এএইচআরসির বিবৃতি-রাষ্ট্রপতির সাজা মওকুফ রাজনৈতিক খেলা হতে পারে না

রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সম্প্রতি দুটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির সাজা আংশিক মওকুফ করায় সমালোচনা করেছে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন (এএইচআরসি)। সংস্থাটি বলেছে, এভাবে সাজা মওকুফ রাজনৈতিক খেলা হওয়া উচিত নয়।


লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের নেতা আবু তাহেরের ছেলে এ এইচ এম বিপ্লব দুটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি তাঁর ক্ষমতাবলে আবার বিপ্লবের সাজার মেয়াদ কমিয়ে ১০ বছর করেন। এর আগে গত বছর একটি হত্যা মামলায় বিপ্লবের ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করেন রাষ্ট্রপতি।
এএইচআরসি গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, রাষ্ট্রপতি পর পর দুবার একই ব্যক্তির সাজা কমিয়ে দিলেও এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কেননা, তিনি ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার ছেলে। অভিযোগ আছে, তাঁরাই আওয়ামী লীগের ‘রাজনৈতিক বিষয়’ নিয়ন্ত্রণ করেন।
ইচ্ছা করলে যে কারও সাজা মওকুফের যে অসাধারণ ক্ষমতা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া আছে, সেই ক্ষমতা ব্যবহারের কোনো নীতি আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এএইচআরসি। সংস্থাটি বলেছে, সাজা মওকুফের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়া আর কোনো নীতি আদৌ নেই এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতিও এর ব্যতিক্রম নন।
এএইচআরসি বলেছে, এ ধরনের ভয়ংকর অপরাধীকেও যদি রাষ্ট্রপতি এভাবে বাছবিচারহীন ক্ষমা করেন, তাহলে দেশের বিচার বিভাগের কর্তৃত্ব খর্ব হয়। এতে শুধু বিচার বিভাগ নয়, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের, যেমন: পুলিশ, গোয়েন্দা ও আইনজীবীদের মনোবল ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ ধরনের ক্ষমার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে হলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনকে সমর্থন করা হয়।

No comments

Powered by Blogger.