রুনির ইউরো খেলা এখন দুরাশা

তাঁর নতুন মৌসুমটা শুরু হয়েছিল সাইক্লোনের মতো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবা ইংল্যান্ড দলের হয়ে মাঠে নামলেই গোল! সেই ওয়েইন রুনির জীবনে হঠাৎ কী 'গোল'ই না বেধে গেল! প্রথমে ম্যাচ পাতানোয় অভিযুক্ত থাকার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হলো তাঁর বাবা ও চাচাকে। এরপরই ইউরো বাছাই পর্বে মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে খেলতে নেমে রুনি দেখলেন লাল কার্ড। সেখানে শেষ হলেও হতো। প্রতিপক্ষের ওই খেলোয়াড় মিয়োদ্রাগ দুদোভিচকে ভয়ংকরভাবে লাথি মারার অপরাধে যে উয়েফা তিন ম্যাচের জন্য বহিষ্কার করেছে রুনিকে! ২০১২ ইউরোতে তাই গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই ইংল্যান্ডকে খেলতে হবে সেরা খেলোয়াড়টিকে ছাড়া।


পরশু এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। স্বভাবতই এরপর থেকে হা-পিত্যেশ চলছে ইংল্যান্ডের ফুটবলাঙ্গনজুড়ে। রুনিকে ছাড়া ইংল্যান্ডের স্বপ্নও যে অনেকখানিই বিবর্ণ! নক-আউট পর্বের আগে যেহেতু তাঁর মাঠে নামা হবে না, তাই শোকের মাতমটাও প্রবল। ফুটবল পণ্ডিত গার্থ ক্রুকস যেমন বলেছেন, 'এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাশিতই ছিল। সেটি দুই ম্যাচের হলেই হতো বড় ধাক্কা। সেখানে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তো হৃৎপিণ্ডে ছুরি বসিয়ে দেওয়ার মতো।' ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সতীর্থ মাইকেল ওয়েনের প্রতিক্রিয়াও প্রায় অভিন্ন, 'এত বড় মঞ্চে তিন ম্যাচ মিস করা সত্যিই বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে।'
লাল কার্ড বিড়ম্বনায় এই প্রথম পড়েননি রুনি। ২০০৬ বিশ্বকাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে টক্করে জড়িয়ে আছে বহুল আলোচিত মার্চিং অর্ডার। ক্লাব দলের হয়েও আছে একাধিক লাল কার্ড। পরোক্ষে সেটিকেই সামনে নিয়ে এসেছেন ইংলিশ ফুটবলের কিংবদন্তি পল গ্যাসকোয়েন, 'এটি রুনির প্রথম লাল কার্ড নয় এবং আমি নিশ্চিত যে শেষও নয়। আসলে ওর খেলার ধরনটাই অমন। এটি মেনে নিয়েই আমাদের এগোতে হবে।' রুনির বিরুদ্ধে উয়েফার তিন ম্যাচের সাসপেনশন নিয়ে বিদ্রূপ করতে ছাড়েননি ম্যানইউর সাবেক মিডফিল্ডার ফিল নেভিল, তাঁর মতে, 'একই অপরাধ কোনো ডাচ, স্প্যানিশ, ইতালিয়ান কিংবা জার্মান ফুটবলার করলে, তারা হয়তো এক ম্যাচের জন্যও নিষিদ্ধ হতো না।' ওয়েবসাইট

No comments

Powered by Blogger.