শিক্ষাকল্যাণ তহবিল-সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাতেই সাফল্য-সূত্র

সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্নাতক শ্রেণী পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি এবং বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্য সামনে রেখে এক হাজার কোটি টাকার কল্যাণ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। সোমবার মন্ত্রিসভায় এ সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন অনুমোদন পেয়েছে। আশা থাকবে, আইনটি দ্রুত চূড়ান্ত রূপ পাবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ এবং বৃত্তি প্রদানের জন্য সরকারি তহবিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে। এর অর্থ হচ্ছে, বেসরকারি বিভিন্ন সূত্র থেকে এ তহবিলে অনুদান গ্রহণ করা হবে। যারা এ তহবিলে অর্থ প্রদান করবেন, তারা আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তি উদ্যোগে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর উদ্দেশ্য থেকেছে শিক্ষার প্রসার। জনপ্রিয়তা বাড়ানো এবং এমনকি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে সুবিধা পেতেও এ ধরনের উদ্যোগ কেউ কেউ নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। এ ধরনের সুযোগ থাকা উচিত কি-না সেটা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তবে এ নিয়ে দ্বিমতের অবকাশ নেই যে, জনবহুল কিন্তু অর্থনীতিতে পিছিয়ে থাকা এ দেশটিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলায় সরকারি-বেসরকারি সব সুযোগকেই কাজে লাগানোর বিকল্প নেই। সরকার শিক্ষাকল্যাণ তহবিল গঠন করার পরও ব্যক্তিগতভাবে অনেকে শিক্ষার প্রসার ও গুণগত মান বাড়াতে উদ্যোগী হতেই পারেন এবং তেমন সুযোগ রাখাও দরকার। কল্যাণ তহবিলে অংশগ্রহণের জন্য সমাজের নানা পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের যেমন উৎসাহিত করতে হবে, তেমনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও অর্থ প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে হবে। এতে বড় অঙ্কের অর্থ যেমন জমা পড়তে পারে, তেমনি 'ছোট দান' করেও যেন প্রশংসিত হওয়ার সুযোগ থাকে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তহবিল ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশে সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে জনমনে আস্থার অভাব যথেষ্টই রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটাই হবে তহবিল গঠনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে ভরসার ক্ষেত্র হচ্ছে বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে লক্ষণীয় সফলতা এবং এ ক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও আন্তরিকতা। পরপর দুটি বছর মাধ্যমিক পর্যায়ের সব ছাত্রছাত্রীকে সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যবই দিয়েছে। এ পদক্ষেপে বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংকল্প থেকে সরে আসেনি। শিক্ষাকল্যাণ তহবিল গঠনের প্রাথমিক উদ্যোগগুলো যেন সাড়া ফেলতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা চাই। কথায় বলে, সকালেই বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে। শুরুটা ভালো হলে বেসরকারি সূত্র থেকে সাড়া পাওয়া সহজ হবে। ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনার কাজে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিদের প্রাধান্য থাকা আবশ্যক। দলীয়করণের দূরতম ছায়া থেকে এ সংস্থাকে মুক্ত রাখাও আবশ্যক। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রতিও মনোযোগ বাড়াতে হবে। সরকার এটা ভালোভাবেই অবগত যে, অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় বিস্তর গলদ রয়েছে। যখন যে দল ক্ষমতায় যায়, তাদের দাপট-দৌরাত্ম্যের কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক ভালো উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে না। অর্থের অপচয় ও অনিয়ম এমনকি আত্মসাতের অভিযোগও প্রচুর। এটা সহজেই বোধগম্য যে, কল্যাণ তহবিলের অর্থ অযোগ্যদের হাতে পড়লে তা থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না।
 

No comments

Powered by Blogger.