সাক্ষাৎকার-দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি বৈঠক হতে হবে by বীণা সিক্রি

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : শেখ রোকন সমকাল : সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা এসেছিলেন। বহুল প্রত্যাশিত এ সফর দুই দেশের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে পারেনি। কেউ কেউ বলছে, এই সফর ব্যর্থ। আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।


বীণা সিক্রি :আমি মনে করি, সম্পর্কোন্নয়নের জন্য এই সফর খুব ভালো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এ সফর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটা ঠিক, ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন করা যায়নি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, সেগুলো আর সম্ভব হবে না। আমি বরং বলব, ভারত ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে আরও ঘন ঘন সফর হওয়া দরকার।
আপনি দেখবেন, বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শেষ সফর ছিল ১২ বছর আগে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি খুব স্বল্প সময়ের জন্য ঢাকা এসেছিলেন। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গিয়েছিলেন ২০১০ সালের জানুয়ারিতে। আর ফিরতি সফর হলো এ বছর সেপ্টেম্বরে, ২০ মাস পর। যত ঘন ঘন সফর হবে, দুই দেশের দূরত্ব তত কমবে। সফরের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক আস্থা বাড়ে বৈ কমে না।
সমকাল : কিন্তু এ সফরের মধ্য দিয়ে তো মনে হচ্ছে সীমান্তের দুই পাশে হতাশাই সৃষ্টি হয়েছে।
বীণা সিক্রি : আমি তা মনে করি না। যদিও কিছু বহুল আলোচিত চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর হয়নি, স্থল সীমান্ত বাস্তবায়নে যে প্রটোকল স্বাক্ষর হয়েছে, বাংলাদেশের ৪৬টি পণ্যের ভারতে শুল্কমুক্ত প্রবেশের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নেপালে বাংলাদেশি পণ্য পরিবহনে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহারের যে সমঝোতা হয়েছে, এর সুফল হবে সুদূরপ্রসারী। সীমান্ত নির্ধারণ ও ছিটমহল বিনিময়ের চুক্তির ফলে দুই দেশের সীমান্তে বিভিন্ন সময়ে যে উত্তেজনা দেখা দেয়, তা দৃশ্যমানভাবে কমে আসবে। দিলি্লর জওয়াহেরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা বিনিময়ে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার সুফল দুই দেশ পাবে।
সমকাল :এর আগেই তো জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার বাংলাদেশ স্টাডিজ প্রোগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
বীণা সিক্রি : হ্যাঁ, আমি আনন্দিত যে আমরা বেসরকারি পর্যায়ের এমন একটি কাজ আগেই করতে পেরেছিলাম। আমি মনে করি, ভারত ও বাংলাদেশের আরও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এমন সমঝোতা হতে পারে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও ভারতের জামিয়া মিলিয়া কিংবা জওয়াহেরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে। আসলে বেসরকারি পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার অনেক দ্বার খোলা রয়েছে।
সমকাল :বাংলাদেশের দিক থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম যে, ড. মনমোহন সিংয়ের এবারের সফরের মধ্য দিয়ে কয়েক দশক ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। বলা চলে, ওই চুক্তিই ছিল এবারের সফরের মূল আকর্ষণ। কিন্তু সে ব্যাপারে তো কিছুই হলো না।
বীণা সিক্রি :তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে এত হতাশ হওয়ার কোনো কারণ আমি দেখি না। এ সফরে এটা স্বাক্ষরিত হয়নি। কিন্তু তাই বলে এটা বাতিল হয়ে গেছে_ এমন ভাবার কারণ দেখছি না। ভারতের দিক থেকে ফেনীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আগ্রহ ছিল। সেটাও তো হয়নি। তিস্তা চুক্তি না হওয়ার ব্যাপারে সদিচ্ছার অভাব নেই। মনে রাখতে হবে, ভারত একটি ফেডারেল রাষ্ট্র। ফেডারেল স্ট্রাকচারে কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেই সব পারে না। আমি বলতে পারি, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হবেই। আরও কিছু সময় লাগতে পারে; কিন্তু চুক্তি হবেই। দুই দেশের মধ্যে ট্রানজিটের বিষয়টিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওই ব্যাপারেও তো শেষ পর্যন্ত আমরা চূড়ান্ত সমঝোতায় পেঁৗছতে পারিনি। এ ব্যাপারেও সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হবে। তবে এসবের জন্য আরও ১০ বছর অপেক্ষা করা ঠিক হবে না।
সমকাল : এখন কী করা যেতে পারে?
