ঈদুল ফিতর-উৎসব বয়ে আনুক সৌহার্দ্যের বার্তা

পবিত্র রমজান শেষে শাওয়াল মাস সমাগত প্রায়। আজ শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল উদযাপিত হবে ঈদ। আর আগামীকাল চাঁদ দেখা গেলে ঈদ পালিত হবে পরশু দিন। ঈদের চাঁদ দেখা গেলে চাঁদরাতজুড়ে টেলিভিশন, রেডিও, মোবাইলের রিংটোনে বাজতে থাকবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই মোহময় সঙ্গীত 'ও মন


রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ'। রোজার শেষের ঈদ সত্যিই আনন্দের অপূর্ব বার্তা নিয়ে আসে। শুধু আনন্দই নয়_ সৌহার্দ্য, শান্তি ও অংশীদারিত্বের এক মহান বার্তা বহন করে ঈদ আসে। রমজানের কঠোর সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মুসলমানরা যে শিক্ষা অর্জন করেন তার প্রতিফলন উৎসবে পড়ে। রোজার মধ্য দিয়ে মুসলমানরা অভুক্ত, গরিব, দুঃখীদের কষ্ট অনুভব করেন। জগতের বঞ্চিত ও ভাগ্যহতদের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করার শিক্ষা পান। ইসলামের শিক্ষা হলো_ ঈদে কেউই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন না। গরিবদের মধ্যে ফিতরা বিতরণ তাই ঈদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকেই বছরের জাকাত বিতরণের জন্যও ঈদের সময়টিকে বেছে নেন। ধনাঢ্য ও সচ্ছলরা যখন গরিবদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন, তখন সত্যিই এক অপূর্ব উৎসবে মিলিত হয় সকল মানুষ। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষ হওয়ার আগেই মুসলমানদের ঘরে ঘরে ঈদের আগমনী সুর বেজে উঠেছে। শহর থেকে ইতিমধ্যে লাখো মানুষ যাত্রা করেছেন দূরদূরান্তে, গ্রামের উদ্দেশে। অনেকেই গন্তব্যে পেঁৗছে গিয়েছেন, ঈদের আগে পেঁৗছাবেন আরও বহু মানুষ। শিকড়ের টানে ঘরে ফেরার এই তীব্র আকুতি আমাদের দেশে ঈদ-উৎসবকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। লাখো মানুষের ঘরে ফেরার আকুতি রাস্তা ও যানবাহনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে সত্য, এও সত্য যে লোকে বহু কষ্ট সয়ে বাড়ি ফেরেন; কিন্তু বাংলার গ্রামগুলো এসব উৎসবে পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে পরিণত হয়। এবার মানুষের ঘরে ফেরার শুরুতেই নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছিল। রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি ও যানবাহনের স্বল্পতায় অনেকেই ঘরে ফিরতে পারবেন কি-না এ নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন। দুর্ঘটনার প্রকোপও বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ঈদের প্রাক্কালে সমস্যা অনেকটাই অবসিত, রাস্তা আর ততটা কণ্টকাকীর্ণ নয়, নিরাপদে ঘরে পেঁৗছাতে পারছেন যাত্রীরা। সরকারের উদ্যোগ, মানুষের সচেতনতা সব মিলিয়ে ঘরে ফেরাটা আনন্দময় ও নিরাপদ হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আর এই সচেতনতা শুধু বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রে নয়, বাড়ি থেকে শহরে ফেরা পর্যন্ত বহাল থাকুক। অনর্থক তাড়াহুড়া না করে সাবধানে গাড়ি চালানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। উৎসবের পথযাত্রায় আর একটিও দুর্ঘটনা দেখতে চাই না আমরা। রাস্তার নিরাপত্তার সঙ্গে আবাসিক এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজরদারি থাকতে হবে। জনমানবহীন শহরে চোর-ডাকাতদের উপদ্রব কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সব মিলিয়ে ঈদে ছুটির দিনগুলো আনন্দের অনাবিল উৎস হোক সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। জাতি-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের মধ্যে উৎসব ছড়িয়ে যাক। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সমকালের পাঠক, লেখক, হকার, শুভানুধ্যায়ী সকলকে আমাদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

No comments

Powered by Blogger.