সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ-রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়াতে হবে by ইমতিয়াজ আহমেদ

মিয়ানমারে ফের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় সহিংসতা শুরু হয়েছে। হত্যা, লুট, অগি্নসংযোগ, বাড়িঘর থেকে বিতাড়ন_ সবকিছুই একতরফা। এর শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, যাদের ধর্ম ইসলাম।


সহিংসতায় অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হওয়ার খবর সরকার স্বীকার করেছে। বেসরকারি হিসাবে, মৃতের সংখ্যা ৩শ' ছাড়িয়ে গেছে। এ ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতি যখনই সৃষ্টি হয়, রোহিঙ্গাদের স্বাভাবিক গন্তব্য হয়ে ওঠে নিকটবর্তী বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চল। তারা দলে দলে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে সচেষ্ট হয়। সত্তরের দশকের শেষদিকে এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তারা বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং তাদের সাময়িক আশ্রয়ও দেওয়া হয়েছে। পরে আন্তর্জাতিক সহায়তায় তাদের বড় অংশকে ফেরত পাঠানোও সম্ভব হয়। তারপরও বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে অন্তত ২১ হাজার রোহিঙ্গা রয়ে গেছে। জন্মসূত্রে পরিবারে নতুন সদস্য আসায় সে সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৬ হাজার। এদের বাইরে কক্সবাজার অঞ্চলে অন্তত ৩ লাখ রোহিঙ্গা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বলে অনুমান।
বাংলাদেশ সরকার এখন নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থী গ্রহণের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তি হচ্ছে_ রোহিঙ্গারা প্রবেশ করলে জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি হয়। আর্থ-সামাজিক সমস্যা তো রয়েছেই। তাছাড়া রোহিঙ্গারা যেহেতু মিয়ানমারের নাগরিক এবং এ সমস্যা যেহেতু তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই বাংলাদেশের কিছু করণীয় নেই। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবশ্যই অনেক কিছু করার রয়েছে এবং সে ক্ষেত্রে তাদের কথা বলতে হবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। বাংলাদেশ সরকার এটাও বলছে যে, অতীতে যারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাদের সবাইকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। তদুপরি বাংলাদেশ পরিস্থিতির কারণে ও মানবিক তাগিদ থেকে তাদের আশ্রয় প্রদানের পরও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হয়নি। নতুন করে শরণার্থী এলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপও সৃষ্টি হবে।
সরকারের এ অবস্থানে অনেকে যুক্তি খুঁজে পাবেন। আবার অনেকে বলবেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখলে এ নীতি সঠিক বলে মনে হবে না। নৈতিক প্রশ্নও উঠবে। যেসব কারণে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; তার পেছনে জনগণের মুক্তির প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং তা বাস্তবায়নে সংগ্রাম পরিচালনাই ছিল মুখ্য। পাকিস্তানি শাসকরা এ আকাঙ্ক্ষা দমনে নিষ্ঠুর গণহত্যা পরিচালনা করতে থাকলে সে প্রেক্ষাপটে প্রায় এক কোটি শরণার্থী প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। সেখানে মেলে জীবনের নিরাপত্তা এবং খাদ্য ও অস্থায়ী বাসস্থান। আমাদের পাশে যে বিশ্বসমাজ এসে দাঁড়িয়েছিল; তার পেছনে শরণার্থী সমস্যা বিশেষভাবে বিবেচনায় ছিল। তারা মানবাধিকার ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়েছে। এখন স্বদেশে নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে; তাদের গ্রহণ না করার পক্ষে যত যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন, নৈতিকতার প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেকেই মনে করেন যে, সরকার হয়তো নারী ও শিশুদের গ্রহণ করতে পারত। প্রকৃতই কারা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে আশ্রয় চাইছে তা যাচাই-বাছাই করে বের করা একেবারে অসম্ভব ছিল না। একই সঙ্গে আরেকটি কাজ গুরুত্বপূর্ণ ছিল_ কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার। রোহিঙ্গা সমস্যা সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ এক বা একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিতে পারত। আমি বলব, এখনও সে সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও সৌদি আরবে অনেক রোহিঙ্গা রয়েছে এবং এ সমস্যার কারণে তারাও উদ্বিগ্ন। বিষয়টি নিয়ে এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠান করা যায়। