চ্যাম্পিয়নস লিগ সেই চেলসিরই

ভাগ্যবিধাতা চেলসির পক্ষেই ছিলেন আগাগোড়া। নয়তো পুরো খেলায় নিরঙ্কুশ আধিপত্য থাকার পরও বায়ার্ন মিউনিখ ম্যাচটি জিততে পারবে না কেন? ৮৩ মিনিটে মুলারের গোলে এগিয়ে গিয়েও সেই লিড ধরে রাখতে পারবে না কেন? ফুটবলে কেবল ভালো খেললেই যে জিতে মাঠ ছাড়া যায় না,


কাল আলিয়ানজ অ্যারিনাতে তা আবার প্রমাণিত হয়ে গেল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ষষ্ঠ স্থানে থাকা চেলসি শেষ পর্যন্ত ভাগ্যদেবীর হাত ধরেই চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন চ্যাম্পিয়ন। চার বছর আগের মস্কোর সেই দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে দিদিয়ের দ্রগবাই চেলসির হিরো।
কু-ডাকটা আগেই শোনা গিয়েছিল। ১৯৬৫ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ইন্টার মিলান সর্বশেষ জয় পেয়েছিল নিজেদের মাঠে। ইতিহাস বরাবরই বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ছিল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের ওপর ছিল ইয়ুপ হেইঙ্কসের বাহিনীর অগাধ আস্থা। ইতিহাসের অবিচারকে এক পাশে সরিয়ে রেখে, নিজেদের মাঠে, নিজেদের সমর্থকদের সামনে তাই প্রতিপক্ষের ওপর ভালোভাবেই ঝাঁপিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। খেলার ৩ মিনিটের মাথাতেই এগিয়ে যেতে পারত তারা। কিন্তু বাস্তেইন শোয়েনস্টেইগারের শট গ্যারি ক্যাহিলের শরীরে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে দুর্ভাগ্যের প্রথম ছোঁয়া পায় বায়ার্ন মিউনিখ। অষ্টম মিনিটে আরিয়েন রোবেন ডান প্রান্ত দিয়ে ঢুকে গোলে শট নিলে তা বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ২১ মিনিটের সময় সেই রোবেনই চেলসি ডিফেন্ডার হোসে বসিংওয়াকে ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে গোলে আবার শট নেন। কিন্তু এবার তাঁর নিচু শটটি গোলরক্ষক পিওতর চেক পা লাগিয়ে ফিরিয়ে দেন। ৩৬ মিনিটে ফ্রাঙ্ক রিবেরি ও ডিয়েগো কনটেনটো নিজেদের মধ্যে বল আদান-প্রদান করে বাঁ প্রান্ত দিয়ে চেলসির রক্ষণব্যুহে ঢুকে পড়েন। এ সময় কনটেনটো রিবেরির কাছ থেকে বল নিয়ে দারুণ এক ক্রস করেন। কিন্তু সেই ক্রস থেকে মুলারের ভলি বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এর পরপরই বায়ার্নের মারিও গোমেজের দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। প্রথমার্ধের পুরো সময়জুড়েই বায়ার্নের একাধিপত্যে কোণঠাসা হয়ে ছিল চেলসি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো পরীক্ষার সম্মুখীন হন বায়ার্ন গোলরক্ষক ন্যয়ার। ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের কাছ থেকে বল পেয়ে নেওয়া সুলেমান কালুর শট ফেরান ন্যয়ার।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচে একই ধারা বজায় থাকে। বায়ার্ন একের পর এক আক্রমণ শাণিয়ে বিপর্যস্ত করে দেয় চেলসির রক্ষণব্যুহকে। খেলার ৫৪ মিনিটে রিবেরির একটি গোল অফসাইডের অজুহাতে বাতিল করে দেন রেফারি। খেলার ৮৩ মিনিটে মুলারের গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। ৮৮ মিনিটে দিদিয়ের দ্রগবা চেলসিকে ম্যাচে ফেরালে খেলাটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের চার মিনিটের সময় ডি-বক্সের মধ্যে অযথাই রিবেরিকে ফেলে দেন দ্রগবা। তবে প্রাপ্ত পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আরিয়েন রোবেন। ১০৮ মিনিটে ওভিচের শট বারে লেগে ফিরে এলে চ্যাম্পিয়নস লিগ নিজের ভাগ্য শঁপে দেয় টাইব্রেকার লটারির হাতে।
টাইব্রেকারে বায়ার্নের শোয়েনস্টেইগার ও ইভিকা ওভিচের শট ফিরিয়ে দেন চেলসি গোলরক্ষক চেক। চেলসির হুয়ান মাতার শট ফিরিয়ে দেন ন্যয়ার। শেষ শটটি দিদিয়ের দ্রগবা জালে পাঠালে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় চেলসির। অবসান ঘটে দীর্ঘ প্রতীক্ষার। রয়টার্স।

No comments

Powered by Blogger.