অর্থনীতির হালচাল ও মন্ত্রীদের পরামর্শ by হায়দার আকবর খান রনো

একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা যে ধরনের আবোল-তাবোল কথা বলে চলেছেন, তা এক ধরনের হাস্যরস সৃষ্টি করেছে। কম খাওয়ার উপদেশ বা সপ্তাহে এক দিন বাজার না করার প্রেসক্রিপশন দেশব্যাপী বেশ কৌতুকের জন্ম দিয়েছে। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী একটু বেশি বাচাল। ফলে কখন কী বলে ফেলেন, তা হয়তো তাঁরা নিজেরাও বোঝেন না।


বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান আগেও কয়েকবার প্রকাশ্যে এমন সব কথা বলেছেন যে, তাতে রাগ ধরার কথা হলেও রাগ করতে পারিনি বরং কৌতুকবোধ করেছি। একদা বিএনপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো এক মৃত্যুসংবাদে দুঃখ প্রকাশ না করে বলেছিলেন 'আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন।' এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য সেই মন্ত্রীর বুদ্ধিমত্তা ও কাণ্ডজ্ঞান সম্পর্কেই প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল। তবে মন্ত্রীদের কথাবার্তা নিয়ে হাসাহাসি খুব ভালো কথা নয়। কারণ তাঁরা তো কমেডিয়ান নন, তাঁদের ওপর কত দায়িত্ব। দেশ পরিচালনা, নীতিনির্ধারণের কত ধরনের দায়িত্বশীল কাজ। তাঁরাই যখন অদ্ভুত ও উদ্ভট ধরনের সমাধান দেন, বিশেষ করে আমাদের মতো গরিব, না-খাওয়া দেশের লোকের জন্য খাদ্যসমস্যা নিয়ে, তখন আমরা আর কৌতুকবোধ করে হাসতে পারি না। বরং উদ্বেগ বোধ করি।
জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্য। চালের দাম অর্ধশত টাকায় পেঁৗছেছিল অনেক আগেই। অন্যান্য জিনিসের দামও বেড়ে চলেছে হু হু করে। সে তুলনায় সাধারণ মানুষের আয়-রোজগার বাড়েনি। তার মানে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। সাধারণভাবে মুদ্রাস্ফীতির হার হলো ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এই হার যখন দুই অঙ্কে পেঁৗছায়, তখন তা যেকোনো দেশের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। কিন্তু আমার মনে হয়, বর্তমান সরকার বোধ হয় তেমন কোনো উদ্বেগ বোধ করছে না। অন্যথায় অর্থমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রী যে ধরনের কথা প্রকাশ্যে বলে চলেছেন, তা সম্ভব হতো না। সাধারণভাবে মুদ্রাস্ফীতির হার যা, খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে সেই হার আরো বেশি। সেটা হলো ১৩ শতাংশেরও বেশি। এর অর্থ কী? এর অর্থ এটাই যে, গরিব মানুষ কম খেয়ে থাকছে। আমাদের দেশের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ চালসহ সব খাদ্য কিনে খায়। এর মধ্যে আবার ৮০ শতাংশ মানুষ আয়ের ৮০ শতাংশই ব্যয় করে খাদ্যের জন্য। অঙ্কটা অন্যভাবে বলা যাক। আমাদের লোকসংখ্যা ১৪ কি ১৬ কোটি_এ নিয়ে মতবিরোধ আছে। ধরা যাক, ১৫ কোটি। তাহলে ১২ কোটি মানুষ খাদ্যশস্য ও অন্য খাদ্যদ্রব্য বাজার থেকে কিনে খায়। আমার ধারণা, সংখ্যাটা আরো বেশি হবে। আর তার মধ্যে প্রায় ১০ কোটি মানুষ (একটা সাধারণ গড় আনুমানিক হিসাব) তাদের আয়ের ৮০ শতাংশ ব্যয় করে খাবারের জন্য। তারা চিকিৎসায় খরচ করতে পারে না, ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ব্যয়ও হিসাবের বাইরে আর মানুষ হিসেবে বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান, পানীয়জল, বিনোদন_এসব তো কল্পনাও করা যায় না। তা হলে চালের দাম যখন এই হারে বাড়ে, তখন কত কোটি গরিব মানুষ আধা পেট খেয়ে বা কখনো না খেয়ে অথবা অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়ে কোনোমতে বাঁচার চেষ্টা করে? চাল ও অন্য খাদ্যশস্যের (মাছ-মাংসের কথা বাদই দিলাম) দাম যেভাবে গত এক বছরে বেড়েছে, তাতে মধ্যবিত্ত, গরিব ও নিঃস্ব (সবাই মিলে ৯৮ শতাংশ) আরো গরিব হয়েছে। প্রায় ১২ কোটি মানুষ কম খেতে বাধ্য হয়েছে। ঠিক সেই সময় বাণিজ্যমন্ত্রী উপদেশ দিলেন আরো কম খেতে। তাতে নাকি ভেজাল করার প্রবণতা দূর হবে!