বীণা সিক্রি : প্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে, যেসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে স্থল সীমান্ত বাস্তবায়ন। সংবাদপত্রে একটি প্রতিবেদন পড়ছিলাম। সেখানে এক ছিটমহলবাসীকে প্রতিবেদক জিজ্ঞাসা করেছিল, তার অনুভূতি কী। ওই ব্যক্তি বলছে, 'আসলেই কি ছিটমহল বিনিময়ে হবে?' এমন সন্দেহ সীমান্তের উভয় পাশের সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে। স্থল সীমান্ত বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়ের কাজটি শুরু করে এই সন্দেহ দূর করতে হবে। শীর্ষ পর্যায়ে সহযোগিতার যে বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, সেটাকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের পণ্য যাতে যত দ্রুত সম্ভব ভারতীয় বাজারে যেতে পারে, সে ব্যবস্থা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করতে হবে। দুই দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বিনিময়ের কাজটি দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে। আমাদের জনগণ সেটাই চায়।
দ্বিতীয়ত, যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, সেসব ব্যাপারে বিলম্ব করা যাবে না। দ্রুত কাজ করতে হবে। যেমন তিস্তা চুক্তির খসড়া হয়ে আছে, এটা চূড়ান্ত করতে বেশি সময় লাগবে না। মংলা বন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের ব্যবহারের উপযোগী করার ক্ষেত্রে অনেক কাজ করা বাকি আছে। সেগুলো দ্রুত করে ফেলতে হবে।
সমকাল : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি করা গেছে। তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ঝুলে থাকল। অন্যান্য নদীর পানি বণ্টনের ব্যাপারে কী হবে?
বীণা সিক্রি : তিস্তা চুক্তি আসলে একটি মডেল। একটি প্যাটার্ন সেটার। এই চুক্তি হয়ে গেলে অন্যান্য নদীর পানি বণ্টনে বেশি সময় লাগবে না। দুই দেশ ইতিমধ্যে জয়েন্ট হাইড্রোলজিক্যাল সার্ভে করার কথা বলেছে। এটা হলে অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন অনেকখানি সহজ হয়ে যাবে। নদীর পানি বণ্টন বা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে, একত্রে কাজ করতে হবে। সীমান্তে যৌথ ব্যবস্থাপনার মতো নদীতেও যৌথ ব্যবস্থাপনা চালু হতে পারে।
সমকাল :আমরা দেখলাম তিস্তার পানি বণ্টনের ব্যাপারে শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে চূড়ান্ত চুক্তি করা সম্ভব হলো না। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কি উচিত ছিল না তার সঙ্গে আগে থাকতেই আরও বেশি আলোচনা করা?
বীণা সিক্রি :হ্যাঁ, তার সঙ্গে যত বেশি ঘনিষ্ঠ আলোচনা করা যেত তত সুবিধা হতো। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের মধ্যে আমি কোনো ঘাটতি দেখছি না। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেনন শেষ মুহূর্তেও দু'তিনবার ঢাকা ও কলকাতায় যাতায়াত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন যে, তার সরকার সবসময় মমতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। আসলে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব রাজনৈতিক হিসাব রয়েছে এবং সেটা থাকতেই পারে। এতে আপত্তির কিছু নেই। এখন কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে। আমি মনে করি, বিষয়টি চূড়ান্ত হতে আর কোনো সমস্যা হবে না।
সমকাল :বাংলাদেশ ও ভারতের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো ঝুলে থাকার কারণ হিসেবে কেউ কেউ দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের কথা বলে থাকেন।
বীণা সিক্রি : আমি কোনো মিসট্রাস্ট দেখি না। আর কেউ যদি তা দেখে থাকে, তাও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ, দুই দেশই দীর্ঘকাল পরস্পরবিরোধী রাজনীতির শিকার হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা একই পরিবারের সদস্য। বন্ধুরাষ্ট্র, ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। তবে দ্বিপক্ষীয় বিষয় চূড়ান্ত করতে হলে অনেকবার বসতে হয়। আপনি যদি কারও সঙ্গে যৌথ ব্যবসা করতে চান, তাহলেও কি এক-দু'বার বসে সব ঠিক করে ফেলা যায়? আমি মনে করি, দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি বেশি বৈঠক হতে হবে। আরও বেশি বেশি কথা হতে হবে। তাহলে দুই দেশের কোনো কোনো পর্যায়ে যদি সামান্য অবিশ্বাস থাকেও, তা দূর হতে বেশি সময় লাগবে না।
সমকাল :দুটি দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইলেই কি দ্রুত বৈঠকে বসতে পারে? এ জন্য অনেক আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয়।
