জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির নমুনা!-গফরগাঁওয়ে সাংসদের কাণ্ড

একজন জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার ভিত্তি তাঁর ভোটার। সেই ভোটারের প্রতি শক্তি প্রদর্শনের মন্দ নজির স্থাপন করলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংসদ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ। গতকাল সহযোগী একটি পত্রিকার প্রথম পাতায় গুলি ছোড়া অবস্থায় তাঁর যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে,


তা দেখে যেকোনো নাগরিকই বিচলিত হবেন। যুক্তি দেখানো হতে পারে, তিনি আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি কখন জনরোষের কবলে পড়েন? তিন বছর আগে যেই ভোটাররা তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছিলেন, তাঁরা কেন বিক্ষুব্ধ হলেন, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সাংসদের দাবি, তিনি ঢাকা থেকে গফরগাঁওয়ে যাওয়ার পথে শুক্রবার সন্ধ্যায় কান্দিপাড়ায় একটি পথসভা করেন এবং পথসভা শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে হত্যার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। তিনি ফাঁকা গুলি ছুড়লে তারা পালিয়ে যায়। তারা যে দুষ্কৃতকারী ছিল না তার প্রমাণ কান্দিপাড়ায় সাংসদের বিপক্ষে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন। এর আগে সতরবাড়ি বাজারে সাংসদের সমর্থকেরা লংগাইর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এম হককে কুপিয়ে আহত করেন।
পত্রিকায় যেসব খবর ছাপা হয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উপদলীয় কোন্দল থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। একদিকে সাংসদ গিয়াস উদ্দিন, অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান ফাহমি গোলন্দাজ। দুজনই আওয়ামী লীগের নেতা। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের অভিযোগ, সাংসদ স্থানীয় উন্নয়নকাজ, ঠিকাদারি, ভিজিএফ কার্ড বিতরণসহ সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হন। নতুন থানা পাগলার স্থান নির্বাচন নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ চরমে ওঠে, শুক্রবারের অঘটন ছিল তারই বহিঃপ্রকাশ। এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে নতুন থানার স্থান বাছাই করলে এই সমস্যা হতো না।
কেবল গিয়াস উদ্দিন নন, ইদানীং অনেক সাংসদকেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেখা যাচ্ছে। জনমতের তোয়াক্কা না করে তাঁরা গায়ের জোরে সবকিছু করতে চান। হামলার আশঙ্কা থাকলে সাংসদের উচিত ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া। তিনি এভাবে নিজের ভোটারদের প্রতি গুলি ছুড়তে পারেন না, এমনকি তা ফাঁকা গুলি হলেও।
আমরা সাংসদ গিয়াস উদ্দিনের গুলি ছোড়ার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। সেই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে এলাকাবাসী যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এসব অভিযোগ বিরোধী দলের কেউ আনেননি, এনেছেন নিজ দলের নেতা-কর্মীরাই। সাংসদ বলেই তিনি সবকিছু গায়ের জোরে করতে পারেন না। গফরগাঁওয়ে জনপ্রতিনিধিদের ‘সুখ্যাতি’ বরাবরই ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, ‘নবীন’ জনপ্রতিনিধিও সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির প্রতি নজর দেবেন আশা করি। আইনপ্রণেতারাই যদি এভাবে আইন ভাঙেন, তাহলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে কীভাবে?

No comments

Powered by Blogger.