বিএনপির উচিত তার অবস্থান পরিষ্কার করা-খালেদার ইতিবাচক মনোভাব

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে দেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এই সফরের সময় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে দলটির প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার। বৈঠকের পর বিএনপির মুখপাত্র বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দুই নেতাই একযোগে কাজ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।


বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেকে বিএনপির অবস্থানকে ভারতবিরোধী বলে মনে করে থাকেন, সেই বিবেচনায় মনমোহন ও খালেদা জিয়ার এই বৈঠক ও আলোচনা খুবই আশাব্যঞ্জক।
বৈঠকের সময় খালেদা জিয়া তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি না হওয়ায় মনমোহন সিংয়ের কাছে হতাশা প্রকাশ করেছেন। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, সরকার এককভাবে ও কোনো আলাপ-আলোচনা না করে এই চুক্তির উদ্যোগ নিলেও বিএনপি চেয়েছিল, এই চুক্তি হোক। কারণ, বিষয়টি শুধু সরকারের নয়, গোটা দেশের। অন্যদিকে একই বৈঠকে খালেদা জিয়া মনমোহনের কাছে দলের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন, বিএনপি দক্ষিণ এশিয়া ও বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে। ট্রানজিটের ব্যাপারে তিনি সরাসরি কিছু না বললেও আমরা জানি যে ট্রানজিট-ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমেই একমাত্র এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু দেশবাসীর সাধারণ ধারণা, বিএনপি ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার বিপক্ষে। গতকালও বিএনপি দাবি করেছে, সরকার ভারতের সঙ্গে গোপনে ট্রানজিট চুক্তি করেছে এবং দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে। তাই এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান আসলে কী, তা পরিষ্কার করা উচিত।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়টি কোনো দলীয় সরকারের বিষয় নয়, দেশ ও জনগণের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ব্যর্থতা মানে সামগ্রিক বিচারে দেশের ক্ষতি। পরিপক্ব গণতন্ত্রের দেশে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে যেকোনো ধরনের চুক্তি বা সমঝোতার ক্ষেত্রে একটি রাজনৈতিক মতৈক্য গড়ে তোলা হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়। আমাদের দেশে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো বিষয়েই কথা হয় না।
বাংলাদেশ ও ভারত যেমন দুটি প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ, তেমনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নানা সংবেদনশীল দিকও রয়েছে। ফলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এ ক্ষেত্রে একটি রাজনৈতিক মতৈক্য থাকা খুবই জরুরি। আমরা মনে করি, দেশের বর্তমান প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির উচিত ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবস্থানটি পরিষ্কার করা। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতার রাজনীতি অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

No comments

Powered by Blogger.