পটুয়াখালীতে সংযোগ সড়কের পুনর্নির্মাণ বন্ধ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী থেকে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা হয়ে আমড়াগাছিয়া পর্যন্ত ৮৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের পুনর্নির্মাণকাজ শুরুর দুই বছর পর বন্ধ হয়ে গেছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ইতিমধ্যে মাত্র তিন কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় এক কিলোমিটার অংশে কিছু কাজ হয়েছে।


অথচ ২০১৩ সালের জুন মাসের মধ্যে সড়কটির পুনর্নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রায় ১০০ কোটি টাকা প্রকল্পের এই কাজের বরাদ্দ এসেছে মাত্র চার কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কাজ বন্ধ করে রেখেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২২ জানুয়ারি সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবিতে দুমকির নসিব সিনেমা হল এলাকায় ওই সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে নির্মিত ৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি দুমকির লেবুখালী থেকে শুরু হয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা এই চার উপজেলাকে সংযোগ করে আঞ্চলিক মহাসড়কের আমড়াগাছিয়ায় মিলিত হয়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কের কার্পেট উঠে ছোটবড় অসংখ্য খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট এই সড়ক বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি ২৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা। ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কার্যাদেশ পান মাহাফুজ খান, হাজী এন্টারপ্রাইজ, ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং একেএ অ্যান্ড এমএ নামে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৩ সালের জুনের মধ্যে এই সড়ক পুনর্নির্মাণকাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুমকির লেবুখালী থেকে বগা ফেরিঘাটের চর গরবদি পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটারের পুনর্নির্মাণকাজ শুরু করে। এই দুই বছরে দুমকির চর গরবদি এলাকায় তিন কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং লেবুখালী এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশে কিছু কাজ করার পর এখন পুনর্নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
পটুয়াখালী সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কমলেন্দু মজুমদার বলেন, তিন বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করার কথা। গত দুই বছরে বরাদ্দ এসেছে মাত্র চার কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থ বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররাও কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে সড়কটি পুনর্নির্মাণের কাজ চলমান রাখার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.