শেয়ারবাজারে চাঙ্গা ভাব-আর যেন কেলেঙ্কারির ঘটনা না ঘটে

ধসনামা শেয়ারবাজার আবার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা পরিচালকদের ২ শতাংশ এবং কম্পানিপ্রতি ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা বাজারে কিছুটা হলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। শেয়ারবাজারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোও ইতিবাচক হয়েছে।


স্টক এঙ্চেঞ্জগুলোও বাজারের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। সব মিলিয়ে শেয়ারবাজারে আবার কিছুটা হলেও চাঙ্গা ভাব ফিরে এসেছে। এ ক্ষেত্রে বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই আরো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত সপ্তাহের শেষ তিন দিনে সূচক ৩০৫ পয়েন্ট বেড়ে চার হাজার ৫৭২-এ স্থির হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার লক্ষণ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। তাঁদের মতে, বাজার উঠবেই, তবে একটু সময় লাগবে। তাঁরা বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধারণ করার, বুঝেশুনে বিনিয়োগ করার এবং গুজব বা হুজুগে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
২০০৯ সালে শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতনের ঘটনা ঘটে। এর জন্য কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কারসাজিকে দায়ী করা হয়। এর ফলে বহু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হয়ে রীতিমতো পথে বসে যায়। ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে আসে। সারা দেশে বিতর্কের ঝড় ওঠে। এরই মধ্যে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি যথাসাধ্য খোঁজখবর নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্টও জমা দেয়। তাতে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির জন্য স্পষ্টত দায়ী কিছু ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধে টালবাহানার অভিযোগ ওঠে। মহাজোটের শরিক দলগুলো, এমনকি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরাও সংসদ অধিবেশনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেয়ারবাজারে একই ধরনের কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছিল এবং বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে শেয়ার কেলেঙ্কারি 'ব্র্যান্ডেড' হয়ে পড়ার কথাও অনেকে বলছেন। তাই পুঁজিবাজারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা আওয়ামী লীগের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। আশা করি, সরকার এ ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। এই বাজারে পুনরায় কেউ যেন কোনো ধরনের কারসাজির ঘটনা ঘটাতে না পারে, সেদিকে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদেরও মনে রাখতে হবে, সারা দুনিয়ায়ই শেয়ারবাজারে নানা ধরনের খেলা চলে এবং বাজারে বড় ধরনের উত্থান-পতনের ঘটনা ঘটে। এখানে যেমন বড় মুনাফা হয়, তেমনি বড় লোকসানও দিতে হয়। তাই যাঁরা বিনিয়োগ করবেন, তাঁদের লোকসান প্রদানের মানসিকতাও থাকতে হবে। আবার কতটুকু লোকসান তিনি সহ্য করতে পারবেন, সে অনুযায়ীও একজনকে এখানে বিনিয়োগ করতে হবে। সর্বস্ব বিনিয়োগ করলে সর্বস্ব হারানোরও ঝুঁকি থাকবে। আমাদের শেয়ারবাজার থেকেও অতীতে বহু বিনিয়োগকারী আশাতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে দরপতনের সময় অনেকে অনেক বড় ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক নয়। তার পরও যেহেতু এই বাজারের সঙ্গে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ জড়িত, তাই এই বাজার নিয়ে রাঘব বোয়ালরা যাতে বড় বেশি ধ্বংসাত্মক খেলা না খেলতে পারে, সেদিকে সরকারকে লক্ষ রাখতেই হবে।

No comments

Powered by Blogger.