বস্ত্র ও পোশাক খাত-শিল্পের প্রসারে দিতে হবে প্রণোদনা

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প অনেকটাই এগিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব একটি বাজার সৃষ্টি করতে পেরেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক। বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদার কারণে প্রতিবছর বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান।


কিন্তু জাতীয় সংসদে এবার যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে এই খাতে করারোপের ক্ষেত্রে সন্তুষ্ট নয় পোশাক খাতের তিন সংগঠন_বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএ। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন তিন সংগঠনের নেতারা।
পোশাক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন সংগঠনের নেতারা এক সংবাদ সম্মেলনে পোশাক খাতে উৎসে আয়কর কমানো ও নগদ সহায়তা বাড়ানোর দাবি করেছেন। বস্ত্র খাতের উন্নয়নে সরকারের কাছে আট দফা দাবি পেশ করেছেন তাঁরা। তাঁরা বলেছেন, বাজেট প্রস্তাবনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পোশাক খাত। উৎসে আয়করের হার দশমিক ৪০ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের ফলে আয়করের হার বাড়বে ২৭৫ শতাংশ। পোশাক খাতের তিন সংগঠনের নেতারা বলছেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে এই শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর এই শিল্প থেকে অর্জিত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪২ শতাংশ। এখানে আরো উল্লেখ করা যেতে পারে, গত বছর পোশাক খাতে আমদানি যেমন বেড়েছে, তেমনি আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের ঋণ নিতে হয়েছে। ব্যবসা এখন মূলত ঋণনির্ভর। সে ক্ষেত্রে এই খাতের ওপর ব্যাংক-বীমা ব্যবসাও অনেকটা নির্ভর করে। অন্যদিকে গত বছর এই শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে শিল্প মালিকদের ব্যয় বেড়েছে, বেড়েছে উৎপাদনব্যয়। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে উৎপাদনব্যয় কমাতে হবে। তা না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না_সংবাদ সম্মেলনে এবং অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁরা সে কথাই বলেছেন। তাঁরা গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকদের আবাসন ঋণেরও দাবি করেছেন।
এই শিল্পের তিন সংগঠনের মধ্যে এর আগে সমন্বয়হীনতা ছিল। একটি দাবিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে মতৈক্য হয়েছে, এটা শিল্পের জন্য শুভ লক্ষণ।
তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের জন্য একটি বড় আশীর্বাদ। এই শিল্পের সহায়ক শিল্পও এখানে বিকশিত হচ্ছে। শিল্পের এই বিকাশের পথকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। শিল্পকে বিকশিত হতে দিতে হবে। প্রয়োজনে তার জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। অবশ্য এই শিল্পের জন্য নগদ সহায়তার ব্যবস্থা ছিল। পোশাক খাতের শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে এনে এই শিল্পের বিকাশে সম্ভব সবকিছুই করা হলে বিকাশ আরো দ্রত হবে।

No comments

Powered by Blogger.