আমার মনে পড়ে গেল বিগত ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে (২০০৮ সালে) যখন হঠাৎ করে চালের দাম বেড়ে গেল, তখনই সেই সরকারের জনৈক সচিবও উপদেশ দিয়েছিলেন কম খেতে। তিনি আবার ইসলাম ধর্মের কথা বলে এহেন উপদেশ দিয়েছিলেন। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) নাকি পেটভর্তি করে না খেতে উপদেশ দিয়েছিলেন। তিনি পেটের এক-তৃতীয়াংশ খালি রাখতে বলেছিলেন। কিন্তু সেটা কাদের প্রসঙ্গে প্রযোজ্য? যাদের পেট এমনিতেই খালি থাকে, তাদের প্রসঙ্গে কি ছিল রাসুল (সা.)-এর এই বাণী? নিশ্চয়ই নয়। স্বাভাবিক-সুস্থ মানুষ, যারা অনাহারে থাকে না, নিশ্চিতভাবে তাদের সম্পর্কে এই ছিল রাসুল (সা.)-এর পরামর্শ বা নির্দেশ। সেই পণ্ডিত সচিবের মতো আমাদের বিজ্ঞ মন্ত্রীও বলছেন, 'কম খাও'। সরকারের কল্যাণে যে মানুষ ইতিমধ্যেই কম খেতে শুরু করেছে, সেই খবরটুকুও সম্ভবত মন্ত্রী রাখেন না। হায়! পরিস্থিতি তো তাহলে আরো ভয়াবহ।
আসলেই ভয়াবহ। কারণ একজন মন্ত্রী নন, একাধিক মন্ত্রীই একই সুরে কথা বলতে শুরু করেছেন। যদিও সরকারি দল থেকেই প্রতিবাদ আসছে। আওয়ামী লীগ দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত খাদ্যমন্ত্রীর এহেন উপদেশে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, 'কথা না বলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করুন।' আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের মন্ত্রীকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। বোঝা যাচ্ছে, মন্ত্রীর বেফাঁস কথায় বেশ বেকায়দায় পড়েছে সরকার। তাই সরকারপক্ষীয় অন্য নেতারা ব্যাপারটাকে সামলে নিতে এখন খাদ্যমন্ত্রীকে এককভাবে অভিযুক্ত করে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু খাদ্যমন্ত্রী একাই কি দায়ী? আর এমন কথা কি অন্য কোনো মন্ত্রী বলেননি?