বীণা সিক্রি : না না, কেবল শীর্ষ নেতৃত্ব বসবে কেন? মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হতে পারে। ইউরোপে আপনি দেখবেন, দুই দেশের মধ্যে কোনো ইস্যু তৈরি হওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বসে ঠিক করে নেন। এ ছাড়া ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, বিশেষ করে পিপল টু পিপল যোগাযোগ বাড়ানো দরকার। ভারত ও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব চায়। আমি ঢাকায় হাইকমিশনার থাকাকালে অনেক স্থানে গেছি। আপনি বলতে পারেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, খুলনা থেকে করিমগঞ্জ। সবখানেই দেখেছি, বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায়।
সমকাল : অভিযোগ রয়েছে, ভারত পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে যতটা মনোযোগ দিয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ততটা দেয়নি।
বীণা সিক্রি : আমি মনে করি, সব প্রতিবেশীই সমান মনোযোগ পাওয়া উচিত। আর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত সবসময় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখে। যে কারণে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অনেক বিষয়ে মিল রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে আমরা একই উত্তরাধিকার বহন করছি। আদর্শগত দিক থেকেও আমাদের অনেক মিল। দুই দেশের মানুষই গণতন্ত্র সমর্থন করে এসেছে। কূটনৈতিক দিক থেকে দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বিরাজমান।
সমকাল : দুই দেশের সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক যেভাবে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়, তা কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা।
বীণা সিক্রি : হত্যাকাণ্ড কারও কাম্য হতে পারে না। গত বছর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে গিয়ে বলেছেন যে, সীমান্তের অপর পাড়ে ভারতীয় নাগরিকও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকে। আমি মনে করি, স্থল সীমান্ত বাস্তবায়নের পর সীমান্ত হত্যাকাণ্ড কমে আসবে। আসলে কোনো সীমান্তে বিরোধ বা উত্তেজনা দেখা দিলে বিএসএফ ও বিজিবির সেক্টর কমান্ডাররা স্থানীয়ভাবে বসেই মীমাংসা করতে পারেন।
সমকাল :সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে বসে সমস্যা সমাধানের সুযোগ কি রয়েছে?
বীণা সিক্রি : এতদিন ছিল না, এখন ভাবা হচ্ছে। বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। দুই বাহিনীর মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, ভলিবল ম্যাচ, ক্রিকেট খেলা যদি হতে পারে, বৈঠক হতে পারবে না কেন? যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা চালু হলে অনেক সমস্যার সমাধান স্থানীয়ভাবেই সম্ভব।
সমকাল :আপনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে মনে রেখেছে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, ভারতীয় ভিসা পাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য কতটা ঝামেলার। এর সমাধান কী?
বীণা সিক্রি : আসলে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যা একটি সমস্যা। বছরে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ লোককে ভিসা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে যে ঝামেলা দেখা দেয়, তা আসলে ব্যবস্থাপনাগত। আপনাকে স্বীকার করতে হবে, এত ভিসা ব্যবস্থাপনা সত্যিই কঠিন। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। অনেক অর্থ ব্যয় করে ভিসা ব্যবস্থা কম্পিউটারাইজড করা হয়েছে। বাংলাদেশও তার নাগরিকদের জন্য ন্যাশনাল আইডি কার্ড প্রবর্তন করায় আমাদের জন্য কাজ অনেক সহজ হয়েছে। আমি আশা করি, ভিসা নিয়ে ঝামেলা বেশিদিন থাকবে না।
সমকাল :সিকিম, অরুণাচলের মতো কয়েকটি ভারতীয় রাজ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের প্রবেশাধিকার বিধিবদ্ধ। বন্ধপ্রতিম দেশের জন্য এমন নিয়ম কেন?
বীণা সিক্রি :কেবল বাংলাদেশ নয়, আরও কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা। এটা আসলে নিরাপত্তা ও অভিবাসনের ইস্যু। তবে এগুলো চিরস্থায়ী নয়। দ্বিপক্ষীয় কথাবার্তা ও বৈঠক যত বাড়বে, সব সমস্যার সমাধান তত সহজ হবে। দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি বেশি বৈঠক, কথাবার্তা হওয়া দরকার। আদান-প্রদান বাড়ানো দরকার। দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে যে সম্ভাবনা রয়েছে, সেটাকে দুই দেশ মিলেই বাস্তবায়ন করতে হবে।
সমকাল :আমরা জানি, বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের তরুণ শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ কোর্স পরিচালনা করতে এই মুহূর্তে আপনি ভীষণ ব্যস্ত। এর মধ্যে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
বীণা সিক্রি :সমকালের পাঠকদের জন্য আমার শুভেচ্ছা।
 

No comments

Powered by Blogger.