মিটার আবার অকেজো by ইমরুল কায়েস

সিএনজি অটোরিকশায় মিটার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনেকেই তাগিদ দেন। সম্প্রতি বিআরটিএর পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ এসেছিল। ঢাকার ট্রাফিক পুলিশদের সহযোগিতায় কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়িতও হয়েছিল। সিএনজি অটোরিকশার চালকরা মিটারে চলতে সবসময়ই গররাজি।


জমা বেশি, গ্যাস নেই, খরচ বেশি ইত্যাদি নানা বাহানায় যাত্রীর কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করেন তারা। ভাড়া আদায়ের যাচ্ছেতাই পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তন এসেছিল বিআরটিএর উদ্যোগের পর। ট্রাফিক পুুলিশের তদারকির পরও যে ক্ষেত্রবিশেষে চালকরা ভাড়া নিয়ে মুলোমুলি করতেন না তা নয়। মিটারে যেতে অস্বীকার তো করতেনই, অনেক সময় ১০-২০ টাকা বেশিও দাবি করতেন। তবু মিটারে যাওয়ার বিকল্পটা ছিল। কিন্তু গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা শহরের সিএনজি অটোরিকশার মিটার ব্যবস্থা আবারও অচল হয়ে পড়েছে। গ্যাসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর গ্যাস স্টেশনগুলো দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতি ঘনমিটারে আগের দাম যেখানে ছিল ১৬ টাকা ৯০ পয়সা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৫ টাকা। দাম বেড়েছে, বাড়ার পক্ষে যুক্তিও আছে। কিন্তু গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার পর যে পরিস্থিতিতে নাগরিকদের পড়তে হচ্ছে তা প্রত্যাশিত নয়। গ্যাসের দাম বাড়লে সিএনজি অটোরিকশার মিটারও নতুন দামের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া উচিত। কিছুদিন আগেই মিটার আপডেট করা হলো। তখন যদি গ্যাসের দাম বাড়ানো হতো তবে সেটি নাগরিকবান্ধব হতো। অথবা বাড়তি দামের কথা মাথায় রেখে তখন যদি চালক ও অটোরিকশা মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হতো তবুও চলত। কিন্তু মিটার আপডেট করে কিছুদিন পর গ্যাসের দাম বাড়ানোয় মিটার ব্যবস্থাই আবার ধসে পড়েছে। নগরীতে অধিকাংশ সিএনজি অটোরিকশাই আর মিটারে চলতে রাজি নয়। আগের মতোই ইচ্ছামতো দাম হাঁকাচ্ছেন তারা। নয়তো মিটারের চেয়ে বাড়তি টাকা দাবি করছেন। গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রতি ঘনমিটারে ৮ টাকা ১০ পয়সা, কিন্তু তারা সিএনজিগুলো যাত্রীপ্রতি বাড়তি ৩০-৫০ টাকা আদায় করছেন। এই যাচ্ছেতাই পরিস্থিতিটা গেড়ে বসার আগে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা আসবে না কেন? শুধু সিএনজি অটোরিকশা নয়, বাসগুলোতেও পরিস্থিতি খারাপ। ভাড়া বাড়ছে, যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নিত্যই যাত্রীদের সঙ্গে চালক ও সহকারীদের বচসা বাধছে। এখানেও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষগুলোর কী নির্দেশনা তা স্পষ্ট নয়। আমরা গ্যাসের দাম বাড়িয়ে যদি কর্তব্য সেরে ফেলি তবে তা কি গ্রহণযোগ্য হবে? গ্যাসের দাম বাড়ানোয় কেউ মিছিল করছে না, হরতাল ডাকছে না, প্রতিবাদের ডাক দিচ্ছে না। দেবে বলেও মনে হচ্ছে না। যে কোনো কর্তৃপক্ষের জন্য এটি সুখকর সংবাদ। কিন্তু তাই বলে কর্তৃপক্ষগুলো আর কোনো দায়িত্ব পালন করবে না? যদি বাস মালিক সমিতির প্রতি নির্দেশনা না আসে, যদি সিএনজি মালিক সমিতির প্রতি পালনীয় বার্তা না পেঁৗছায় তবে তো তারা নাগরিকদের উত্ত্যক্ত করে প্রতিক্রিয়া তৈরি করে ফেলবে। তাই গ্যাসের দাম বাড়ার পর গণপরিবহন ব্যবস্থায় এর কী ফল পড়ল তা সরকারের নজরদারিতে থাকা উচিত। আর গণপরিবহন ব্যবস্থাটিকে উন্নত করার কিছু ব্যবস্থা এখনই নেওয়া উচিত। যে শহরে পথচলার কষ্টই সবচেয়ে বড়, সেখানে উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য মহত্তর কোনো প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ অন্তত নাগরিকদের তরফে কীভাবে আশা করা সম্ভব? আমাদের জীবন ও কর্মের স্থবিরতা দূর করতে সবার আগে রাস্তার গতি বাড়াতে হবে, এর বিকল্প নেই।
 

No comments

Powered by Blogger.