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালাতে হবে। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশ, তুরস্ক প্রভৃতি দেশকে নিয়েও বসা উচিত। নতুন করে কেন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চেষ্টা করছে এবং কীভাবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে_ সে বিষয়ে এসব প্রভাবশালী দেশের অভিমত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এটাও ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা কোনো উদ্যোগ না নিলেও ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। কুয়ালালামপুরে এ ধরনের একটি সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন। তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সম্মেলনে ছিলেন সে দেশের ফার্স্ট লেডি। জাকার্তায় এ ধরনের আরেকটি সম্মেলন হবে বলে শোনা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে_ বাংলাদেশ কী করছে। মিয়ানমারের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত এবং রোহিঙ্গাদের বসবাসের প্রধান এলাকা এ সীমান্ত সংলগ্ন স্থানেই। নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থী আসার চাপ সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করতে পারতেন। একই ধরনের ফোরাম হতে পারত জেনেভায়। কিন্তু আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা রয়েছেন, তাদের কারোরই এ নিয়ে বিশেষ কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিক বিবৃতি দিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরেও কিছু কথা বলেছেন। কিন্তু সমস্যার ব্যাপকতার সঙ্গে তা যথেষ্ট বলে মনে হয় না। এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের যা করণীয় সেটা থেকে দূরে অবস্থানের কারণ কি কূটনৈতিক অদক্ষতা? সরকার বলতেই পারে যে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে যেসব জঙ্গি বা উগ্রপন্থি রয়েছে তাদের কোনোভাবেই বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হবে না। কিন্তু মা ও শিশুদেরও কি ঢালাওভাবে উগ্রপন্থি বলা যায়? যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের নাগরিক নাফিস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে আটক রয়েছে। এখন কেউ যদি বলে যে, সে দেশে যেসব বাংলাদেশি রয়েছে কিংবা বাংলাদেশ থেকে যারা সে দেশে প্রবেশ করতে চায়, তারা সবাই সন্ত্রাসী_ সেটা কি গ্রহণযোগ্য হবে? রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানের তুলনা টেনে এভাবে যদি কেউ বলে, সেটা কীভাবে খণ্ডন করা যাবে?
আমাদের কূটনৈতিক অদক্ষতার একটি নজির হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মিয়ানমার সফরের কথা উল্লেখ করতে চাই। তিনি যে সময় ইয়াংগুনে গিয়েছেন, তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চি দেশেই ছিলেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সে দেশ সফরের সময় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ এখন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। সে দেশের সরকার, যারা তাকে দীর্ঘ সময় অন্তরীণ রেখেছে_ তারাও আর এতে আপত্তি করে না। বরং তাদের তরফে বলাই হচ্ছে যে, তিনি ক্ষমতায় এলেও সেটা মেনে নেওয়া হবে। প্রকৃতপক্ষে তাকেই দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে গণ্য করা হয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ইয়াংগুন সফরের সময় দু'জনের কোনো বৈঠকের আয়োজন করা হয়নি। বলা হয়েছে যে, তার অন্য কর্মসূচি থাকায় সময় করতে পারেননি। এ অবস্থায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল সফরসূচি পুনর্নির্ধারণ করার অনুরোধ জানানো। শেখ হাসিনার সফরের এক সপ্তাহ আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কয়েক দিন পরে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও তিনি সময় দিয়েছেন। অথচ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কোনো কথা হলো না। মিয়ানমার এখন গণতন্ত্রের পথে চলতে চাইছে এবং সেটা অং সান সু চিকে সামনে রেখেই। তার সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা হতেই হবে। তিনি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এবং বিশ্বসমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ যেসব সমস্যা রয়েছে, সেটা নিয়ে তার সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা কাম্য। সে দেশের সরকার দীর্ঘ দিন যেসব সমস্যা জিইয়ে রেখেছে, তার সমাধানে তিনি সহায়তা করবেন_ এমন প্রত্যাশা বাংলাদেশের তরফে করাই যথাযথ।
