পবিত্র কোরআনের আলো-কল্যাণ কাজের পরিণাম বাড়তে থাকে বহু গুণে, তবে পাপের পরিণাম নির্ধারিতটুকুই

২৫. ওয়াল্লাহু ইয়াদঊ' ইলা দারিচ্ছালাম; ওয়া ইয়াহ্দী মাইঁ ইয়্যাশাউ ইলা সিরাতি্বম্ মুছতা্ক্বীম। ২৬. লিল্লাযীনা আহ্ছানুল হুছ্না ওয়া যিইয়াদাতুন ওয়া লা ইয়ার্হাক্বু উজূহাহুম ক্বাতারুওঁ ওয়্যালা- যিল্লাহ্; উলায়িকা আসহাবুল জান্নাতি হুম ফীহা খালিদূন।


২৭. ওয়াল্লাযীনা কাছাবু চ্ছায়্যিআতি জাযা-উ ছায়্যিআতিম্ বিমিছ্লিহা ওয়া তারহাক্বুহুম যিল্লাহ্; মা- লাহুম্ মিনাল্লাহি মিন আ'-সিম; কাআন্নামা- উগ্শিইয়াত্ উজূহুহুম কি্বত্বাআ'ম্ মিনা ল্লাইলি মুয্লিমা; উলাইকা আসহাবুন নারি হুম ফীহা খালিদূন।
[সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৫-২৭]

অনুবাদ
২৫. আল্লাহ মানুষকে শান্তির নিবাসের দিকে ডাকেন। আর তিনি যাকে চান, সরল-সঠিক পথের দিশা দেন। ২৬. যারা কল্যাণের কাজ করে, তাদের জন্য তো কল্যাণ রয়েছে এবং (যা করে তার চেয়ে) বেশি মাত্র রয়েছে। তাদের মুখমণ্ডলকে কখনো কালিমালিপ্ত করা হবে না এবং কোনো লাঞ্ছনারও শিকার হবে না। তারা জান্নাতের বাসিন্দা, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। ২৭. আর যারা মন্দ কাজ করে, তাদের মন্দ কাজের পরিণাম সেটুকু মন্দই পাবে (অর্থাৎ পুণ্য বাড়ে, তবে পাপ বাড়ে না)। তাদের কাজের পরিণতি হিসেবেই তাদের লাঞ্ছিত করা হবে। আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি থেকে রক্ষা করার মতো কোনো রক্ষাকারী তাদের থাকবে না। মনে হবে যেন তাদের চেহারা রাতের অন্ধকার দ্বারা আচ্ছাদিত করা হয়েছে। এসব লোক জাহান্নামের বাসিন্দা, তারা সেখানে চিরকাল পড়ে থাকবে।

ব্যাখ্যা
২৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে শান্তির নিবাসের দিকে ডাকেন। অর্থাৎ আল্লাহর প্রকৃতিই হচ্ছে মানুষের জীবনে ও জগতে শান্তি বলবৎ রাখা। যে পথে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সৌহার্দ্য_সেই পথই আল্লাহর পথ। তবে সে শান্তি অবশ্যই সত্য ও ন্যায়ের পথের চিরন্তন শান্তি, ক্ষণিকের আনন্দ-উল্লাস নয়। যাঁরা তাঁদের ইচ্ছা ও কর্মকে আল্লাহর পথে সমর্পিত করেন, তাঁদেরই আল্লাহ সরল-সঠিক পথ দেখান।
২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তার কর্মের প্রতিদান দেওয়ার ব্যাপারে এক অনুপম নীতির কথা ঘোষণা করেছেন। কল্যাণ কাজের প্রতিদানে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে কল্যাণ দান করেন। যে পরিমাণ কল্যাণ কাজ করেছে, সে তার নির্ধারিত প্রতিদান তো অবশ্যই পাবে, আল্লাহ নিজ গুণে তাদের এর চেয়ে অনেক বেশি দেবেন। সেই বর্ধিত দান কতটুকু এবং কী রকম_এর কোনো সীমারেখা নেই। এ-সংক্রান্ত হাদিস শরিফের বর্ণনা মতে বোঝা যায়, এর সর্বোচ্চ স্তর হলো আল্লাহর দিদার লাভ। অন্যদিকে পাপকর্মের পরিণতি প্রদান করা হবে যে যেটুকু পাপ করেছে, তার জন্য নির্ধারিতটুকুই। অর্থাৎ পুণ্য বাড়ে, কিন্তু পাপ বাড়ে না। আল্লাহ মানুষের সৎকর্মে সন্তুষ্ট হয়ে যাকে যত খুশি চাইবেন পুরস্কার বাড়িয়ে দেবেন, তবে পাপের শাস্তি দেবেন ঠিক পাওনাটুকুই; কাউকে অন্যায়ভাবে বা রাগের বশত বেশি শাস্তি দেবেন না। এটা হলো আল্লাহর প্রতিদান দেওয়ার চিরন্তন নিয়ম। মানুষের কর্মের পরিণতি প্রদানের এই চিরন্তন নিয়ম থেকেই বোঝা যায়, আল্লাহর সৃষ্ট এই জগৎ চলছে সত্য, ন্যায় ও শান্তির পথে এবং এতে মানুষের জন্য রয়েছে আল্লাহর অসীম করুণা। কিন্তু মানুষ আল্লাহর অবাধ্য হয়েই তাদের জন্য অবিচার, অশান্তি ও লাঞ্ছনা ডেকে আনছে। আল্লাহ চান কল্যাণ, কিন্তু মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে নিজেদের জন্য অকল্যাণ নিয়ে আসে।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments

Powered by Blogger.