মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপস্থাপন চলছে

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ উপস্থাপন চলছে। রাষ্ট্রপক্ষ গতকাল রোববার তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ১২২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়া শেষ করেছে।
এদিকে আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগের বিষয়ে শুনানির দিন ৪ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ উপস্থাপন শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেদিন অভিযোগের ৪৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়া শেষ হয়। গতকাল দ্বিতীয় দিনে ট্রাইব্যুনালে ৪৫ থেকে ১২২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়া শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। দুপুর ১২টার দিকে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ পড়া শুরু করে। দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত অভিযোগ উপস্থাপন চলে। ১৯১ পৃষ্ঠার অভিযোগের বাকি অংশ আজ সোমবার পড়া হতে পারে।
গতকাল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজাকার ও শান্তি কমিটি গঠন, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর উদ্ভব ও এর গঠন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর বাহিনী গঠন প্রভৃতি বিষয় ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এ কে এম সাইফুল ইসলাম, সুলতান মাহমুদ ও নূরজাহান মুক্তা অভিযোগ পাঠ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও হিন্দুধর্মাবলম্বীদের নিশ্চিহ্ন করতে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ এসব সহযোগী বাহিনীতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। আলবদর বাহিনী গঠনের মাত্র তিন মাসের মধ্যে সারা দেশে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। মূলত ছাত্রসংঘের নেতা-কর্মীরাই এ বাহিনীতে ছিলেন।
কৌঁসুলিরা শান্তি কমিটি, আলবদর, আলশামস বাহিনী গঠনের বিষয়ে সে সময়ে দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক আজাদ ও দৈনিক পাকিস্তান-এ প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন।
কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি ৪ মার্চ: অভিযোগের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য থাকায় কাদের মোল্লাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম শুনানি মুলতবির আরজি জানিয়ে বলেন, অনেক পৃষ্ঠা পাঠযোগ্য না থাকায় শুনানির জন্য তাঁরা প্রস্তুতি নিতে পারেননি। ওই সব পৃষ্ঠা তিনি আবার সরবরাহের আবেদন জানান।
ট্রাইব্যুনাল ৪ মার্চ অভিযোগের বিষয়ে শুনানির দিন পুনর্নির্ধারণ করেন। এ ছাড়া ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাঠের অযোগ্য পৃষ্ঠাগুলো আবার সরবরাহের জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন।
তাজুল ইসলাম পরে সাংবাদিকদের বলেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মামলার নথির ২৫৮টি পৃষ্ঠা পাঠযোগ্য নয়। এ ছাড়া তালিকায় থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ তাঁদের ১৩টি নথি সরবরাহ করেনি। এ জন্য তাঁরা প্রস্তুতি নিতে পারেননি।

No comments

Powered by Blogger.