টাইগারদের গর্জে ওঠা-সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে পোর্ট অব স্পেনের পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারানোর আবারও যে কৃতিত্ব বাংলাদেশ দেখাল ১৬ মার্চ ঢাকার মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, তা অবিস্মরণীয়। কঠিন কিংবা দুরূহ টার্গেট দলগত প্রচেষ্টায় সাহসী লড়াইয়ে অতিক্রম করে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ উইকেটের যে গৌরবময় জয় বাংলাদেশ ছিনিয়ে নিল, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের

ক্রিকেটারদের সার্বিক নৈপুণ্য প্রদর্শনও ছিল দৃষ্টিনন্দন ও রোমাঞ্চকর। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রত্যেককে আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। একই সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে প্রত্যয়ী টাইগারদের আত্মবিশ্বাস চাঙ্গা রাখার বিষয়টিও যেন সব সময় প্রাধান্য পায়, সে কথা আমরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি পুনর্বার।
একাদশ এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলে পয়েন্ট টেবিল ওলটপালট করে দিয়েছে বাংলাদেশ এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো ভারতকে হারিয়ে। বল হাতে মুশফিকুর রহিমের সতীর্থরা যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করতে না পারলেও ব্যাট হাতে তামিম ইকবাল, জহুরুল ইসলাম, নাসির হোসেন, সাকিব আল হাসান আর দলপতি মুশফিকুর রহিমের জ্বলে ওঠা ভারতীয় বোলারদের হতাশায় ডুবিয়ে চার বল হাতে থাকতেই অসাধারণ এক জয় মুঠিবদ্ধ করে বাংলাদেশ। সাকিবের বিতর্কিত আউটের পরও রান-বলের অসম অঙ্কটি কঠিন হয়ে থাকতে দেননি মুশফিকুর রহিম। ইরফান পাঠানের এক ওভারে দুই ছক্কায় ১৭ রান তুলে তিনি সংশয়ের সব জাল ছিন্ন করে দেন। ম্যাচ জয়ের পর আরো এক অবিস্মণীয় দৃশ্য চোখে পড়ল ড্রেসিংরুমে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোরাসে গাওয়া হলো 'আমরা করব জয়'। বাংলাদেশের জয়ের নায়ক প্রকৃতপক্ষে কে বা কারা- এ প্রশ্ন যদি কেউ উত্থাপন করেন তাহলে একেবারে সহজ জবাব হলো, টিমওয়ার্ক আর আত্মবিশ্বাস। এই দুই-ই হতে পারে সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অন্যতম প্রধান শক্তি। আমরা আশা করি, আগামী দিনেও এর ব্যত্যয় ঘটবে না। বিগত ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারাটা ছিল তীরে এসে তরী ডোবার মতো। ওই ম্যাচেও লড়াইটা ছিল শ্বাসরুদ্ধকর; কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সে ভুল তারা শুধরে নিয়েছে ১৬ মার্চ রাতে ক্রিকেটপ্রেমীদের তুঙ্গে থাকা প্রত্যাশার প্রতি পূর্ণ মর্যাদা প্রদর্শন করে। এই জয়ের অনুপ্রেরণা মুশফিকুর রহিম ও তাঁর সতীর্থদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক শক্তি জোগাবে তাতে সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশের ক্রিকেট এগোচ্ছে- এই উচ্চারণে এখন দ্বিধা নেই। এশিয়া কাপের গত দুটি ম্যাচেই টাইগাররা সে প্রমাণ রেখেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে হারাটা যেন শুধুই দুর্ঘটনা। সেদিন পাকিস্তানিদের কপালে শঙ্কা আর উদ্বেগের ভাঁজ ফেলে দিয়েও টাইগারদের হেরে যাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনকই। অনুশীলনের মধ্য দিয়েই পরিশীলিত হওয়ার কাজে আরো মনোযোগী হয়ে যাঁর যাঁর সবটুকু উজাড় করে দিয়ে টাইগাররা সামনে আরো দর্শনীয়, উপভোগ্য, গর্ব করার মতো অধ্যায় রচনা করতে সক্ষম হবেন- সে প্রত্যাশা রইল। আবারও আমরা অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাই। একই দিন ইতিহাস গড়লেন ক্রিকেটের বরপুত্র শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। তিনি শততম সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন ইডেন নয়, ওয়াংখেড়ে নয়, নয় সিডনিও; ১৬ মার্চ ঢাকার মিরপুরে। ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক রেকর্ড, খ্যাতি, যশের নায়ক শচীন আজ ক্রিকেটের রাজাধিরাজ। তাঁকেও আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। যে সিঙ্গেলটি নিয়ে তিনি পৌঁছে গেলেন মোক্ষধামে, তা শুধু তাঁর কাছেই নয়, ক্রিকেটপ্রেমী সবার কাছেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জয় হোক ক্রিকেটের।
« পূর্ববর্তী সংবাদ
       

No comments

Powered by Blogger.