পদ্মা সেতু :দুর্নীতির অভিযোগে বিডিএফ বৈঠক পেছাল

বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক-২০১১ (বিডিএফ) পিছিয়ে গেছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে বৈঠকটি হচ্ছে না। আগামী ২-৩ নভেম্বর ঢাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছরের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত এ বৈঠকে বসতে আগ্রহী নয়। তারা সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে যে, পদ্মা সেতু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত তারা বৈঠকে বসবে না।


বিডিএফ বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে পদ্মা সেতু প্রকল্প অন্যতম এজেন্ডা ছিল। এবারের বিডিএফ বৈঠকের প্রধান সমন্বয়ক ছিল (লিড এজেন্সি) বিশ্বব্যাংক।
জানা গেছে, পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারও দাতাদের কাছে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে।
যে কারণে সরকারও বৈঠক পিছিয়ে দিতে সম্মত হয়েছে। ইআরডির একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সরকার ও দাতারা উভয়েই বিডিএফ বৈঠকটি পিছিয়ে দিতে একমত হয়েছে। তা ছাড়া পূর্বনির্ধারিত সময়ে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার সেটা সরকারের পক্ষে আয়োজন করা সম্ভব ছিল না। যে কারণে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছর বিডিএফ বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, প্রতিবছরই ঢাকায় বিডিএফ বৈঠক নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে ২৯০ কোটি ডলার ব্যয় হবে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
জানা যায়, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ইন্টিগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সি (আইএনটি) তদন্ত করে। ওই তদন্তে প্রকল্পে দুর্নীতির সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আপাতত অর্থায়ন স্থগিত করে দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুুল মুহিত বলেছেন, শিগগিরই মিডিয়ার সামনে ব্রিফিং দিয়ে বিশ্বব্যাংকের তথ্য এবং আমাদের অবস্থান সম্পর্কে জনগণকে জানানো হবে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে চতুর্থ জাতীয় ফিজিওথেরাপি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

No comments

Powered by Blogger.