হ্যাঁ, বলেছেন। স্বয়ং অর্থমন্ত্রী বলেছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন সপ্তাহে এক দিন বাজার না করতে। বাণিজ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কথার মধ্যে আসলে কোনো প্রভেদ নেই। অর্থমন্ত্রী বলছেন, সপ্তাহে এক দিন কেনাকাটা বন্ধ রাখুন। তাহলেই ব্যবসায়ীরা ঠেলা বুঝবে। দাম কমে আসবে। শুনেছি, অর্থমন্ত্রী অর্থনীতির ভালো ছাত্র ছিলেন। তিনি জাঁদরেল সচিব ছিলেন। এর আগে তিনি সামরিক শাসক এরশাদের অধীনে অর্থমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর কথাকেও কি আমরা হাসিঠাট্টা করে, কৌতুক অনুভব করে উড়িয়ে দেব? দিতে পারলে অবশ্য ভালো হতো। তাতে হয়তো দুই মন্ত্রীর মান কিছুটা ক্ষুণ্ন হতো, কিন্তু সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন থাকত না।
কিন্তু না, মন্ত্রীদ্বয় কিছুটা হালকাভাবে, কিছুটা চতুরতার অভাব দেখিয়ে যা বলেছেন, তাতে বোধ হয় সরকারের নীতিরই প্রতিফলন ছিল। গরিব মানুষ না হয় আরো একটু কষ্ট ভোগ করুক, একটু কম খাক, দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে পেরে না উঠলে কেনাকাটা কম হোক। তাতে সরকারি নীতিনির্ধারকদের কিছু এসে-যায় না। কারণ তারা তো ধনীদের সরকার। চালের দাম বা খাদ্যদ্রব্য বাড়লে ধনিক শ্রেণীর কিছু এসে-যায় না। তাদের বিলাসজীবনে সামান্যতম হেরফের হয় না। কিন্তু চালের দাম বাড়লে ৯০ শতাংশ মানুষের জীবনে যে কী পরিমাণ দুর্ভোগ নেমে আসে, সে বিবেচনা থাকলে মন্ত্রীরা এমন উপহাসযোগ্য মন্তব্য করতেন না, সরকারও তৎপর হতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে।
এ কথা শতভাগ সত্য যে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দ্রব্যমূল্য কমাবে এবং দিনবদল ঘটাবে। ওটা তো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন শেষ, প্রতিশ্রুতির সমাপ্তি ঘটেছে। কিন্তু রোজার মাসে খাদ্যের দাম বাড়তে দেবে না, এ কথা তো কতবার তারা বলেছে। রোজার মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখাটা ভোটের হিসাবেও জরুরি। এ সময় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা তাই যেকোনো সামান্যতম দায়িত্বজ্ঞানপূর্ণ সরকারের নূ্যনতম কর্তব্য। কিন্তু সেটা করতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থ হয়েছে, নাকি তেমন কোনো সদিচ্ছাই ছিল না?
সদিচ্ছার কথাটি কেন বলছি, তার একটু ব্যাখ্যা দেওয়া দরকার। বর্তমান সরকার নিজেই মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে, যদিও সংবিধানে সমাজতন্ত্রের কথাটি লেখা আছে। মুক্তবাজারের দর্শনে বাজারে হস্তক্ষেপ চলে না। তাই দেখি, সরকার এ প্রসঙ্গেও একেকবার একেক কথা বলে। কখনো বলছে, বাজারে কোনো সিন্ডিকেট নেই, কখনো বা বলছে, আছে। এরও কারণ আছে। সরকারের প্রভাবশালী লোকরাই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট ভাঙা ধনিক শ্রেণীর মহাজোটের সরকারের সাধ্যের বাইরে, ইচ্ছারও বাইরে।
দ্রব্যমল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সহজ উপায় ছিল যদি সরকার নিজে ১. সব মানুষের জন্য রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করত এবং ২. ন্যায্যমূল্যের দোকান খুলত। পাশের দেশ ভারতেও রেশনিংয়ের ব্যবস্থা আছে। আমাদের দেশেও আশির দশক পর্যন্ত রেশন প্রথা ছিল। তারপর সামরিক শাসক এরশাদ বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের নির্দেশে স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট কর্মসূচি অনুযায়ী রেশন প্রথা তুলে দিলেন। এটা করা হয়েছিল সাম্রাজ্যবাদ ও বহুজাতিক করপোরেশনের স্বার্থে। পরবর্তী সময়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একই নীতি অনুসরণ করে চলেছে। কারণ শ্রেণী-চরিত্র উভয়ের একই।
