খুনিদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে-বখাটের হাতে মুক্তিযোদ্ধা বাবা খুন

যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাত আলী। দুঃস্বপ্নেও কি ভেবেছিলেন যে স্বাধীন দেশে সন্তান নির্বিঘ্নে চলাফেরা করবে, এটা চাইতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হবে বাবাকে? মো. জিন্নাত আলীর এই মৃত্যুর জবাব কী?
জিন্নাত আলীর কলেজপড়ুয়া মেয়ের ওপর বখাটে সন্ত্রাসীদের অবিরাম উপদ্রবের বিবরণ ছাপা হয়েছে বোরবারের প্রথম আলোয়।


বিচ্ছিন্ন বা নতুন বিষয় এটি নয়; বখাটে উত্ত্যক্তকারীদের উপদ্রব সইতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে অনেক অভিমানী কোমলপ্রাণ কিশোরী। যখন এ ধরনের ঘটনায় অপরাধীদের শাস্তি হয় না, তখন এর পুনরাবৃত্তিই ঘটতে থাকে।
রূপম দে নামের এক বখাটে জিন্নাত আলীর ছোট মেয়েকে কলেজে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করত। বাবা জিন্নাত আলী রূপমকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তার ফলে তাঁর মেয়ের হয়রানি কমেনি, উল্টো বরং বাবা জিন্নাত আলীকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিল রূপম। জিন্নাত বরিশাল নগরের কাউনিয়া থানায় এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এবং তার ফল হয় আরও ভয়ানক: রূপম জিন্নাত আলীকে মোবাইলে ফোন করে তাঁকে হত্যা করে তাঁর মেয়েকে অপহরণ করার হুমকি দিয়েছিল। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, জিন্নাত আলীর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা তাঁর থানাধীন এলাকায় ঘটেনি বলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি, বরং তিনি জিন্নাত আলীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন কোতোয়ালি থানায় জিডি করতে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁরা জিডির বিষয়ে কিছু জানতেন না।
থানা-পুলিশের এসব প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল জিন্নাত আলীর খুন হয়ে যাওয়ার পর। তাঁর প্রাণের নিরাপত্তা দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাঁকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ রূপমের বন্ধু আরিফুরকে গ্রেপ্তার করেছে। জিন্নাত আলীকে ছুরি মেরে মুমূর্ষু করার পরে সাংবাদিকেরা মুঠোফোনে রূপমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে তাঁদের জানায়, সে জিন্নাত আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে তার বন্ধু আরিফুর রহমান মিঠুর নির্দেশে।
মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাত আলীর লাশ নিয়ে বরিশালে এখন বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছে; তাঁর মেয়ের কলেজের সহপাঠীরা সড়ক অবরোধ করছে। গোটা বরিশাল বিক্ষুব্ধ। অপরাধীদের কঠোরতম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার, যেন ভবিষ্যতে কেউ এমনটা করার সাহস না পায়।

No comments

Powered by Blogger.