লোকসান দিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা-যশোরের রাজারহাটে ১০ কোটি টাকার চামড়া কেনাবেচা by ফখরে আলম,

ক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট যশোরের রাজারহাটে গতকাল শনিবার প্রায় ১০ কোটি টাকার কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। তবে গতবারের চেয়ে এবার কম দামে চামড়া বিক্রি হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ ছাড়া যেসব এতিমখানা ও মাদ্রাসা কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির টাকার ওপর নির্ভরশীল, সেসব প্রতিষ্ঠানের আয় এবার অনেক কম হয়েছে।যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল জানান, হাটে ৩০ হাজার গরু ও ২৫ হাজার ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে। গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতি ফুট ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।


সে হিসাবে সব মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার চামড়া বিক্রি হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, গত কোরবানির ঈদে চামড়া বিক্রি হয়েছিল প্রতি ফুট ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকার ট্যানারি মালিকরা পরিকল্পিতভাবে চামড়ার দর নির্ধারণ না করে দেওয়ায় দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। কোরবানির আগে সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।
হাটে কথা হয় নড়াইলের চামড়া ব্যবসায়ী নির্মল দাসের সঙ্গে। তিনি ৬০টি গরুর চামড়া নিয়ে এসেছেন। এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এ চামড়া তিনি কিনেছিলেন। চামড়া বিক্রি করে তাঁর লোকসান হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা। তিনি জানান, লাভের জন্য অনেক আশা নিয়ে চামড়া কিনেছিলাম; কিন্তু চামড়া বিক্রি করে লাভের বদলে লোকসানই হয়ে গেল। মণিরামপুরের মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা এবার ৪১৮টি চামড়া দান হিসেবে পেয়েছে। গতকাল হাটে ওই চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতিটি এক হাজার ৩০০ টাকায়। গত বছর একই চামড়া বিক্রি হয়েছিল এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। মাদ্রাসার সুপার জানান, চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় আমাদের আয়ও কমে গেছে।

No comments

Powered by Blogger.