মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে গোসল করতে নেমে তিন কিশোরের মৃত্যু

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে গোসল করতে নেমে সলিল-সমাধি হয়েছে তিন কিশোরের। জলপ্রপাতের কুণ্ডের পানিতে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ ঘণ্টা পর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট থেকে ডুবুরি এসে তাদের লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাণ হারানো তিনজন হলো ঢাকার মিরপুরের বাবুল মিয়ার ছেলে আশিক আহমদ (১৮), সিকান্দর আলীর ছেলে মুন্না (১৪) ও ইকবাল কবিরের ছেলে শাহরিয়ার হোসেন (১৬)।


জানা গেছে, আশিক মিরপুর কমার্স কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। আর মুন্না বায়তুল আমান মাদ্রাসায় নবম শ্রেণী ও শাহরিয়ার মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র।
পুলিশ, বন বিভাগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আশিক, মুন্না ও শাহরিয়ারসহ সাত বন্ধু গতকাল ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে বেড়াতে আসে। দুপুর ১টার দিকে তারা সবাই জলপ্রপাতের কুণ্ডে সাঁতার কাটতে নামে। এ সময় আশিক, মুন্না ও শাহরিয়ার কুণ্ডের গর্তের ভেতর ঢুকে নিখোঁজ হয়ে যায়। তাদের সঙ্গী কবির, শাওন, রকিব ও রিফাত পানি থেকে ওপরে উঠে আসে। ঘটনা জানাজানির পর প্রথমদিকে স্থানীয় ডুবুরিরা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে ঘটনার পাঁচ ঘণ্টা পর সিলেট থেকে ডুবুরি এসে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদের লাশ পানি থেকে উদ্ধার করেন। বন্ধুদের প্রাণহীন দেহ দেখে এ সময় সঙ্গী সহপাঠী ও পর্যটকদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়ে বন্ধুরা।
প্রাণ হারানো কিশোরদের বন্ধু শাওন ও রিফাত জানায়, সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা বুধবার ঢাকা থেকে সিলেটে আসে। হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারতসহ সিলেটের বিভিন্ন নৈসর্গিক স্থান দেখার পর শুক্রবার সকালে তারা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে বেড়াতে আসে।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানসহ প্রশাসন ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বড়লেখা থানার এসআই মাসুদুর রহমান জানান, লাশগুলো থানায় রাখা হয়েছে। অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.