একই কথা কৃষিতে ভর্তুকি হ্রাস প্রসঙ্গে। সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক হাতিয়ার বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সব রকম ভর্তুকির বিরুদ্ধে (যদিও ইউরোপ ও আমেরিকার ধনী দেশগুলো কৃষিতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে থাকে)। আমাদের অতীত ও বর্তমানের সব সরকারই সাম্রাজ্যবাদের আজ্ঞাবহ। তাই একদা বামপন্থী নেত্রী কৃষিমন্ত্রী কৃষিতে ভর্তুকি কমিয়ে দিচ্ছেন। হঠাৎ করে সারের মূল্যও এক লাফে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সবই ধনীকে তুষ্ট করা আর গরিবকে ঠকানোর নীতি। তাহলে গরিবকে কম খাওয়ার আর কম বাজার করার উপদেশে চমকে ওঠার কিছুই নেই। গরিবকে কম খাইয়ে, কম দিয়ে যে নীতি অনুসরণ করে চলেছে ধনীদের সরকার, সেটাই সরাসরি বলে ফেলেছেন দুই মন্ত্রী।
এই সরকারের সব নীতিই ধনীদের পক্ষে, লুটেরাদের পক্ষে। আর লুটেরা ধনীদের পক্ষে থাকতে হলে, গরিবদের মারতে হবে। এ তো সহজ হিসাবের কথা। সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ঢুকে গেছে। তাই টেন্ডারবাজি নিয়ে খুনাখুনি হচ্ছে সরকারদলীয় অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যেই। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যেই। এভাবে টেন্ডারবাজি চললে অথবা বিচারপতি হাবিবুর রহমানের ভাষায় দেশ যদি বাজিকরদের হাতে গিয়ে পড়ে, তাহলে আর যাই হোক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য। হয়েছেও তাই। এর কিছু ভয়াবহ পরিণাম আমরা লক্ষ করছি। যেমন_মুদ্রাস্ফীতি বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আরো লক্ষণীয় যে ব্যাংকে কিন্তু তারল্য সংকট রয়েছে। দুটো একসঙ্গে চলা কোনো স্বাভাবিক গতিসম্পন্ন অর্থনীতির লক্ষণ নয়। সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এ বড় রকমের অশনিসংকেত।
শেয়ারবাজারের কেলেঙ্কারিতে সর্বনাশ হয়েছে কয়েক লাখ মধ্যবিত্তের। শেয়ারবাজারের ব্যাপারটির মধ্যে কিছুটা জুয়ার কারবার আছে। কিন্তু এখানে যেভাবে পরিকল্পিতভাবে শেয়ারবাজার থেকে লাখ লাখ খুদে বিনিয়োগকারীর সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাকে স্বাভাবিক বলা চলে না। একই ঘটনা ঘটেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, ১৯৯৬ সালে। তখনো সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট কয়েক ব্যক্তি লুটে নিয়েছিল সাধারণ মানুষের বহু কষ্টে অর্জিত সব সম্পদ, জমি বেচা, গয়না বেচা টাকা, বহু পরিশ্রমে রোজগার করা সামান্য সঞ্চয়। এবারও আবার একই ঘটনা ঘটল। প্রতিবার আওয়ামী লীগ আমলে ঠিক একই ঘটনা ঘটে কেন? অবশ্য তার মানে এই নয় যে বিএনপি আমল তুলনামূলক ভালো ছিল। উভয়ই একই শ্রেণীর প্রতিনিধি। তাহলে ভালোটা হবে কিভাবে?
১৯৯৬ সালের মতো এবারও কত হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে, তার কোনো সঠিক হিসাব আমাদের নেই। মন্ত্রী বলছেন, কোনো টাকা বিদেশে যায়নি। কিন্তু অভিজ্ঞ লোকরা বলবেন, কোথাও কেলেঙ্কারির টাকা এবং সামগ্রিকভাবে দুর্নীতির টাকা দেশে পুনর্বিনিয়োগ হয় না, বেশির ভাগটাই চলে যায় বিদেশে। তাই ডলারের মূল্য হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশ্চর্য! সাম্প্রতিক সময়ে সারা দুনিয়ায় ডলারের দাম কমছে আর টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ছে। এসব কিসের লক্ষণ? আর যাই হোক, অর্থনীতির স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। বরং বড় রকমের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় মাননীয় প্রভাবশালী মন্ত্রীরা কম খাওয়া বা এক দিন সাপ্তাহিক বাজার না করার উপদেশ দেওয়া ছাড়া আর কীই-বা বলবেন, কীই-বা করবেন?
লেখক : রাজনীতিক ও কলামিস্ট

No comments

Powered by Blogger.