ইন্টারনেট সুবিধা-কাজে গতি আসুক

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় বর্তমান সরকার পুনঃপুনঃ ব্যক্ত করে চলছে, সরকারি কর্মকর্তাদের বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত তা বাস্তবায়নের পথে নিঃসন্দেহে ভালো পদক্ষেপ। সিদ্ধান্তটি নিতে বরং বিলম্বই হলো। সেলফোন কোম্পানির কল্যাণে ইন্টারনেট সংযোগ যখন দেশের প্রত্যন্ত পল্লীতেও পেঁৗছে যাচ্ছে, সরকারি কর্মকর্তাদের


বাসভবন তখনও এ বিশ্ব বিস্তৃত তরঙ্গের বাইরে_ মেনে নেওয়া কঠিনই বটে। অবশ্য একেবারে না হওয়ার চেয়ে বিলম্বে বোধহয় মন্দ কি? তবে কর্মকর্তাদের প্রাপ্য টেলিফোন ভাতার সঙ্গে সমন্বয় করে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হচ্ছে কেন আমাদের বোধগম্য নয়। এটা ঠিক, টেলিফোন ও ইন্টারনেট উভয় মাধ্যমই যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়; কিন্তু প্রায়োগিক দিক থেকে যথেষ্ট ভিন্ন। ইন্টারনেট ব্যবহারের আওতা মাত্র কয়েকশ' টাকায় সীমিত করে দেওয়ার বিষয়টিও এর বিশালত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমাদের দেশে ইন্টারনেটের যে গতি, সে বাস্তবতায় সামান্য অর্থে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদানপ্রদানই-বা কতখানি সম্ভব হবে? স্বতঃস্ফূর্ততাও কি ব্যাহত হবে না? সব মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বাসায় ইন্টারনেট সংযোগের উদ্যোগটি সাধু হলেও সন্তোষজনক নয়। কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে প্রত্যাশা। একই সঙ্গে ইন্টারনেটের এই সংযোগ যাতে গঠনমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে। ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশের সুবিধা যেমন অমিত সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে, তেমনি ঝুঁকিও রয়েছে। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। ধারণা করা যায়, অন্তত জেলা পর্যায়ের সরকারি দফতরগুলো ইতিমধ্যেই ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। এখন যদি কর্মকর্তাদের বাসাও এর আওতায় আসে, মাঠ পর্যায়ের সরকারি কাজে আরও গতিশীলতা আশা করা অনুচিত হবে না। সরকারি কাজ কেবল অফিসের চার দেয়ালের বন্দিত্ব থেকেও বেরিয়ে আসতে পারবে বলে প্রত্যাশা।

No comments

Powered by Blogger.