নগরে বাড়ছে কিশোর অপরাধ by একরামুল হক

স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীসহ কিশোররা অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি নগরের কলেজ সড়কের দেব পাহাড়ের একটি ফ্ল্যাটে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এতে ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা জনৈক চিকিৎসকের নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, হাতঘড়ি, ল্যাপটপসহ মোট ২৩ লাখ টাকার মালামাল খোয়া যায়।


এই চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছয় শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ ও কারাগার সূত্র জানায়, কিশোর অপরাধের মাত্রা কমছে না। বরং বেড়েই চলেছে। তবে বেশির ভাগ ঘটনায় কিশোররা দ্রুত জামিন পেয়ে যাচ্ছে। এ কারণে চট্টগ্রাম কারাগারে কিশোর অপরাধীর সংখ্যা কম।
কারাগার সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম কারাগারে আট কিশোর বন্দী ছিল, যাদের মধ্যে একজন মিয়ানমারের নাগরিক। অন্যদের মধ্যে একজন অস্ত্র আইনে করা মামলার আসামি। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলার আসামিও রয়েছে।
দেব পাহাড়ের ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীরা আরও কয়েকটি অভিজাত বাসায় চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এই কিশোরদের মা-বাবারা অন্ধকারে ছিলেন এতদিন। তাঁরা সন্তানদের অপকর্ম সম্পর্কে জানতেন না, কিংবা জানার চেষ্টা করেননি। অথচ এরা চুরির টাকা ও মালামাল ভাগবাঁটোয়ারা করে নিজ নিজ বাসায় নিয়ে যায়।
উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমেনা বেগম এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্কুল ও কলেজপড়ুয়া ছয় শিক্ষার্থী সচ্ছল পরিবারের সন্তান। তারা চুরির টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করে মা-বাবার হাতে তুলে দিত। বলত, কোচিং সেন্টার থেকে এই টাকা কমিশন হিসেবে পাওয়া গেছে।’
আমেনা বেগম আরও বলেন, ‘আমরা ছয় কিশোরকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করি। কারণ, নগরের জয়নগরসহ আরও কয়েকটি অভিজাত বাসায় চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের তির এই ছয় ছাত্রের দিকে। আদালত রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেননি।’
গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার, পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা, পাঁচটি বিদেশি হাতঘড়ি, একটি ল্যাপটপ, একটি ভিসা কার্ড, চুরির টাকায় কেনা মুঠোফোনসেট ও চুরির কাজে ব্যবহূত মাস্টার চাবি উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন গৃহকর্তাসহ পরিবারের সদস্যরা বিয়ের অনুষ্ঠানে বাইরে ছিলেন। এ সুযোগে শিক্ষার্থীরা টাকা ও মালামাল চুরি করে।
উপপুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, ‘ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন ভাগের চার লাখ টাকা তার বাবার হাতে তুলে দেয়। এই টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। বাবা যদি এমন হন তবে আমাদের সমাজটা তো নষ্ট হয়ে যাবে।’
এদিকে চট্টগ্রাম কারাগারে আটক আট বন্দীর বয়স ১৮ বছরের নিচে। এদের মধ্যে আজিজ খান নামের একজন মিয়ানমারের নাগরিক বলে জানা গেছে। আনোয়ারা থানার মামলায় গত বছরের ৪ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কারাগার সূত্র জানায়, শুক্কুর নামের ১৬ বছর বয়সের এক কিশোর অস্ত্র আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়। খুলশী থানার পুলিশ গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি এই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতি এলাকায়। একইভাবে ছিনতাইয়ের মামলায় মোখলেস (১৬) গত বছরের ১০ মে নগরের বায়েজিদ থেকে এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ইউসুফ (১৬) ডবলমুরিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়।

No comments

Powered by Blogger.