জাল নোটের বিস্তার-স্বস্তির খবরেও শঙ্কা অনেক

জাল নোট সমস্যা বিশ্বের অনেক দেশেই কমবেশি রয়েছে। ভারতে জাল নোটের অস্তিত্ব অন্তত ১৬ হাজার কোটি রুপির সমপরিমাণ। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাগজি মুদ্রা ডলারের সঙ্গেও মাঝে মধ্যে টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করে জাল নোট প্রস্তুতকারীরা।


অন্তত ৭ কোটি ডলারের সমমানের জাল ডলার বাজারে রয়েছে, এমন ধারণা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশেও জাল নোটের অস্তিত্ব রয়েছে এবং মাঝে মধ্যে ধরাও পড়ছে। এ কাজে র‌্যাব-পুলিশ-গোয়েন্দাদের সক্রিয়তা প্রশংসনীয়। সম্প্রতি তারা ২০ কোটি টাকার সমপরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করেছে। জাল টাকা বানানোর মূল হোতাদের কেউ কেউ গ্রেফতার হয়েছে। সময়-সুযোগ পেলে তারা ৫০ থেকে ১০০ কোটি 'টাকা' বাজারে ছাড়ত বলে জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেবল ভরসার দিক একটাই_ এ পর্যন্ত বাংলাদেশি মুদ্রার যত জাল করার চেষ্টা হয়েছে তার কোনোটির ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতকারীরা আসল নোটের অবিকল নোট তৈরি করতে পারেনি। অত্যাধুনিক মুদ্রণ প্রযুক্তির কারণে বাহ্যিকভাবে আসল ও নকল নোট অনেকটা একই ধরনের মনে হলেও আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য জাল করা সম্ভব হচ্ছে না। রাজধানী ঢাকাসহ কোরবানির হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তকারী স্ক্যানিং মেশিন সক্রিয় থাকলে মাত্র তিন-চার দিনের হাটে বিপুল অঙ্কের জাল টাকা লেনদেনের সুযোগ অসাধু চক্র কাজে লাগাতে পারবে না। গত বছরের কোরবানির হাটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মেশিন সক্রিয় ছিল এবং তাতে সুফল মিলেছে। এ বছর বাড়তি মেশিন সরবরাহের পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও হাটে হাটে অস্থায়ী বুথ স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাল নোট প্রস্তুতকারীদের বিশেষ নজর থাকে উৎসবের দিনগুলোর প্রতি। এবারে কোরবানির ঈদের প্রাক্কালেই পড়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। অসৎ চক্রের জন্য এটা মোক্ষম সময়। চটজলদি বড় অঙ্কের জাল নোট লেনদেনের সুযোগ তারা কাজে লাগাতে উঠেপড়ে লাগবে, এটা স্বাভাবিক। অতএব চাই সর্বোচ্চ সতর্কতা। বাংলাদেশের ব্যাংকিং সিস্টেমে জাল নোট তেমন অনুপ্রবেশ ঘটাতে পারছে না_ এটা স্বস্তির খবর। কিন্তু সীমান্ত এলাকাসহ দেশের নানা স্থান থেকেই মাঝে মধ্যে জাল নোট কারবারের খবর আসে। নোট-বাহক কাউকে কাউকে গ্রেফতারের খবরও মেলে। কিন্তু এই বাহকরা জাল চক্রের আসল হোতা নয়। তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসহায় শিকার হয়ে জেলে পচে মরে। সুতরাং জাল নোট কারও কাছে পেলেই তাকে অপরাধী ভাবা ঠিক নয়। জাল নোট প্রতিরোধে আইন প্রয়োগে দেখতে হবে যেন নিরীহসাধারণ হয়রানির শিকার না হন। র‌্যাব-পুলিশ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে এ নেটওয়ার্কে হানা দেওয়ায় সাফল্য পেয়েছে_এ খবরে স্বস্তির পাশাপাশি কিন্তু উদ্বেগও থাকে। কারণ তাদের 'সফল অভিযানের' পরেও দুর্বৃত্তরা নিবৃত্ত হয় না। এ কারণে অভিযান কেবল ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে নয়, পরিচালিত হতে হবে সারা বছর। এ সংক্রান্ত আইন-কানুনও কঠোর করার প্রয়োজন। মঙ্গলবার সমকালে 'জাল টাকার বেড়াজাল' শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের গোয়েন্দা কার্যালয়ে গ্রেফতারকৃত এক ব্যক্তিকে নিখুঁতভাবে জাল নোট তৈরি করতে দেখে ইউরো সিস্টেমের বিদেশি কর্মকর্তা বিস্মিত হয়েছেন। কিন্তু পুলিশের সূত্রই জানাচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে আটক ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হয়ে কিংবা খালাস পেয়ে ফের অপরাধ শুরু করে। অর্থনীতির জন্য সর্বনাশা গুরুতর অপরাধ করেও কী করে জেল থেকে মুক্তি মেলে, সে প্রশ্নের জবাব কিন্তু প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগকেই খুঁজতে হবে।
 

No comments

Powered by Blogger.