প্রতিমাশিল্পী সৌভাগ্যের কথা by তানভীর হাসান

দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য পূজার প্রতিমা তৈরিতে সাধারণত পুরুষ শিল্পীদেরই দেখা যায়। মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার নগরকসবার একজন নারী শিল্পী প্রতিমা বা মূর্তি তৈরি করছেন। তাঁর নাম সৌভাগ্য পাল।


সৌভাগ্য ও তাঁর স্বামী মানিক পাল দুজনই প্রতিমাশিল্পী। মূর্তি তৈরি এই দম্পতির পেশা।
শুক্রবার রাতে মিরকাদিমের নগরকসবা এলাকায় রাধা মোহন জিউর মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সৌভাগ্য ও মানিক পাল এবারের দুর্গাপূজার জন্য তৈরি প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের কাজ করছেন। কারণ, শনিবার থেকেই শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা।
দেখা গেল, প্রতিমার গায়ে তুলি দিয়ে রং করছেন সৌভাগ্য। আর রং স্প্রে করছেন মানিক পাল। কাজের ফাঁকে ফাঁকে কথা হয়। সৌভাগ্য পাল জানালেন, ২৫ বছর হলো বিয়ে হয়েছে মানিক পালের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন।
স্বামীকে মূলত সহযোগিতা করতেন প্রথম দিকে। এখন নিজেই মাটি লেপে লেপে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করা, রং লাগানোর মতো কাজ করেন। মানিক পাল জানান, মূর্তি তৈরির কাজ তিনি তাঁর বাবা মৃত মরণ পালের কাছ থেকে শিখেছেন।
তাঁর বাবা প্রায় শত বছরের জীবনের ৮৫ বছর মূর্তি তৈরি করেছেন। মানিক পালও ৪৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছেন। পূজার জন্য লাগে এমন প্রায় সব ধরনের মূর্তি তৈরি করেন এই দম্পতি।
মানিক পাল ও সৌভাগ্য মুন্সিগঞ্জের নগরকসবা এলাকায় ঠাকুরবাড়িতে থাকেন। নগরকসবা রাধা মোহন জিউর মন্দিরের খালি জায়গায় তাঁরা মূর্তি তৈরি করেন। এ ছাড়া ফরমাশ পেলে মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে মূর্তি তৈরি করে দিয়ে আসেন। প্রতিবছর দুর্গাপূজার দু-আড়াই মাস আগে থেকে মূর্তি বানানো শুরু করেন তাঁরা। গড়ে প্রতিবারই ১০ থেকে ১২টি দূর্গাপ্রতিমার সেট বানাতে পারেন। প্রতিটি সেট থেকে তাঁদের ছয়-সাত হাজার টাকা আয় হয়। মানিক ও সৌভাগ্যের তিন ছেলে—শ্রীকান্ত পাল, আকাশ পাল ও প্রশান্ত পাল। তিনজনই লেখাপড়া করে।
এলাকার সুশান্ত পাল জানান, মানিক পালের পৈতৃক বাড়ি শ্রীনগর উপজেলায়। তাঁরা এখানে থেকে ৩০-৪০ বছর ধরে মূর্তি বানাচ্ছেন।
কিন্তু তাঁদের এখানে কোনো বাড়ি নেই। ভাড়া বাড়িতে থাকেন।

No comments

Powered by Blogger.