স্থানীয় সরকার-বিভক্তি ও বিভ্রান্তির কবলে ঢাকা সিটি করপোরেশন by তোফায়েল আহমেদ

ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল মহানগর, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের রাজধানী। রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও অনেক নগর-মহানগর বাণিজ্য ও শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হয় না। প্রশাসনিক রাজধানী ছাড়াও দেশের প্রধানতম শিল্প ও ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবেও ঢাকার গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক দেশে রাজধানী শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্র।


যেমন—ওয়াশিংটন, ইসলামাবাদ, হেগ, পুত্রজায়া প্রভৃতি নগরকে শুধু প্রশাসনিক নগর হিসেবে দেখা যায়। তাই আকস্মিকভাবে ঢাকাকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করে দুটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান তথা করপোরেশন করার সিদ্ধান্তটি সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। বরং বড় ধরনের একটি বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে।
ঢাকা শহরের নাগরিক সমস্যা পর্বতপ্রমাণ। এসব সমস্যার উৎস ও সমাধান সবটা ঢাকা শহরের সীমানায় সীমাবদ্ধও নয়। অনেক সমস্যাই জাতীয় সমস্যার অন্তর্গত, যা সিটি করপোরেশনের আওতায় সমাধান করা সম্ভবও নয়। সিটি করপোরেশনকে যতই শক্তিশালী, দক্ষ ও কার্যকর করা হোক, তার পরও সেবার আওতা থাকবে সীমিত। তাই ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে নাগরিক প্রত্যাশারও একটি বাস্তবসম্মত সীমারেখা থাকতে হবে। ঢাকা শহরের জনসংখ্যাস্ফীতি এ শহরের সমস্যাকে দিন দিন প্রকট করছে। ঢাকামুখী এ জনস্রোত কমানোর ক্ষেত্রে উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম কোনো সিটি করপোরেশনেরই কোনো ভূমিকা থাকবে না। এটি জাতীয় রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলের সমস্যা। অতিকেন্দ্রীভূত একটি রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় ঢাকার বাইরের মানুষকে ঢাকায় আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, উন্নত জীবন, বহির্গমন—সবকিছুই ঢাকায় কেন্দ্রীভূত। ঢাকার বাইরে চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। তা ছাড়া প্রশাসনিক কাজে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে ঢাকায় আসতে হয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, বহির্গমন প্রভৃতি প্রসঙ্গ না হয় বাদই দিলাম। বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারও এখন ওই জেলা শহর বা ওই সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় বা মহাবিদ্যালয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঢাকা শহরেই এসব নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়। সরকারি সব বিভাগ, দপ্তর, বেসরকারি বা করপোরেট সেক্টরের কথা নাই-ই বা বলা হলো। প্রতিদিন ঢাকার জেলা আদালত, বিভিন্ন ট্রাইব্যুনাল, উচ্চ আদালতে শুধু বিচারপ্রার্থী মানুষের সংখ্যা কত? তাই বর্ধিত জনসংখ্যার দোহাই দিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দ্বিখণ্ডিত করে সেবার মান উন্নয়ন বা ত্বরান্বিত করার যুক্তি সঠিক নয়।
ঢাকা শহরের জনসংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। নগরবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলামের হিসাবমতে, এ জনসংখ্যা ৮৫ লাখ। কিন্তু লোকজনের ধারণা, এই সংখ্যা এক কোটি ৩০ লাখ বা তারও বেশি। কিন্তু ঢাকা সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, ২০১০ সালে মোট হোল্ডিংসংখ্যা হচ্ছে এক লাখ ৮৬ হাজার ৬৪৬। করপোরেশনের এ হোল্ডিংসংখ্যা ঠিক থাকলে জনসংখ্যা ও শহরের করদাতা নাগরিক, সেবাব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে আরও গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন। ঢালাও মন্তব্য থেকে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। অসম্পূর্ণতা ও অসংগতিগুলোর উৎস, প্রকৃতি ও প্রভাব বুঝতে হবে।
