সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নিন-শাকসবজির বাজারে আগুন

বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম অকল্পনীয় হারে বাড়ছে। বিশেষভাবে বাড়ছে শাকসবজির দাম। শুধু বাড়ছে না, ঢাকায় আসার সঙ্গে সঙ্গে সবজির দাম বেড়ে দ্বিগুণ হচ্ছে। রোববার প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদনে মূল্যবৃদ্ধির এই উদ্বেগজনক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সিন্ডিকেট ও পথে পথে চাঁদাবাজি এর একটি বড় কারণ। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বাজার তদারকে কোনো রকম শিথিলতা মেনে নেওয়া যায় না।


এখন বাজারে ৪০ টাকার নিচে প্রায় কোনো সবজি নেই। অথচ নরসিংদী, কুমিল্লা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর থেকে প্রতিদিন প্রচুর শাকসবজি ঢাকায় আসছে। সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম বাড়ার কথা নয়। কিন্তু এখানে অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়মটি অচল। বাজারে মাল আসার সঙ্গে সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সলাপরামর্শ করে নিজেদের নির্ধারিত দামের কমে পণ্য বিক্রি না করার জন্য জোট বাঁধে বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতারা অসহায়।
উৎপাদক পর্যায়ে যে বেগুনের দর ২৫-৩০ টাকা, ঢাকায় ভোক্তা পর্যায়ে তার দাম ৪০-৫০ টাকা। করলা কৃষক বিক্রি করে ৩০-৩৫ টাকায়, ঢাকায় বিক্রি হয় ৬০ টাকায়। সাধারণত খুচরা বাজারে ব্যবসায় শতকরা ১০ ভাগ মুনাফাকে স্বাভাবিক ধরা হয়। কিন্তু এখন ঢাকার বাজারে মুনাফার হার ক্ষেত্রবিশেষে শতকরা ১০০ ভাগ। বাজারে দাম বাড়লেও কৃষক দাম পাচ্ছেন না। কিছু মধ্যস্বত্বভোগী লোক মুনাফার একটি বড় অংশ নিয়ে যাচ্ছেন। এঁরা বাজার অর্থনীতিতে পরগাছার মতো। এঁদের উদোর স্ফীত হচ্ছে। এঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণও জরুরি হয়ে উঠেছে।
এবার অতিবৃষ্টির কারণে সবজি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফসলের বীজও নষ্ট হয়েছে। আবার রাস্তাঘাটও খারাপ। এর কোনোটিই অতি মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হতে পারে না। বাজারে তো শাকসবজির অভাব নেই। তাহলে কেন এত দাম বাড়বে? অনেক সময় সরকার নিজেই দাম বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করে। সম্প্রতি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। বেড়েছে পরিবহনব্যয়। ওয়াসার পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দামও কিছু কিছু করে বাড়ানো হয়, আরেক দফা বাড়ানোর কথা চলছে। সরকার দুই হাতে জিনিসের দাম বাড়াচ্ছে, ব্যবসায়ীরা কি বসে থাকবেন? ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কমলেও দেশে বেড়েছে। কে এই অনিয়মের প্রতিকার করবে?
মূল্যস্ফীতির হার এখন ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এই হার অন্তত এক অঙ্কের মধ্যে রাখার কথা বিভিন্ন সময় সরকার বলে এসেছে। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না। সীমিত ও নির্ধারিত আয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। খাবার তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে। প্রথমে কাটা গেছে মাছ-মাংস। ভরসা ছিল সবজি। এখন সেটাও বাতিলের খাতায় চলে যাচ্ছে।
বাজারে অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করাই হবে সরকারের প্রধান কাজ। আর সরকার যদি সত্যিই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, তাহলে অন্তত দু-চারটি সিন্ডিকেট ও সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.