চরাচর-জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি by ফখরে আলম

৬ নম্বর দ্বারকানাথ ঠাকুর লেনের জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি কোথায় তা কলকাতার অনেকেই জানেন না। ঠাকুরবাড়ির আশপাশেও দ্বারকানাথ লেনের নাম লেখা নেই। বাজারের শেষ মাথায় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি। ঠাকুরবাড়ির আশপাশে জমজমাট সব ব্যবসাকেন্দ্র। বেশির ভাগই অবাঙালিদের দোকান। তারা রবীন্দ্রনাথ পাঠ করেনি।


ঠাকুরবাড়ি ঘুরে দেখেনি। এমন বাস্তবতায় অনেক কবিপ্রেমিক বড় বাজারের ভিড় ঠেলে ঠাকুরবাড়ির বিরাট গেটের সামনে এসে দাঁড়ায়। কবিকে প্রণাম করে। দেবদারুগাছে ঘেরা লাল রঙের এ তিনতলা ঠাকুরবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ বাংলা ১২৬৮ সনের ২৫ বৈশাখ জন্মগ্রহণ করেন। কবির শৈশবকাল, বেড়ে ওঠা, পরিণয়, প্রয়াণ_সব এ বাড়ির আলোকময় স্মৃতি। কবি বিত্ত-বৈভবের মধ্যে এ বাড়িতে বড় হলেও তিনি গৃহশিক্ষকের কাছে পড়েননি। স্কুলেও যাননি নিয়মিত। তিনি প্রকৃতি ও জীবন থেকে পাঠ নিয়েছেন। আর সেই পাঠ, সেই জ্ঞান দুই হাতে শস্যবীজের মতো, মুক্ত দানার মতো পৃথিবীতে ছড়িয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ যশোরের প্রেমের কারণে তৎকালীন যশোরের ফুলতলার দক্ষিণডিহির মৃণালিনীকে ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বিয়ে করেন। ঠাকুরবাড়িতেই সে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯১৫ সালে এ বাড়িতেই কবি গড়ে তোলেন সাংস্কৃতিক সংগঠন বিচিত্রা ক্লাব। এ বাড়ির বিচিত্রা ভবনের দোতলার উত্তর-পশ্চিম কোণের কক্ষে ১৯০২ সালের ২৩ নভেম্বর প্রিয়তমা স্ত্রী মৃণালিনী দেহত্যাগ করেন। এ বাড়ি থেকেই রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের বিজয় বৈজয়িন্তী ঊধর্ে্ব তুলে ধরে বিশ্বসাহিত্যের দুনিয়া ভ্রমণ করেছেন। তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয় করে বাংলা সাহিত্য ও বাঙালির মুখ চির উজ্জ্বল করেছেন। ১৯৪১ সালের ২৫ জুলাই শান্তিনিকেতন থেকে রবীন্দ্রনাথকে অসুস্থ অবস্থায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি আনা হয়। ৩০ জুলাই বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে তাঁর শরীরে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করেন। এর কয়েক দিন পর ৭ আগস্ট কবির জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু তাঁর মানবতাবোধ, তাঁর বাণী, তাঁর সুর জোড়াসাঁকোর দেয়াল ডিঙিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ভেসে বেড়াচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর সৃষ্টির মধ্যেই জাগ্রত আছেন।
ফখরে আলম

No comments

Powered by Blogger.