ঢাকা সিটি করপোরেশন ঢাকার নাগরিকদের যথাযথ সেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণগুলোর বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ প্রয়োজন। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এ সিটি করপোরেশন প্রথমত, আইনগতভাবে একটি দুর্বল সংগঠন। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক সংস্কৃতি জনসেবামুখী নয়, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থমুখী। তৃতীয়ত, এ করপোরেশনের জনবল অতিমাত্রায় দলীয়কৃত, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং একাধিক গ্রুপে বিভক্ত। সিটি করপোরেশন আইনে প্রধান নির্বাহী হিসেবে মেয়রের ভূমিকা একক ও অদ্বিতীয়। এখানে যৌথ নেতৃত্বের বা নির্বাচিত কাউন্সিলরদের ভূমিকা অস্পষ্ট এবং দুর্বল। সিটি করপোরেশন কাঠামোতে শীর্ষ পদাধিকারী মেয়রই সিটি করপোরেশনের মূল নিয়ন্তা। সংসদীয় পদ্ধতির সরকার দীর্ঘ সংগ্রাম করে প্রতিষ্ঠা করা হলেও স্থানীয় সরকারের সর্বত্র রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারের আদল বহাল আছে। আমাদের দুর্বল স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় যতটুকুই ক্ষমতা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়েছে, তাও এক ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদে নিজ নিজ পরিষদের চেয়ারম্যান। এ ব্যবস্থাটিতে পরিবর্তন ও সংস্কার প্রয়োজন। প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বা ত্রিপুরার গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় সরকারগুলোর দিকে তাকালেই আমরা পার্থক্যটি বুঝতে পারব। সেখানে মেয়র, চেয়ারম্যান বা প্রধানদের নির্বাচনটা গুরুত্বহীন। সদস্য বা কাউন্সিলর নির্বাচনটাই তাদের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ফলে যাঁরাই চেয়ারম্যান, সভাধিপতি, মেয়র প্রভৃতি পদে আগ্রহী, তাঁরা সবাই প্রথমে সদস্য বা কাউন্সিলর হন। ফলে যেকোনো একটি কাউন্সিলে প্রধান ব্যক্তি হওয়ার মতো অনেক যোগ্য লোকের সমাবেশ ঘটে। শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলরদের ভোটে একজনই প্রধান আসনটি পেয়ে যান। অন্যরা কিন্তু সংগঠনের অভ্যন্তরে সদস্য হিসেবে থাকেন। সভাগুলো প্রাণবন্ত থাকে। স্থায়ী কমিটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের এখানে এক ব্যক্তির শাসনব্যবস্থা থাকার কারণে সবাই প্রধান পদের জন্য লড়েন। একজন নির্বাচিত হন। বাকিরা নির্বাচনের পর হারিয়ে যান। ঢাকা সিটি করপোরেশনে বিগত নয় বছর সময়ের মধ্যে প্রতি মাসে একটি করে কম করে হলেও ১০০টি সাধারণ সভা হওয়ার কথা। যেখানে সব কাউন্সিলর করপোরেশনের প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনার সুযোগ পেতেন। সে রকম সভা হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও পুরো সময়ে ১৫-১৬টির বেশি সভা হয়নি। স্থায়ী কমিটিগুলো অকার্যকর। অনেক ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের পদ তিন, চার ও পাঁচ বছর ধরে শূন্য। সিটি করপোরেশন অকার্যকর হওয়ার এটি একটি কারণ। যার মূল উৎস বিদ্যমান আইন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
সিটি করপোরেশনের পুরো সেবাকর্ম একশ্রেণীর রাজনৈতিক ঠিকাদার, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কমিশনবাজ ও তদবিরকার কাউন্সিলরদের হাতে জিম্মি। কাউন্সিলর এবং কর্মচারীদের একটি অংশ বেনামে ঠিকাদারি ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। সেবার মান উন্নয়ন এ দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখে কোনোভাবেই উন্নয়ন করা ও উন্নত সেবাদান সম্ভব নয়। বিভিন্ন সময়ের দলীয় মেয়ররা দলীয় বিবেচনায় কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। তাঁদের দিয়ে কাজ করানো দুঃসাধ্য। ঢাকা সিটি করপোরেশনের অনেক কাজ। কিন্তু বহু কর্মচারী কাজে না এসেও বেতন পান।
ঢাকা শহরের পানি সরবরাহ একসময় ঢাকা পৌরসভা তথা মিউনিসিপ্যালিটিরই কাজ ছিল। কালক্রমে ওয়াসা হয়েছে। এভাবে প্রতিটি সেবা পানি, বিদ্যুৎ, পরিকল্পনা, গৃহসংস্থান, অবকাঠামো নির্মাণ প্রভৃতি কাজের জন্য সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পৃথক পৃথক সংস্থা হয়েছে। একটি হিসাবে দেখা গেছে, ১৯টি মন্ত্রণালয়ের ৫২টি দপ্তর বা সংস্থা ঢাকা শহরে বিভিন্ন রকমের সেবা, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণমূলক কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তবতা হচ্ছে, সিটি করপোরেশনও অন্য ৫২টি প্রতিষ্ঠানের মতো একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু যে বিষয়টিতে আমরা ধীরে ধীরে বিস্মৃত হয়ে পড়ছি তা হচ্ছে, সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার সংস্থা সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকার সরকার। তাই অন্য সংস্থাগুলো ওই সব সরকারের নির্দেশনা গ্রহণ করবে, নাকি সমন্বয় করে কাজ করবে, তা কেন্দ্রীয় সরকার ও জাতীয় সংসদকে পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করে দিতে হবে।
