কমতির দিকে সবজির দাম

রোজার আগে চড়ে যাওয়া সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। কেজিপ্রতি ৭০ টাকা দরের বেগুন, চিচিঙ্গা, ঝিঙা কিনে হাঁপিয়ে ওঠা ক্রেতারা এখন এসব সবজি পাচ্ছেন ৪০-৫০ টাকার মধ্যে। দরাদরি করলে আরো কিছুটা কম দামেই পাওয়া যাচ্ছে এসব সবজি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাঁচাবাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আগের চেয়ে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে। ঈদুল আজহার আগে দাম আরো কমতে পারে।সবজির পাশাপাশি চাল, চিনি, পাম তেলের দামও কমতির দিকে।বাজার ঘুরে জানা যায়, শীতের সময় বাজারে সবজির দাম সাধারণত কমে যায়। শীতকালীন কিছু কিছু সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে সেগুলোর দাম কম নয়।


গতকাল ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের কাঁচাবাজারে বেগুন ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, বরবটি ৪৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। গত সপ্তাহে এসব সবজি বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে। ওই বাজারে পটোল ৩৫ টাকা, কচুরমুখি ৩০ টাকা, শসা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। শীতকালীন সবজির মধ্যে ওই বাজারে ফুলকপি প্রতিটি ৪০ টাকা, প্রতি কেজি শিম ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও ১৮০ থেকে কমে ১২০ টাকায় নেমেছে। গত সপ্তাহে কোনো কোনো বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকাও ছিল।
ইন্দিরা রোড বাজারের সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, কিছুদিন আগেও বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা ছিল। এখন সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে বলে দাম কমেছে। ঈদুল আজহার আগে দাম আরো কমবে। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরেই তিনি আগের চেয়ে কম দামে সবজি কিনতে ও বিক্রি করতে পারছেন।
সবজির পাশাপাশি বাজারে মোটা চালের দামও কিছুটা কমেছে। সরকারের খোলাবাজারে চাল বিক্রি কর্মসূচির কারণে বাজারে মোটা চালের তেমন চাহিদা নেই। এর ওপর স্বর্ণা নামের এক ধরনের মোটা চাল ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। এ কারণে দাম কমছে বলে জানান বিক্রেতারা।
কারওয়ান বাজারে স্বর্ণা চাল ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য চালের দাম মণপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের বরিশাল রাইস এজেন্সির একজন কর্মী।
ভারত থেকে আমদানি করার কারণে চিনির দামও কমছে। বর্তমানে বাজারে ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে। আবার কোনো কোনো দোকানে চিনি আরো দু-এক টাকা কমেও বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অনেক বাজারে বিক্রেতারা এখনো ৬৮ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন চিনি।
আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দাম কমতির দিকে। এর প্রভাব কিছুটা পড়েছে ঢাকার বাজারে। কারওয়ান বাজারে পাম সুপার তেলের দাম লিটারপ্রতি দুই টাকা কমেছে। সপ্তাহখানেক আগে প্রতি লিটার তেল ৯৮ থেকে ৯৯ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৬ থেকে ৯৭ টাকা দরে।
ইন্দিরা রোডের কাঁচাবাজারে কথা হয় মইনুল হোসেন নামের এক ক্রেতার সঙ্গে। বাজারের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে মাছ ও মাংসের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। মাংসের দাম একটা জায়গায় স্থির থাকলেও মাছের দাম নাগালের বাইরে। পশ্চিম রাজাবাজারের বাসিন্দা এই ক্রেতা জানান, তিনি এক কেজি আইড় মাছ কিনেছেন ৪০০ টাকা দিয়ে, যা দিয়ে তাঁর পরিবারের কমপক্ষে দুই দিন চলতে হবে। এর সঙ্গে কিনেছেন এক কেজি বরবটি, এক কেজি শসা ও ২০ টাকার কাঁচা মরিচ। মোট খরচ ৫০০ টাকা। কাঁচাবাজারের পেছনেই তাঁর এক দিনের খরচ দাঁড়াল ১০০ টাকা।
বাজারে বর্তমানে বেশির ভাগ দেশি প্রজাতির মিঠা পানির মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকার ওপরে। কম দামের মাছের মধ্যে আছে চাষের পাঙ্গাশ, কই, নলা, তেলাপিয়া ইত্যাদি কয়েক প্রজাতির মাছ। এগুলো বাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

No comments

Powered by Blogger.