কূটনৈতিক অদক্ষতার আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত মামলার রায়ের পরবর্তী সময়ে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির কথা উল্লেখ করতে চাই। তিনি এ রায়কে বাংলাদেশের জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমাদের জনগণ এভাবেই বিষয়টি দেখছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের তরফে এ ধরনের কথা বলা যেতেই পারে। কিন্তু কূটনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে সুযোগ এসেছিল। তিনি মিয়ানমারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলতে পারতেন যে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক সালিশির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন দুটি দেশ সমুদ্র সম্পদ একযোগে কাজে লাগাতে উদ্যোগী হতে পারে। এ জন্য একটি আন্তর্জাতিক কিংবা আঞ্চলিক শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে, যার ক্যাম্পাস থাকবে ইয়াংগুন ও চট্টগ্রামে। সমুদ্র এলাকা নিয়ে আমাদের যে বৈরিতা সৃষ্টি হয়েছিল; দুটি দেশ শান্তিপূর্ণ উপায়ে তার সমাধান করেছে। এখন আমরা সহযোগিতার পথে চলতে পারি এবং এতেই সবার কল্যাণ। কিন্তু আমাদের বিজয় ঘোষণার অর্থ তো মিয়ানমারের পরাজয়! এভাবে কেন বেদনাবোধকে আরও উস্কে দেওয়া? সম্পর্ক উন্নয়নের কাজ সহজ নয়_ সেটা নিশ্চয়ই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানা আছে।
মিয়ানমার ২০১৪ সালে আসিয়ানের সভাপতির পদ পেতে চলেছে_ সেটাও যেন আমরা বিস্মৃত না হই। আসিয়ানের একাধিক দেশের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। মালয়েশিয়ায় কয়েক লাখ বাংলাদেশি কাজ করছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া বাংলাদেশের মতোই মুসলিম অধ্যুষিত। মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। চীনকেও পাশে পাওয়া সম্ভব। আসিয়ান তার প্রধান পদে এমন কোনো দেশকে নিশ্চয়ই চাইবে না, যারা নির্লর্জ্জভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। আমি রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের কথা বলছি, তাতে আসিয়ানের একাধিক দেশ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। যে দেশটি গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে চলতে উদগ্রীব, তারা কেন তার নিজ দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিককে পরিকল্পিতভাবে অন্য দেশে বিতাড়ন করবে? মিয়ানমারকে বোঝাতে হবে যে, দশকের পর দশক ধরে সে দেশে যারা বসবাস করছে, তাদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ না করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। ইতিপূর্বে দুই দফায় যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল তাদের বেশিরভাগকে ইউএনএইচসিআরের উদ্যোগে মিয়ানমার ফেরত নিয়েছে। এ থেকে এ স্বীকৃতিই মেলে যে, তারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং বিপদে পড়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হলেও তাদের সরকার তাদের স্বদেশে নিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকেও এ বক্তব্যের সমর্থনে অভিমত আসতে পারে। তাদের এটাও বলা যেতে পারে যে, বিভিন্ন দেশে যেসব সচ্ছল রোহিঙ্গা রয়েছে, তাদের মধ্যে যারা নির্দিষ্ট অঙ্কের পুঁজি সে দেশে বিনিয়োগ করবে, তাদের নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। এভাবে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের একটি জটিল সমস্যার সমাধানের পথও মিলবে।
এখন বিশ্বায়নের যুগ। বাংলাদেশ জীবন বাঁচাতে ব্যাকুল রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের সীমান্ত থেকে ফেরত দিচ্ছে_ এ খবর এখন অনেক দেশ জেনে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এটাও মনে রাখতে হবে যে, বিশ্বের নানা দেশে লাখ লাখ বাংলাদেশি রয়েছে। তারাও কখনও কখনও সমস্যায় পড়তে পারে। তাদের যদি কোনো সমস্যার কারণে দলে দলে অন্য দেশে প্রবেশ করতে হয়? তখন যদি সীমান্ত বন্ধ করে রাখা হয়? লিবিয়া সংকটের সময় আমাদের অনেক নাগরিক মিসরে আশ্রয় নিয়েছিল। তখন যদি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হতো? এ অভিজ্ঞতা স্মরণে রাখা ভালো।

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ :অধ্যাপক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

No comments

Powered by Blogger.