হিলারির সফরের পর সংলাপ নিয়ে আশাবাদী বিএনপি-তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে সংলাপে আগ্রহ নেই সরকারের by জাহাঙ্গীর আলম ও তানভীর সোহেল

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংলাপের পরামর্শের পরও সরকার এ বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তবে বিরোধী দল এ বিষয়ে কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, সংসদে বা সংসদের বাইরে যেখানেই হোক অথবা আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যেভাবেই হোক, তাঁদের আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই।


ঢাকা সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বৈঠক করেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে। তাঁরা সংঘাত এড়াতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দেন। হিলারি ক্লিনটন এ ব্যাপারে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপের পরামর্শ দেন।
তবে সরকার এ প্রশ্নে আগের অবস্থানে অনড় রয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার যোগাযোগ ও রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি আদালতে ফয়সালা হয়ে গেছে। মুহাম্মদ ইউনূস ও ফজলে হাসান আবেদ তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে যা বলেছেন, তা তাঁদের ব্যক্তিগত। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।’ তিনি বলেন, রায় অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা অবৈধ। আর আরও দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে হওয়ার ব্যাপারে আদালত যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, সে ব্যাপারে বিরোধী দল সংসদে আলোচনার সুযোগ নেয়নি।
এদিকে গতকাল দুপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক বিষয়ও আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এ সময় এরশাদকে প্রধানমন্ত্রী জানান, অনির্বাচিত কারও কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে না। তিনি শুধু নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করার বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে মত দেন।
তবে বিএনপি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির পুনর্বহাল চায়। সংবিধানে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির জন্য যদি কোনো সংশোধন, পরিমার্জন বা সংযোগের প্রয়োজন হয়, তাতেও আপত্তি নেই দলটির। কিন্তু সরকারকে বলতে হবে, নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে নয়, নির্দলীয় সরকারের অধীনে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপি যে সংলাপে যাবে, সে প্রমাণ তারা রেখেছে। কোনো কাজ হবে না জেনেও রাষ্ট্রপতির সংলাপে গেছে, মতামত দিয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করে সমঝোতায় পৌঁছাতে বিএনপি আগ্রহী।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৫ মে তাঁর বাসভবনে হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় খালেদা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে হিলারিকে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে সেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তিনি সরকারকে এ ব্যাপারে চাপ দিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন বলে বিএনপির একজন নেতা জানান। জবাবে হিলারি সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছার পরামর্শ দেন।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি তো সরকারের পতন ঘটানোর জন্য বা অন্য কোনো উপায়ে ক্ষমতায় যেতে আন্দোলন করছে না। তারা ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হলে গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। তিনি বলেন, দেশে ও দেশের বাইরের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যা বলছেন, তা বিএনপিরই মনের কথা। বিএনপির সাফল্য এটাই যে তারা প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বোঝাতে পেরেছে।
তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলো নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা কেমন হবে, সে ব্যাপারে বিএনপি বা বিরোধী দলকেই প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলছে। তারা মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে বিরোধী দলের চিন্তাভাবনা তাদেরই বলতে হবে। এ ব্যাপারে সংলাপেরও পক্ষে তারা।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রথম আলোকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা কেমন হবে, বিরোধী দল তা দেয়নি। তাদের প্রস্তাব দিতে হবে। তাহলে সংসদের ভেতরে বা বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই আলোচনা হতে পারে।

No comments

Powered by Blogger.