বিএনপির ও সমমান দলগুলোর ২০ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে অবস্থান করতে দেবেন না ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাজধানীর প্রতিটি থানায়, ওয়ার্ডে, পাড়ায়-মহল্লায় অবস্থান নেবেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে অবস্থান করবেন।
ঢাকার বাইরে থেকে আসা লোক ঠেকাতে ইতিমধ্যে রাজধানীর সঙ্গে পুরো বাংলাদেশের যোগাযোগ বিছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। এরপরও আজ ঢাকার প্রবেশ পথগুলোয় সংসদ সদস্যরা থাকবেন অতিরিক্ত সতর্ক। সকাল থেকেই প্রবেশ পথগুলোতে বসানো হবে সতর্ক পাহারা। বিএনপি নেতা-কর্মীবাহী অথবা সাধারণ যানবাহন কিছুই আজ রাজধানীতে ঢুকতে দেবেন না তাঁরা।
শাসক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ ঢাকার সব অফিস খোলা থাকবে। দলের ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা আজ সারা দিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলের প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করবেন। তাঁরা সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ রাখবেন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে। কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তাঁরা নিজ নিজ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মনিটরিং করবেন। প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি সকাল থেকে দলীয় নেতারা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির অফিসেও অবস্থান নেবেন। আওয়ামী লীগ সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গতকাল রবিবার আওয়ামী লীগের মানববন্ধন শেষে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। সেখানে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের আজকের করণীয় সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা দেন। আজ সকাল থেকেই নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা ঢাকার কোনো এলাকা থেকে বিএনপিকে কোনো মিছিল বের করতে দেবেন না। পাশাপাশি কোনো এলাকা থেকে বাসে করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের জনসভায় যেতে দেওয়া হবে না। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যাতে ছাত্ররা মিছিল করে জনসভাস্থলে যেতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে ছাত্রলীগ। জনসভা উপলক্ষে কোনো মিছিল বের করতে দেবেন না তাঁরা।
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব রকমের ব্যবস্থা নেবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে। গতকাল রবিবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মানববন্ধন কর্মসূচিতে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীসহ জঙ্গি সংগঠনগুলোর ক্যাডাররা রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়েও সহিংসতা ঘটাতে পারে- এই আশঙ্কা থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাখবেন নজরদারি।
বিরোধী দলের আজকের কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের পদক্ষেপ সম্পর্কে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, সকাল থেকেই নেতা-কর্মীরা সতর্ক অবস্থায় থাকবেন। বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি হতে পারে- এমন কিছু হলেই তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেবে।

No comments

Powered by Blogger.