পবিত্র কোরআনের আলো-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির ভালোবাসা মানুষের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ

৭. ইয়া-আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ লা-তাখূনূল্লা-হা ওয়ার্ রাছূলা ওয়াতাখূনূ আমা-না-তিকুম ওয়া আনতুম তা'লামূন।
২৮. ওয়া'লামূ আন্নামা আমওয়া-লুকুম ওয়া আওলা-দুকুম ফিতনাহ্; ওয়া আন্নাল্লা-হা ই'নদাহূ আজরুন আ'যীম।২৯. ইয়া-আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ ইন্ তাত্তাক্বূল্লা-হা ইয়াজআ'ল্ লাকুম্ ফুরক্বা-নান ওয়া ইউকাফ্ফির আ'নকুম ছায়্যিআ-তিকুম ওয়া ইয়াগ্ফির্ লাকুম; ওয়াল্লা-হু যুল ফাদ্ব্লিল্ আ'যীম।


৩০. ওয়া ইয ইয়াম্কুরু বিকাল্লাযীনা কাফারূ লিইউছবিতূকা আও ইয়াক্বতুলূকা আও ইউখ্রিজূকা; ওয়া ইয়াম্কুরূনা ওয়া ইয়ামকুরুল্লা-হা্; ওয়াল্লা-হু খাইরুল মা-কিরীন।
৩১. ওয়া ইযা তুতলা-আ'লাইহিম আয়া-তুনা ক্বা-লূ ক্বাদ ছামি'না-লাও নাশা-উ লাক্বুলনা-মিছলা হা-যা; ইন হা-যা ইল্লা আছা-ত্বীরুল আউওয়্যালীন।
[সুরা : আল-আনফাল, আয়াত : ২৭-৩১]

অনুবাদ : ২৭. হে মুমিনরা, তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা কোরো না এবং জেনেশুনে নিজেদের আমানতের খেয়ানত কোরো না।
২৮. জেনে রেখো, তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। (এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে) তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে অনেক বড় পুরস্কার রয়েছে।
২৯. হে মুমিনরা, তোমরা যদি আল্লাহর সঙ্গে দায়িত্বনিষ্ঠতার নীতি অবলম্বন করো, তবে তিনি তোমাদের সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার সামর্থ্য দান করবেন। তিনি তোমাদের পাপ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমার আওতায় নিয়ে আসবেন। আল্লাহ মহা বৈভবের মালিক।
৩০. (হে নবী, সেই সময়কে স্মরণ করুন) যখন কাফিররা ষড়যন্ত্র করছিল আপনাকে বন্দি করবে, অথবা হত্যা করবে, অথবা দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে। তারা তো ষড়যন্ত্র করছিল (এর জবাবে), আল্লাহও কৌশল প্রয়োগ করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন সর্বোৎকৃষ্ট কুশলী।
৩১. তাদের সামনে যখন আমার আয়াতগুলো পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, শুনলাম তো, ইচ্ছা করলে আমরাও এ রকম কথা বলতে পারি। এটা (কোরআন) তো প্রাচীনকালের লোকদের গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।

ব্যাখ্যা : ২৭ নম্বর আয়াতটির শানে নুজুল হলো, কোনো কোনো সাহাবি রাসুল (সা.)-এর দরবারে আলোচিত নানা কৌশলগত বিষয় বাইরে প্রকাশ করে দিত। মুনাফিকরা এসব কথা জানতে পেরে কাফিরদের কাছে পেঁৗছে দিত এবং তাদের সাবধান করে দিত। তারা ভেবে দেখত না যে এটা বিরাট নির্বুদ্ধিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতাও। এ সম্বন্ধে এই আয়াতটি নাজিল হয়।
২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি মানুষের জন্য পরীক্ষা'। সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির ভালোবাসা মানুষের চিরন্তন স্বভাব। যৌক্তিক সীমার মধ্যে থাকলে এর মধ্যে দোষণীয় কিছু নেই। কিন্তু পরীক্ষা এভাবে যে এ ভালোবাসা আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করতে উৎসাহ জোগায় কি না সেটা লক্ষ করতে হবে। সম্পদ ও সন্তানের ভালোবাসা যদি আল্লাহর আনুগত্যের সঙ্গে হয়, তবে সেটা কেবল জায়েজই নয়; বরং সওয়াবের কাজ। পক্ষান্তরে এ ভালোবাসা যদি মানুষকে অন্যায়-অসত্যের পথে নিয়ে যায়, তবেই পাপের কারণ হয়।
২৯ নম্বর আয়াতে তাকওয়া ও দায়িত্বনিষ্ঠতার কথা বলা হয়েছে, তাকওয়া এমন এক গুণ যা মানুষকে সত্য-মিথ্যা ও ন্যায়-অন্যায় পরখ করার ক্ষমতা দান করে।
৩০ নম্বর আয়াতে নবী (সা.)-এর হিজরতের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। মক্কার কাফিররা যখন দেখল, ইসলাম অতি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে, তখন তারা এক পরামর্শ সভা ডেকে কিছু প্রস্তাব গ্রহণ করল। এর মধ্যে ছিল তাঁকে (নবীকে) গ্রেপ্তার করা, হত্যা করা বা নির্বাসিত করা। শেষ পর্যন্ত হত্যা করার সিদ্ধান্তই গৃহীত হয়েছিল। তখন আল্লাহ তায়ালা ওহির মাধ্যমে নবীকে এ ষড়যন্ত্রের বিষয় অবগত করে প্রাণে বাঁচার পথ বাতলে দিয়েছিলেন।
৩১ নম্বর আয়াতের শানে নুজুল এ রকম_নাযার ইবনে হারেছ নামে এক ব্যক্তি বাণিজ্য উপলক্ষে পারস্য দেশে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বীর রুস্তম ও ইস্কান্দারিয়ার কিসসার বই কিনে এনে আরবিতে অনুবাদ করেছিলেন। সেটা পড়ে কাফিররা বলত, এ বইটা মুহাম্মদের (সা.) কোরআনের চেয়ে অনেক মজার। এ প্রসঙ্গে আয়াতটি নাজিল হয়।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments

Powered by Blogger.