চট্টগ্রামে অনুমোদনহীন আবাসনের মেলা by ভূঁইয়া নজরুল,

ট্টগ্রামে তিন দিন ধরে চলা বিডি রেড ফেয়ারে অংশগ্রহণকারী বেসরকারি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনোটিরই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদন নেই। মেলায় অনুমোদনহীন এসব প্র্রকল্পের প্লট কেনাবেচার উদ্বোধন করেন মেয়র মঞ্জুরুল আলম। আজ শনিবার মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে থাকবেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০০৮-এর ৬(২) ও (৩) ধারা অনুযায়ী 'কোনো ডেভেলপার কর্তৃপক্ষ প্রকল্প অনুমোদনের আগে ক্রয় বা বিক্রয়ের জন্য গণমাধ্যমে প্রচার করতে পারবে না এবং ক্রেতার সাথে কোনো এস্টেট বিক্রয় বা বিক্রয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে না।'


চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গত বুধবার থেকে শুরু হয় বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট ডাইরেক্টরি (বিডি রেড) আয়োজিত চার দিনের আবাসন মেলা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আয়োজক বিডি রেড ফেয়ারের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী
কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা প্রতিষ্ঠিত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছি। তবে তাদের প্রকল্পের অনুমোদন রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হয়নি।'
তবে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাখা বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলাবদ্ধতার জন্য ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান মাস্টার প্ল্যান ও ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ করছে না বলে বিভিন্ন দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে।
আজ শনিবার মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সিডিএর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের। অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পের মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করে আবদুচ ছালাম বলেন, 'অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে রিয়েল এস্টেট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে আমার তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। এ ছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব প্রকল্পের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার কথা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানো হবে।'
কোরিয়ান ইপিজেডের সামনের ডিভাইন মডেল সিটির অনুমোদন নেওয়া হয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এবং প্রতিষ্ঠানটি মেলায় অংশ নিয়েছে। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন ডিভাইন গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন শাওন। এর কারণ হিসেবে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রকল্পটি সিডিএ আওতাধীন এলাকার মধ্যে পড়ে না, তাই সিডিএ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়নি।'
এসব ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের আবাসন প্রকল্পের কোনো অনুমোদন নেই স্বীকার করে সিডিএর ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান ও উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ সারোয়ার উদ্দিন আহমেদ বলন, 'সিডিএ আওতাধীন এলাকায় কোনো আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। ডেভেলপাররা অনুমোদনহীন প্রকল্পের প্লট বিক্রি করার বিষয়টি আমার জানা নেই। এজন্য পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে গ্রাহকদের অনুমোদনহীন প্রকল্পের প্লট কিনতে নিষেধ করা হবে এবং রিয়েল এস্টেট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সারোয়ার উদ্দিন আরো জানান, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন আইন অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া আবাসন প্রকল্প বিক্রি বা বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিলে তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অনুমোদনহীন এসব প্রকল্পের প্লট কিনে গ্রাহকরা প্রতারিত হতে পারেন।
মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে নজরুল চৌধুরী এস্টেস প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির সমন্বয়ক মোহাম্মদ সোহান হাওলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পটিয়া, রাউজান ও সীতাকুণ্ড এলাকা সিডিএর আওতাভুক্ত নয়। তাই আমরা সিডিএ থেকে অনুমোদন নিইনি।'
অনুমোদনহীন প্রকল্পগুলো হলো_কুমিরা গুল আহমদ জুট মিলের সামনের কৃষিজমিতে গ্রিন ক্যাসল প্রপার্টিজের রংধনু হাউজিং সোসাইটি, একই এলাকায় গ্রেসল্যান্ড প্রপার্টিজের নেওয়া গ্রেসল্যান্ড আপন আঙ্গিনা হাউজিং সোসাইটি, আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেডের সামনে বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা ডিভাইন গ্রুপের ডিভাইন মডেল সিটি, চৌধুরী গ্রুপের চারটি প্রকল্প_চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে কৃষিজমিতে নেওয়া চৌধুরী স্বপ্ন কুঠির, সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ায় চৌধুরী মডেল টাউন, আনোয়ারায় চৌধুরী ড্রিমল্যান্ড হাউজিং সোসাইটি ও হালিশহর আনন্দবাজার এলাকার চৌধুরী রিভারভিউ হাউজিং সোসাইটি। নজরুল চৌধুরী এস্টেস প্রাইভেট লিমিটেডের ছয়টি প্রকল্প_ফৌজদারহাটের সিলিমপুরে চৌধুরী হাউজিং সোসাইটি, সীতাকুণ্ডের ফকিরহাটে জীবনধারা হাউজিং সোসাইটি, কুমিরা এলাকায় চৌধুরী হাউজিং সোসাইটি ইউনিট-১, রাউজানে নজরুল চৌধুরী হাউজিং সোসাইটি, রাউজানের চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নজরুল চৌধুরী হাউজিং সোসাইটি ও পটিয়ায় নজরুল চৌধুরী হাউজিং সোসাইটি।

No comments

Powered by Blogger.