আগেই বলেছি, ঢাকা বাংলাদেশের অন্য দশ-বিশটা শহরের মতো নয়। এটি দেশের প্রশাসন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু। তাই এ শহরের অব্যবস্থাপনায় শুধু ক্ষমতাসীন সরকার নয়, দেশবাসী চুপ থাকতে পারে না। এখানে সুশাসন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সর্বাধিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। এ নিয়ে যেকোনো চিন্তাভাবনা ও পদক্ষেপ অভিনন্দনযোগ্য। কিন্তু বিষয়টির আকস্মিকতায় সাধারণ নাগরিকেরা কিছুটা বিমূঢ় ও বিভ্রান্ত। এ বিভ্রান্তি কাটাতে হবে।
ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ঘিরে এত দিন যে জল্পনা-কল্পনা, তার কেন্দ্রে ছিল নির্বাচন। উদ্ভট শোনালেও বাস্তব হচ্ছে, আমরা নির্বাচন এবং গণতন্ত্র সমার্থক মনে করি, কিংবা ক্ষমতারোহণের সিঁড়ি হিসেবে নির্বাচনকে ব্যবহারের একটি প্রথা গড়ে তুলেছি। তাই যত উত্তাপ-উত্তেজনা সব নির্বাচনকেন্দ্রিক। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী গণতন্ত্র চর্চার কোনো পরম্পরা কোথাও সৃষ্টি করতে পারছি না। ঢাকা শহরের মেয়াদোত্তীর্ণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য সবাই হাপিত্যেশ করে যাচ্ছিল। কিন্তু সরকার এবং বিরোধী দল কোনো পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে কোনো উৎসাহ দেখা যাচ্ছিল না। বিরোধী দলের একজন বড় নেতা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে অকার্যকর ডিসিসিতে নয় বছর মেয়র পদে আছেন। তিনি বা তাঁর দল সময়মতো নির্বাচনের দাবি ওঠাল না। সরকারি দলও গত প্রায় তিন বছর তাঁকেই মেনে নিল। বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে রহস্যাবৃত।
ঢাকা মহানগরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ঢাকা সিটি করপোরেশনকে বিভক্ত করে নতুন দুটি করপোরেশন করার সিদ্ধান্তটি এ মহানগরের বর্তমান সমস্যা এবং অন্তত আরও সামনের ৫০ বছরকে সামনে রেখে চিন্তা করুন। বিশ্বে একক, অঞ্চলগত বিভাজন এবং বিকেন্দ্রীকৃত নগর ব্যবস্থাপনার অনেক মডেল বর্তমান। আমাদের বাস্তবতার নিরিখে আমরা কোনো মডেল এককভাবে বা একাধিক মডেলের মিশ্রণে অর্থাৎ এর রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও কাঠামো, সেবা ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিকভাবে আবার কার্যগতভাবে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদির একটি রূপরেখা তৈরি করতে পারি। পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং বসবাসের যোগ্যতার নিরিখে ঢাকা দুর্নাম বয়ে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে ঢাকার নাগরিক সমাজ ডিটেল এরিয়া প্ল্যান, সামগ্রিক পরিবেশ বিশেষত নদী, পানি, সড়ক, বাসস্থান ইত্যাদি নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। তার সঙ্গে ভূমিকম্প-ঝুঁকি বিপন্নতা বিভিন্নভাবে ভাবিয়ে তুলছে।
এ মুহূর্তে যেহেতু ঢাকা সিটি করপোরেশনকে পুনর্গঠন, সংস্কার বা নতুনভাবে গঠনের ক্ষেত্রে সরকার পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তাই প্রস্তাব করব, এ প্রয়াসটি ক্ষুদ্র কোনো সাময়িক রাজনৈতিক অর্জন বা বর্জন নয়, দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রেক্ষিতে চিন্তার আলোকে নেওয়া হোক। এ জন্য বিষয়টি নিয়ে রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজ, নগরবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, নগরের পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি সবার সঙ্গে মতবিনিময় হোক এবং এ জন্য একটি ছোট কমিটি বা কমিশন গঠনও করা যেতে পারে। তাঁরা এ বিষয়ে সরকারকে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর সরকার তা বাস্তবায়নে যেতে পারে। এ নগরের বিভিন্নমুখী সমস্যা ও এর সমাধান নিয়ে অত্যন্ত দক্ষ ও যোগ্য বহু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চিন্তাভাবনা করে আসছেন। এসব একত্র করে আলোচনা-মতবিনিময় হোক। তারপর সরকার যা করার তা ধীরে ধীরে করবে।
ধরে নিলাম, বিভক্ত হলো ঢাকা সিটি করপোরেশন। এতে নতুন কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। প্রথমত, দুই করপোরেশনের মধ্যে সম্পদ ভাগাভাগি, জনবল পদায়ন, অবকাঠামো সৃষ্টি ও ব্যবহার। নগর পরিকল্পনার যে কাজ করতে হবে, তা পুরো একক নগরকে নিয়ে করতে হবে। ভবিষ্যতে যদি পূর্বাচলে বসবাস শুরু হয়, সেটি একটি নতুন পৌরসভায় রূপান্তরিত হতে পারে। এভাবে ঢাকার বর্তমান চৌহদ্দি নির্ধারণ করে আশপাশে আরও পৌরসভা কিন্তু হতে পারে। তাই এসব বিষয়ে চিন্তা ও কর্মের সামগ্রিকতা প্রয়োজন।
ড. তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষাবিদ, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও লেখক।
ahmedt_dr@yahoo.com

No comments

Powered by Blogger.