আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রস্তুত by মোছাব্বের হোসেন

ধুলোবালুর এই মহানগরে সকালের রোদে জ্বলজ্বল করছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে বেশি গোছালো আর ছিমছাম। শহীদ মিনারের সামনে রাস্তার পাশের দেয়ালে রঙের সমারহ। তাতে আঁকা হয়েছে বিভিন্ন লোকজ আল্পনা। তার ওপরে লেখা হচ্ছে একুশের কবিতা, গানের পঙিক্ত, বিখ্যাত মানুষদের উক্তি।


গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। শহীদ মিনারের বিভিন্ন স্থান ধোয়ামোছায় ব্যস্ত ছিলেন কিছু মানুষ। মূল বেদিসহ কয়েটি স্থানে রঙের কাজ শেষ হয়েছে। চারদিকে বাঁশের বেষ্টনী। বাঁশ মোড়ানো হয়েছে সাদা কাপড়ে। আশপাশের গাছগুলোর নিচের অংশেও সাদা রং লাগানো হয়েছে। বাতি লাগানো ও বৈদ্যুতিক কাজও চলছিল জোরেসোরে। আগামীকাল ২১ ফেব্রুয়ারি, তাই শহীদ মিনারকে ঘিরে এই তৎপরতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপনের মূল দায়িত্ব পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। প্রতিবছর একুশের প্রথম প্রহরের পর কিছুটা বিশৃঙ্খলা হয়। এবার যাতে সেটি কম হয়, সে জন্য আমরা সচেষ্ট থাকব।’
শহীদ মিনারেই কথা হয়েছিল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফের সঙ্গে। তিনি বলেন, শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই এই এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন রাখা হয়। অন্য সময়ে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে, পরিচ্ছন্ন থাকে না, ভবঘুরে ঘোরাফেরা করে। সারা বছর পরিচ্ছন্নতার কাজ চলা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
এ বছরও শহীদ মিনারে আল্পনার কাজ করছেন চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। ওই অনুষদের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বললেন, ‘সারা বছর আমরা মুখিয়ে থাকি শহীদ মিনারে আল্পনা আঁকার জন্য।’ তিনি জানালেন, আঁকার কাজ শুরু হয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি, চলবে আজ রাত পর্যন্ত।’
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশ বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। র‌্যাব সদর দপ্তরের উপসহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শহীদ মিনার ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাঁদের পক্ষ থেকে ১৮টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোন। রমনা জোনের উপপুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, শহীদ মিনারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থানে আর্চওয়ে বসানো হবে। সন্দেহ হলে ব্যক্তির দেহ তল্লাশি হবে। আশপাশে সাদা পোশাকেও পুলিশ থাকবে। এই এলাকায় বিভিন্ন স্থানে পুলিশের পক্ষ থেকে ৪২টি সিসি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে র‌্যাব ও পুলিশের মধ্যে
সমন্বয় আছে।

No comments

Powered by Blogger.