সাংবাদিক দম্পতি হত্যা-সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া বক্তব্য না দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় তদন্তে অগ্রগতির সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে না দিতে পুলিশের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ‘আরেক জজ মিয়া খুঁজছে পুলিশ’ ও ‘আরেক জজ মিয়া প্রস্তুত’—তদন্ত-প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে এ ধরনের


অনুমাননির্ভর সংবাদ প্রকাশ না করার বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নিতে তথ্যসচিবের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন ওই নির্দেশের পাশাপাশি রুলও জারি করেন।
সাগর-রুনি হত্যার কারণ উদ্ঘাটন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুনিদের আদালতে সোপর্দ করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
স্বরাষ্ট্রসচিব, তথ্যসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) ও শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গতকাল সকালে ওই ঘটনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রিট আবেদনটি করেন। দুপুরে আবেদনের ওপর শুনানির পর আদালত আদেশ দেন।
আদেশে আদালত বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। একাধিক তদন্ত সংস্থা পুরো সত্য বের করে আনতে কাজ করছে। সরকারপ্রধান ঘটনাটি তদারকির দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, কিছুসংখ্যক রাজনীতিবিদ তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন। কিছু রাজনীতিবিদ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এ ধরনের মন্তব্য করছেন।’
আদালত আরও বলেন, লালমনিরহাটে বিরোধীদলীয় নেতা যা বলেছেন, এর মাধ্যমে তিনি রায় দিয়ে দিয়েছেন। এ মন্তব্যের সমালোচনার ভাষা আমাদের নেই। এই বক্তব্য তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে। ব্রিটেন বা অন্য কোনো দেশে এ ধরনের মন্তব্য করলে জেলে যেতে হতো। ওই মন্তব্য শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীনতাই নয়, আদালত অবমাননার শামিল। কারণ, ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে। আদালত আশা প্রকাশ করেন, বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আলতাফ হোসেন। এ ছাড়া আদালতের আহ্বানে আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন, এ এম আমিন উদ্দিন, শ ম রেজাউল করিম, নুরুল ইসলাম ও ইত্তেফাক-এর আইন, সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনবিষয়ক সম্পাদক সালেহউদ্দিন।
শুনানি: শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তদন্ত সঠিকভাবে হচ্ছে। কিন্তু কিছু সংবাদপত্রে জজ মিয়া নাটকের কথা বলা হচ্ছে। এখন যদি এ বিষয়ে আদালত আদেশ না দেন, তাহলে সত্যিকার আসামি গ্রেপ্তার হলেও জনগণ তা বিশ্বাস করবে না। এ জন্য একটি জনস্বার্থ মামলা নিয়ে এসেছি।’
এ সময় আদালত কক্ষে উপস্থিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিনের কাছে আদালত জানতে চান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেছেন ওই হত্যাকাণ্ডে সরকার জড়িত। এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া কি ঠিক? জবাবে মাহবুবউদ্দিন বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে বলব, বিচারাধীন বিষয়ে কোনো পক্ষেরই মন্তব্য করা ঠিক নয়। এ নিয়ে দুজন মন্ত্রীও বক্তব্য দিয়েছেন। আর লালমনিরহাটে বিরোধীদলীয় নেতা যে কথা বলেছেন, সেটি হচ্ছে গত কয়েক দিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সারমর্ম।’
আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ অনুসারে তদন্তের জন্য ১২০ দিন সময় নির্ধারণ করা আছে। যদি ওনার (খালেদা জিয়া) কাছে ওই ধরনের কোনো তথ্য থাকে, তাহলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে পারেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তিনি তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারেন।

No comments

Powered by Blogger.