সাকিবের জন্মদিন এবং... by শাহরিয়ার ফিরোজ

এপ্রিল এলেই মনের মধ্যে ভাসতে থাকে, শচীন টেন্ডুলকারের জন্মদিনের মাস এটি। না ভেসে উপায়ই বা কী! ভারতীয় ওয়েবসাইটগুলো তো বটেই, সংবাদ সংস্থাগুলোও বিভিন্নভাবে মনে করিয়ে দেয়, ২৪ এপ্রিল আসতে আর এত দিন বাকি! জন্মদিনটা তিনি কীভাবে কাটাবেন, কোথায় কাটাবেন, এসব খবরাখবর তো থাকেই।


এপ্রিলের প্রথম দিনে এই লেখার শুরুটা পড়ে ভেবে বসবেন না, এটি টেন্ডুলকারকে নিয়ে লেখা। এখানে বিষয় সাকিব আল হাসান। তবে টেন্ডুলকারকে এখানে টেনে আসার প্রাসঙ্গিকতা আছে। টেন্ডুলকারের মতো অত জোরেশোরে না হলেও মার্চ এলেই যেন ইদানীং একটা বার্তা পেয়ে যাই আমরা—সংগ্রাম-স্বাধীনতার মাসটি সাকিবের জন্মদিনেরও।
ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা—সাবেক তিন চ্যাম্পিয়ন দলের তারকা ক্রিকেটারদের পেছনে ফেলে সাকিব আল হাসান পেয়েছেন এশিয়া কাপের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। ফিরে পেয়েছেন ওয়ানডের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের আসন। গত ২৪ মার্চ তাঁর ২৫তম জন্মদিনটি তাই একটু বেশি সাড়ম্বরেই পালিত হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াও। রাজধানীর এক হোটেলে ক্রিকেট দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান রূপ নিয়েছে সাকিবের জন্মদিনের পার্টিতে। এবার উৎসবটা সর্বব্যাপী হয়েছে, তবে কয়েক বছর আগে থেকেই সাকিবের জন্মদিনে সক্রিয় চিরকুট বিভাগের লেখকেরা। চিঠি লিখে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা। অনেকে পত্রপত্রিকায় ছাপা হওয়া সাকিবের ছবি ও তাঁকে নিয়ে লেখার কাটিং পাঠান। কেউ বা হাতে বানানো শুভেচ্ছা কার্ড।
এবার সংখ্যাটা আরও বেশি। এক ভক্ত বড় এক কার্টুন এঁকে তাতে জন্মদিনের শুভেচ্ছা লিখে পাঠিয়েছেন সাকিবকে। অনেক ভক্ত ব্যক্তিগত চিঠি লিখে ছোট খামে ভরে ওই খামসমেত আরও একটি চিঠি বড় খামে পাঠিয়েছেন, ভেতরের ছোট খামে বন্দী চিঠিটি সাকিবকে দেওয়ার অনুরোধ করে। আরেক ভক্ত বক্সে করে পাঠিয়েছেন আস্ত এক কেক। কেকের চারপাশে সাজানো বেলুন। বড় একটা মোমবাতি, সঙ্গে কেক কাটার জন্য ছুরিও পাঠিয়েছেন ওই বক্সে। সাকিবকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিরকুট বিভাগে চিঠি পাঠানো সবার কথা আলাদাভাবে না-ই বা বলা হলো। তবে একটা তথ্য জানিয়ে রাখি—প্রতি সপ্তাহে সাধারণত আমরা পাঠকদের ২০-২৫টি চিঠি পেয়ে থাকি। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে চিঠি এসেছে দেড় শর কাছাকাছি। প্রায় সব চিঠিরই বিষয়—সাকিবকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। গোলাপের পাপড়িও ছিল কোনো কোনো চিঠিতে।
এ তো গেল চিঠির কথা। টেলিফোনও কি কম এসেছে! কোনো কোনো ভক্ত একবার, দুবার, তিনবারও ফোন করে করেছেন একই অনুরোধ—
—সাকিবের টেলিফোন নম্বরটা দেওয়া যাবে?
—সরি, আমরা কারও ব্যক্তিগত নম্বর দিই না।
—আমি আর কাউকে দেব না, দেন না, প্লিজ।
—বললাম তো, সাকিবের নম্বর তাঁর অনুমতি ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়।
—নম্বর দিলে কী হবে...আমি তো শুধু সাকিবকে শুভেচ্ছা জানাব।
—বললাম তো, সম্ভব নয়।
—তাহলে ভাইয়া, জন্মদিনের শুভেচ্ছাটা সাকিবকে একটু পৌঁছে দেবেন, প্লিজ।

২৫ মার্চের স্টেডিয়াম এশিয়া কাপ নিয়ে বিশেষ আয়োজন হওয়ায় সাকিবকে পাঠানো পাঠক-ভক্তদের জন্মদিনের টাটকা শুভেচ্ছা বাসি হয়ে গেল। তা হোক। তবু পাঠকের পক্ষ থেকে, চিরকুট বিভাগের অসংখ্য লেখকের পক্ষ থেকে সাকিবকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা। অনেক চেষ্টা করেও সাকিবের টেলিফোন নম্বর না পাওয়া ভক্তদের পক্ষ থেকে আরও একটা লাইন যোগ করে দিই—মেনি হ্যাপি রিটার্নস অব দ্য ডে। তুমি আরও অনেক দিন খেলে যাও, সাকিব। ছড়িয়ে দাও এমন আনন্দনির্ঝরিণী।

No comments

Powered by Blogger.